আক্রান্ত সাড়ে ১৩ লাখ

প্রকাশিত :  ০৬:৪২, ০৭ এপ্রিল ২০২০

করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়ালো

করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৭৬৭ জনে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৩৫ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসাধীন এবং ৪৭ হাজার ৩৫৩ জন (৫ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ২ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৪ জন (৭৯ শতাংশ) সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ৭৪ হাজার ৭৬৭ জন (২১ শতাংশ) রোগী মারা গেছেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট তিন লাখ ৬৭ হাজার ৫০৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৯২৩ জনের। তবে মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫২৩। আর আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজার ৫৪৭ জন।

মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৪১। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৭৫।

মৃতের সংখ্যা চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৯৮৪ জন। এর মধ্যে আট হাজার ৯২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইরানে মারা গেছে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৩৮৫ এবং তিন হাজার ৭৩৯ জন।

উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৩৩৫। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপনের অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনও মানুষ এই সংখ্যা (সরকারি পরিসংখ্যান) সন্দেহ প্রকাশ করবে।’

করোনাভাইরাসের মহামারি এখনও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো সংঘাত কবলিত দেশগুলোতে সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘ভাইরাসটি দেখিয়ে দিয়েছে কত দ্রুত তা সীমান্ত পার হতে পারে, দেশ বিধ্বস্ত করে দিয়ে জীবন কেড়ে নিতে পারে।’ করোনা মহামারি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দিতে উন্নত দেশ এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

স্বনামধন্য মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে এ ব্যাপারে বিপুল তথ্য বিশ্বের কাছে ছিল। তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এই ভাইরাসের মহামারি ঠেকানো যেত। তবে মুনাফাবাজ ও দায়িত্বহীন রাজনৈতিক ও বাজার-ব্যবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে করোনার চেয়েও বড় দুই বিপদ আসছে। এর একটি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, অপরটি সম্ভাব্য একটি পরমাণু যুদ্ধ।



Leave Your Comments


করোনাভাইরাস এর আরও খবর