img

রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল ব্রেক্সিট গণভোটেও

প্রকাশিত :  ১৮:২০, ২১ নভেম্বর ২০১৯

রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল ব্রেক্সিট গণভোটেও

জনমত ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ এখন পুরোনো। এখন এই একই ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যেও। বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালে হওয়া ব্রেক্সিট গণভোটেও হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া। ব্রিটিশ রাজনীতিতে রুশ প্রভাব নিয়ে করা একটি পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটির নেওয়া সাক্ষ্যে অন্তত এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ফাঁস হলে এ তথ্য বাইরে আসে।

আজ বুধবার এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, ব্রিটিশ প্রশাসনও রুশ প্রভাবের বাইরে নয়। ব্রিটিশ প্রশাসনের ওপর রাশিয়ার গভীর প্রভাবের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির সরকার। ব্রিটিশ রাজনীতিতে রুশ অনুপ্রবেশ নিয়ে করা পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটির গৃহীত এক সাক্ষ্যে এমন কথা জানা গেছে।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, বহুদলীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি তদন্ত চলাকালে জানতে পারে যে, কূটনীতিক, আইনজীবী, আইনপ্রণেতা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাদে রাশিয়া তার জাল বিস্তার করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে ওই প্রতিবেদনের যতটুকু তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাতেই ব্রিটিশ রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে।

অবশ্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি এর আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা টাইম। ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে টাইম জানায়, ব্রিটিশ রাজনীতিতে রুশ হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় গিয়ে চেপেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘাড়ে। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করাটা জরুরি ছিল বলে মনে করছেন রাজনীতিকেরা। কারণ, রুশ হস্তক্ষেপের শঙ্কা ওই নির্বাচনেও থেকে যাচ্ছে।

অজ্ঞাত সূত্রের কথা উল্লেখ করে টাইমস অব লন্ডন জানিয়েছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে গৃহীত গণভোটে রুশ হস্তক্ষেপের প্রভাব পড়েছিল, যদিও তার মাত্রা ‘অপরিমাপযোগ্য’। সে সময় রুশ সাইটের মাধ্যমে বেশ কিছু তথ্য প্রচার করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গণভোটে এসব তথ্যের সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ ও রুশ হস্তক্ষেপের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনী রীতিমতো ব্যর্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে বিরোধী লেবার পার্টির পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র এমিলি থর্নবেরি বলেন, ফাঁস হওয়া তথ্য অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে, যার সুরাহা হওয়া উচিত। এই প্রতিবেদন ঘিরে যেসব সন্দেহ ও গুঞ্জনের জন্ম হচ্ছে, তা নিরসনে দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা উচিত বরিস জনসনের। যদি তা না করা হয়, মানুষ প্রশ্ন করতেই থাকবে যে, ‘ব্রিটিশ মানুষের কাছ থেকে তিনি কী লুকাচ্ছেন এবং তা কেন?’

এদিকে ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে বরিস সরকার বলছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তা আরও পর্যালোচনা করা জরুরি। এটি নির্বাচনের পর প্রকাশ করা হবে বলেও বলা হচ্ছে।

সমালোচকেরা বলছেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি রাশিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের তহবিল পেয়েছে বলেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হচ্ছে না। আসছে নির্বাচনে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য লড়বে, যাতে তারা পার্লামেন্টের মাধ্যমে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে নিতে পারে।

তবে নিরাপত্তামন্ত্রী ব্র্যান্ডন লুইস এ ধরনের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

ব্রেক্সিট এর আরও খবর

img

অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্টেলার আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৭ জানুয়ারী ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লন্ডনের আদালতে উইকিলিকস-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার জীবনসঙ্গী স্টেলা মরিস। বুধবার (৬ জানুয়ারি) অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন ব্রিটিশ আদালত। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। সোমবার (৪ জানুয়ারি) লন্ডনের একটি আদালতে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মামলার রায় দেওয়া হয়। বলা হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহের মধ্যে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে তারা।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) অ্যাসাঞ্জের জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেন তার জীবনসঙ্গী স্টেলা মরিস। জামিন খারিজ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি প্রচণ্ড হতাশার। জুলিয়ানের বেলমার্শ কারাগারে থাকা ঠিক হবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আমি আইন বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেও আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা জুলিয়ানকে ক্ষমা করে দেয়।’

এর আগে গত এপ্রিলেও অ্যাসাঞ্জের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন স্টেলা মরিস। জামিন আবেদনের সঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে কীভাবে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল তাও প্রকাশ করেছিলেন এ আইন গবেষক। মরিস জানান, অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে তার দেখা হয় ২০১১ সালে। তখন তাকে সুইডিশ আইন তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করতে বলা হয়েছিল। মরিস বিবৃতিতে লিখেছিলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জুলিয়ান ও আমার মধ্যে ভালো রকমের বুদ্ধিভিত্তিক ও আবেগী বন্ধন গড়ে ওঠে। আমরা একে অপরের সেরা বন্ধুতে পরিণত হই।’

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বন্ধুত্ব জোরালো হতে থাকে উল্লেখ করে মরিস জানান, তাদের দুই জনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে। লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে থাকার সময় তাদের দুটি সন্তানও হয়। তাদের একজনের নাম গ্যাব্রিয়েল, অপরজনের নাম ম্যাক্স। অ্যাসাঞ্জ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা থেকে সন্তানদের আড়াল রাখতে চেয়েছিলেন বলে তখন জানান এ আইন বিশেষজ্ঞ।

ব্রেক্সিট এর আরও খবর