প্রকাশিত :  ০৮:৫০, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিনহা দুর্নীতিবাজ, ৭১’র শান্তি কমিটির সদস্য: লন্ডনে সাবেক বিচারপতি মানিক

সিনহা দুর্নীতিবাজ, ৭১’র শান্তি কমিটির সদস্য: লন্ডনে সাবেক বিচারপতি মানিক

জনমত ডেস্ক  ।। বাংলাদেশের  সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কর্তৃক প্রকাশিত এ ‘আ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী আইনজীবিরা। তারা মনে করেন রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংবিধান নিয়ে মনগড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে বই প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে, এস কে সিনহার বিচার চেয়ে লন্ডনে সভা করেছে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবিরা।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের একটি কলেজের হল রুমে আয়োজিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সহকর্মী ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি সামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক। আলোচনা সভার আগে তিনি লন্ডন থেকে প্রচারিত টিভিওয়ান নিউজকে (স্কাই ৭৬৪) দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই এই বই। এটি তার আত্মজীবনি হতে পারে না। তিনি এই বই লিখে বিভ্রান্ত চড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, বইটি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হলে দেখা যাবে এই তার আত্ম জীবনি নয় এটি তার ষড়যন্ত্রের সাতকাহন। ষড়যন্ত্র কার বিরুদ্ধে এই মুক্তিযুদ্ধের যে সরকার আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের বিরুদ্ধে।
এটি তিনি করছেন ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনুছ এবং বিএনপির উচকানিতে। কামাল সাহেব কিন্তু আগেও বলেছেন, যখন সিনহা প্রধান বিচারপতি হলেন, তখন কিন্তু বলেছেন যে উনি সিনহাকে বুদ্ধি পরামর্শ দেবেন তাকে পরিচালিত করবেন। সুতরাং দুইটা কিন্তু মিলে যায়। এখন এই বইটি লিখার সময়টা আপনারা দেখবেন, উনি কেন আগে লেখেননি। উনিতো আগেই পদত্যাগ করেছেন, এবং কেনই বা এতো তড়িঘড়ি করে লিখলেন।
বইটা যদি পড়েন তাহলে দেখবেন কত ভুল আছে। প্রুফ রিডিং একেবারেই হয়নি। ইংরেজীতে খুবই দুর্বল, অবশ্য সিনহা বাবু ইংরেজীতে এমনিতেই দূর্বল এবং ব্যাকরণে অনেক ভুল আছে। এগুলোর অর্থ হচ্ছে তড়িঘড়ি করে লিখেছেন।

দুটো কারণে একটি হচ্ছে আগামী নির্বাচন খুব কাছে এবং আরেকটি হচ্ছে নেত্রী (শেখ হাসিনা) জাতিসংঘে গেলেন উনি সম্মাননা পাচ্ছেন এগুলো যেন নেত্রীকে বঞ্চিত করে এই উদ্দেশ্যেই তড়িঘড়ি করে লিখেছে। বইটিতে মিথ্যার ফুলঝুড়িতে ভরা।

মানুষ আত্মজীবনীতে সত্য কথা বলেন কিন্তু উনার এটা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা। এখন কথা হচ্ছে যে এই বই যাদের উস্কানীতে উনি করেছেন তারাতো খুব উৎফুল্ল। এখানে একটি কথা খুবই রেলিভেন্ট- সেটি হলো বইটি লিখার আগেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উনি অত্যন্ত দ্ব্যার্থহীনভাবে একটি কথা বলেছেন যে তাকে মীর কাশেম আলী যুদ্ধাপরাধের দায়ে যার ফাঁসি হয়েছে তার ভাই মীর মাসুম বিরাট অংকের টাকা এই বিচারপতি সিনহাকে দিয়েছে এবং জয়ের কাছে তার প্রমাণও রয়েছে। জয় কিন্তু উদ্ভট কোনো কথা বলেননি প্রমাণ আছে যারা দেখেছে যারা শুনেছে তারা সকলেই এই প্রমাণ।

এখান থেকে দুটো জিনিস পরিষ্কার একটা হলো সেই মীর কাসেম আলীর ভাই তাকে টাকা দিয়েছে এই কথা বলে যে সে যেন সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলে। আর দ্বিতীয় কথা হলো যে মীর কাসেম আলীর পরিবারের সাথে তার আগে থেকেই যোগসূত্র ছিল। কারণ আপনারা দেখেছেন, মীর কাসেম আলীর রায় নিয়ে কিন্তু সে অনেক তালবাহানা করেছে। দুই দুইবার সময় দিয়েছে যে সেই বেঞ্চের অন্যান্য বিচারকরা সময় দিতে চায়নি। তাছাড়া আরো কতগুলো কাহিনী সেগুলোতে সে নিজেই স্বীকার করেছে যেমন সাকার মামলা যখন তার আদালতে তখন তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন যে সাকার পরিবারের সাথে তার দেখা হয়েছে। কারণ সাকার পরিবারের সাথে যে তার দেখা হয়েছে এই কথাগুলো সে যখন আমার সাথে আলাপ করছিল সেই আলাপচারিত কিন্তু রেকর্ড হয়ে যায়।

