প্রকাশিত :  ২০:৩৪, ১৫ মে ২০২০

নাজাতের ১০ দিনে মহানবী (সা) এর ইবাদত

নাজাতের ১০ দিনে মহানবী (সা) এর ইবাদত

মাওলানা আনোয়ার হোসাইন

পবিত্র মাহে রমজানকে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত তথা তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দেখতে দেখতে রহমত ও মাগফেরাতের দিনগুলো অতিবাহিত করে আমরা প্রবেশ করব নাজাতের দশকে।

রমজানকে বিদায় দিতে গিয়ে আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এমনটি হয়ে থাকতো যে, আধ্যাত্মিক বসন্ত নিজের চমক দেখিয়ে যখন বিদায় নেয়ার ক্ষণে পৌঁছে যেত তখন তিনি কোমর বেঁধে নিতেন আর রমজানের কল্যাণরাজিতে নিজ ডালি ভরে নিতে কোনো ত্রুটি করতেন না।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেষ দশকের ইবাদত সম্পর্কে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনায় একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, রমজানের শেষ দশকে প্রবেশ করলে তিনি কীভাবে রাতগুলো ইবাদতের মাধ্যমে জীবিত করতেন এবং তার পরিবার পরিজনকেও জাগাতেন। (বুখারি)

শেষ দশকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতেকাফে বসতেন এবং লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে রাতগুলো ইবাদতের মাধ্যমে জাগিয়ে রাখতেন। ইতিকাফের আভিধানিক অর্থ হলো কোন স্থানে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া বা অবস্থান করা। ইসলামি পরিভাষায় ‘ইবাদতের সংকল্প নিয়ে রোজা রেখে মসজিদে অবস্থান করার নাম ইতেকাফ।’ (হেদায়া)

রমজান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফে বসা সুন্নতসম্মত ইবাদত। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত এক হাদিস থেকে জানা যায়, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণও এ সুন্নত অনুসরণ করতেন।' (মুসলিম)

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে ১০ দিনই ইতেকাফে বসতেন। উল্লেখ্য, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের শেষ রমজানে ২০ দিন ইতেকাফ করেছিলেন।

২০ রমজান ফজরের নামাজের পর ইতেকাফ আরম্ভ করা উচিত। এজন্য ১৯ রমজান বাদ মাগরিব ইতেকাফস্থলে এসে যাওয়াই অনেকে ভালো মনে করে থাকেন।

ইতেকাফে বসে মুতাকিফরা একাগ্রচিত্তে ব্যক্তিগত দোয়া ছাড়াও সবার জন্য সময়োপযোগী দোয়া করেন। ইতেকাফের জন্য উপযুক্ত স্থান হলো জামে মসজিদ। এ প্রসঙ্গে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে- ‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফ কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত: ১৮৭)



Leave Your Comments


ধর্ম এর আরও খবর