খোলা হবে হরমুজ প্রণালি

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেবেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:১৭, ২৪ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেবেন ট্রাম্প

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ চুক্তির ব্যাপারে অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে আছেন তারা।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর তিন পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র যুদ্ধ। যা টানা ৪০ দিন চলে। যুদ্ধ শুরুর পরই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়।

ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে এমন তথ্য জানানোর পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের একটি সূত্র বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজকে জানায়, হরমুজ ইরানের ব্যবস্থাপনার মধ্যেই থাকবে। আর ট্রাম্প এ নিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছে সেটিকে সূত্রটি ‘অপূর্ণাঙ্গ এবং অবাস্তব বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমকে ইরানের অপর তিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে… যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। অপরদিকে ইরান কোনো টোল বা ফি ছাড়া হরমুজে জাহাজ চলাচল করতে দেবে।

তারা আরও বলেছেন, এ চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে। যারমধ্যে লেবাননও থাকবে।

অপরদিকে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের জব্দ করে রাখা অর্থের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ট্রাম্প তার নতুন বক্তব্যে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। ইরান জানিয়েছে, বর্তমান আলোচনায় ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন ট্রাম্প। সম্ভাব্য এ চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া চুক্তিতে কি কি থাকবে সেটি জানতে তারা এ মুহূর্তে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। যাদের প্রায় সবাই ট্রাম্পকে চুক্তি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার আজ কথা বলার কথা আছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

img

ইরান আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে প্রায় বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৯:৫১, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:২০, ২৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় ইসরায়েলকে প্রায় পুরোপুরিভাবে বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে তারা এ তথ্য জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের আলোচনাগুলোতে ইসরায়েল মোটেও যুক্ত ছিল না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি তারা আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানতে পারে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থা বদলের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু দুই নেতার সম্পর্কের বর্তমান পরিবর্তনকে নিউইয়র্ক টাইমস উড়োজাহাজের ‘ককপিট (পাইলটের আসন) থেকে ইকোনমি ক্লাসে (পেছনের সারি) পাঠিয়ে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছে। যা ইসরায়েলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

এদিকে আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সংকটের গুঞ্জনকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সুদৃঢ়। 

নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলছেন, আসন্ন চুক্তিতে ইসরায়েলের লক্ষ্য বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে দেশটির ভেতরেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য চুক্তির খসড়াটি দেখেছেন। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ, ইরান থেকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পরমাণু প্রকল্পকে চিরতরে বন্ধ করার মতো ইসরায়েলি স্বার্থ ও উদ্বেগের জায়গাগুলো খসড়ায় গুরুত্ব পায়নি।

নিদা ইব্রাহিমের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মুখ না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, সংবেদনশীল সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ডিলিংসের’ ক্ষেত্রে তাঁকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পা ফেলতে হচ্ছে। ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আর নেতানিয়াহু গুরুত্বপূর্ণ সেই নির্বাচনের আগে জনগণকে ইরান যুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চুক্তিতে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা না হলে সেটি নেতানিয়াহুর জন্য বড় পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক কর্মকর্তারা লেবানন নিয়েও উদ্বেগে আছেন। কারণ, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

সম্ভাব্য চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। চ্যানেল-১২ এর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এখনই পিছু হটার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু শঙ্কা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর