প্রকাশিত :  ১৬:৪৬, ০৫ অক্টোবর ২০১৮

ডিজিটাল মার্কেটিং: ঝুঁকি, সম্ভাবনা

 ডিজিটাল মার্কেটিং: ঝুঁকি, সম্ভাবনা

জনমত রিপোর্ট ।। বিপনণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের শীর্ষ দুই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠান গুগল আর ফেইসবুককে যেতে ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে নানা অভিযোগ আর কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে চলতি বছর ইউরোপে যোগ হয়েছে নতুন ডেটা সুরক্ষা আইন। এক্ষেত্রে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আর সংস্থাগুলোর উপর থাকা আস্থা কমছে আবার তারা এই খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের দিকেও ঝুঁকছে।

এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে বিনিয়োগের অংকটা আগের বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার দুইশ’ কোটি ডলার হয়েছে বলে এই গবেষণায় জানা গিয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই খাতের বিনিয়োগ ১০ হাজার কোটি ডলারের দিকে যাচ্ছে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা অ্যামাজনের অ্যালেক্সার মতো ভয়েস অ্যাকটিভেটেড অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের লক্ষ্য করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দিচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ‘মারটেক’। এর ফলে এই খাতের চাহিদাও বাড়ছে। 

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান এই বাজারে নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দরকারও তৈরি হচ্ছে। দুই জায়ান্ট ভোক্তাপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল এবং ইউনিলিভার ইতোমধ্যে অনলাইন বিজ্ঞাপন নিয়ে জালিয়াতির বড় অভিযোগ পেয়েছে। অনুপুযুক্ত অনলাইন কনটেন্টের সামনে বিজ্ঞাপন দেখানো হলে ব্র্যান্ডের সুনাম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ বিষয়টি বিপনণকারীদেরকে হতাশও করে দিয়েছে আর গ্রাহকদের লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আনতে তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছে, এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

মুর স্টিফেনস-এর ডেমিয়েন রায়ান এই গবেষণার গবেষক। তিনি বলেন, “স্পষ্টত বিপনণকারীরা অভ্যন্তরীণ শক্তি তৈরি ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা রাখতে মারটেক-এ আরও বেশি বিনিয়োগে প্রস্তুত হতে চাচ্ছে।”

প্রচলিত যেসব বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে তাদের দিকে ইঙ্গিত করে রায়ান বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা যায় এই বাজেট মিডিয়া খাতের বিনিয়োগ থেকে আসে আর এর ফলে মিডিয়াকেন্দ্রিক সংস্থাগুলোর মূল্যে দারুণ প্রভাব পড়বে।”

উত্তর আমেরিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক আর ইউরোপের আটশ’ প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নিয়ে মুর স্টিফেনস-এর জরিপ পরিচালনা করে বিজ্ঞাপনী ও মিডিয়া পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএআরসি। এতে দেখা যায়, ব্রিটেন আর উত্তর আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাজেটের ২৩ শতাংশ মারটেকে ব্যয় করে যা এক বছর আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। 

ইউরোপের ক্ষেত্রে চিত্রটা একটু ভিন্ন। চলতি বছর মে মাসে ইইউ’র কড়া ডেটা সুরক্ষা আইন কার্যকর হয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে সার্চ জায়ান্ট গুগল আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকের ডেটা ব্যবহার চর্চা নিয়ে উদ্বেগ, এই দুই প্রতিষ্ঠানই অনলাইন বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম খাতের শীর্ষে অবস্থান করছে। এমন অবস্থায় এই বাজারের একাধিক প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ বা কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকে গিয়েছে।  

রায়ান রয়টার্সকে বলেন, “আমরা এই বাজারের অভ্যুত্থানের শুরুতে রয়েছি।”

প্ল্যাটফর্ম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিপনণকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ’ শপিং ব্যবস্থা আনছে, যা দেখার মতো আরেকটি ‘ট্রেন্ড’ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য রায়ান-এর। এ সময় চলতি বছর মে মাসে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ম্যাজেন্টো-কে ১৭০ কোটি ডলারের বিনিময়ে অ্যাডোবি সিস্টেমস-এর কিনে নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন। সম্প্রতি অ্যাডোবি বিপনণ সফটওয়্যার নির্মাতা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মারকেটো-কেও কিনে নিয়েছে, এক্ষেত্রে অ্যাডোবিকে গুণতে হয়েছে ৪৭৫ কোটি ডলার।

রায়ান বলেন, “মূলত, ব্র্যান্ডগুলো সংস্থাগুলোকে ডেটা দিয়ে বিশ্বাস করতে পছন্দ করে না। স্পষ্ট যে রীতি দেখা যাচ্ছে তা হচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো বিপনণ প্রযুক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে।”

“তারপরও, আমরা দেখতে পারি, একদম উপরের দিকে যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি খরচ করছে, তারা এখনও সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।”


 

 



Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর