প্রকাশিত :  ০৯:০৩, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ক্ষমতায় ফিরলে অভিবাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাবেন জনসন

ক্ষমতায় ফিরলে অভিবাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাবেন জনসন

জনমত ডেস্ক: নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় ফিরলে ব্রিটেনে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনা করছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন৷ এদিকে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের জন্য তাঁর উপর চাপ বাড়ছে৷

ব্রিটেনের অভিবাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে এতকাল ব্রিটেনকে ইইউ নাগরিকদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছিল৷ ক্ষমতায় ফিরে ব্রেক্সিট কার্যকর করে জনসন বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য ব্রিটেনে অভিবাসনের সমান সুযোগ করে দিতে চান৷ সে ক্ষেত্রে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে যেসব বিদেশি ব্রিটেনে বসবাস করার অনুমতি পাবেন, সামাজিক ভাতা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ নাগরিকদের মতো ছাড় পেতে তাঁদের পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে৷

আগামী ১২ই ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের প্রচারপর্ব বেশ জমে উঠেছে৷ জনমত সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের টোরি দল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার দলের তুলনায় দশ থেকে সতেরো শতাংশ এগিয়ে রয়েছে৷ চলতি সপ্তাহেই দুই দল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতাহার প্রকাশ করতে চলেছে৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জনসন ও লেবার নেতা জেরেমি কর্বিন প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হবেন৷

এবারের নির্বাচনের মূল বিষয় অবশ্যই ব্রেক্সিট৷ সানডে টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বরিস জনসন ক্ষমতায় ফিরলে অবিলম্বে ব্রেক্সিট কার্যকর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন৷ প্রথমত সংসদে অচলাবস্থা এড়াতে তিনি এমন সব প্রার্থী মনোনয়ন করেছেন, যাঁরা  তাঁর ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে প্রস্তুত৷ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে জনসন সময় নষ্ট না করে ২৩শে ডিসেম্বর সংসদে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বিতর্কের পরিকল্পনা করেছেন৷ সেক্ষেত্রে আর কোনো বিলম্ব না করে ৩১শে জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে৷

অন্যদিকে লেবার নেতা কর্বিন তাঁর দলের পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি৷ তিনি শুধু জানিয়েছেন, লেবার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে কোনো অবস্থায় জোট সরকার গঠন করবে না৷ স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের শর্তে জাতীয়তাবাদী এসএনপি দলের সঙ্গেও বোঝাপড়া করবে না তাঁর দল৷ ব্রেক্সিট সংক্রান্ত নীতি দলের নির্বাচনি ইশতাহারে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন কর্বিন৷

জনমত সমীক্ষায় দল এগিয়ে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী জনসন একটি বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন৷ ব্রিটিশ রাজনীতিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না করায় তিনি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন৷ ফলে আগামী মাসের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে৷ ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোটের ক্ষেত্রে রাশিয়া সত্যি হস্তক্ষেপ করে থাকলে সাধারণ নির্বাচনেও একই প্রচেষ্টা দেখা দেয়ার আশঙ্কা দূর হচ্ছে না৷ এ বিষয় সংশয় দূর করতে বিরোধী লেবার দল জনসনের উপর চাপ সৃষ্টি করছে৷ রাশিয়া টোরি দলকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাঁদা দিচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে৷ নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্র্যান্ডন লুইস অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তাঁর মতে, দলের চাঁদার সব হিসেব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছে৷ একমাত্র ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছ থেকে টোরি দল চাঁদা গ্রহণ করে বলে দাবি করেছেন তিনি৷ উল্লেখ্য, জনসন নির্বাচনের পর সেই রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন৷



Leave Your Comments


নির্বাচন এর আরও খবর