এরপরে যখন সিনহা সদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে তখন সদেশ রায় সেই রেকর্ড বাজাতে শুরু করলেই সিনহা পরিষ্কার আদালতে কোর্টে স্বীকার করে যে হ্যাঁ সাকার পরিবারের সাথে তার দেখা হয়েছে। যেটা নাকি মস্তবড় অপরাধ।একজন অপরাধীর সাথে বিচারপতির দেখা করা, সেদিনই তার উচিত ছিল পদত্যাগ করা।

সে কোন পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করল, সে এখন উল্টাপাল্টা বলছে, ডিজিএফআই তাকে বাধ্য করেছে, আসলেত তা নয়। এটাত অন রেকর্ড।

তাহলে ঘটনাটা কি ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি মানিক বলেন, আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল মোট ৫জন। যখন মহানমান্য রাস্ট্রপতি অপর ৪ বিচারককে জানালেন, তার বিরুদ্ধে ১২টি সুনিদিস্ট অভিযোগ রয়েছে তথ্য প্রমানসহ, এমনসব তথ্য প্রমান, যেগুলি দেখে অন্যসব বিচারপতি ঠিক করলেন, সিনহা বাবু যদি এর জবাব দিতে না পারেন, তাহলে তারা সিনহা বাবুর সাথে বসবেন না। তারা তখন স্থির করলেন সিনহা বাবুকে জিজ্ঞেস করবেন, সিনহা বাবু যদি এর জবাব দিতে না পারেন তাহলে তারা আর বসবেন না। সিনহা বাবু এর জবাব দিতে পারেননি। তারা আর তার সাথে বসেননি। এ অবস্থায় সিনহা বাবুর পদত্যাগ করা ছাড়া দেশ ত্যাগ ছাড়া কোন উপায় ছিল না।

তাকে কি দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে
না তাকে দেশ ত্যাগে কেউ বাধ্য করেনি। তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। ৪ কোটি টাকার চেক গ্রহনের বিষয়টি দেশের মিডিয়ায় এসেছে। এটি কারো অজানা কথা নয়। এই চেকের পর থেকে কিন্তু দুদক নড়েচড়ে বসে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। দুদক ইতিমধ্যে কয়েকজনকে সনাক্ত করতে পেরেছে। সিনহা বাবুর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারছে তিনি দেশের বাইরে। সিনহা দেশ ত্যাগ করেছে দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত করবে এই ভয়ে। তাকে কিন্তু কেউ দেশ ত্যাগে বাধ্য করেনি।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালেও তিনি সহ হাইকোটের বিচারপতি তখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তৎকালিন রাস্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন তাকেসহ ৩জনকে বঙ্গভবনে ডেকেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ছিল। এরপর দুইজন পদত্যাগ করলেও তিনি করেননি। তিনি কামাল সাহেবের হাতে পায়ে ধরে সে যাত্রায় বেঁচেগেলেন। এরপর থেকেই তিনি কামাল সাহেবের প্রভাবে বিষণভাবে প্রভাবিত।
তিনি ৭১সালে শান্তিকমিটির সদস্য ছিলেন, পাকিস্তান সেনা বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এটি তিনি বলেছেন ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে।

এরপরও কিভাবে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে।

আওয়ামীলীগ হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চ্যাম্পিয়ন দল। একটি সুযোগ এসেছিল একজন অমুসলিমকে প্রধান বিচারপতি বানানোর । আমি যতটুকু জানি প্রধানমন্ত্রীও রাজি ছিলেন না তাকে প্রধান বিচারপতি বানাতে। সকলের চাপে তিনি তা করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন সিনহাবাবু এই পজিশনে গেলে হয়ত তার অতীতের দুর্নীতির ইতিহাস ভুলে যাবেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি।

সভার আয়োজক সলিসিটার হাফিজুর রহমান মিনারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ, সহ সভাপতি এম এ হাশেম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, আইনজীবি এডভোকেট আওসাফুর রহমান, ব্যারিস্টার আলমগীর হোসেন, সুশান্ত দাশা গুপ্ত, সলিসিটার নাজমুল হক, এডভোকেট তাহিদুল ইসলাম বাহার, ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম মঞ্জু, ব্যারিস্টার মহাম্মদ কবিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার আবুল কালাম, সলিসিটার মনিরুজ্জুমান।



Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর