প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১১, ২৪ অক্টোবর ২০১৮

মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা কি বিশ্বাসযোগ্য?

মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা কি বিশ্বাসযোগ্য?

জনমত ডেস্ক ।। মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে এফবিআইয়ের গোপনীয় প্রতিবেদন পাঠ করছেন সিনেটররা। এ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু জনসমক্ষে প্রকাশ করার নয় এবং তদন্ত বিস্তৃতভাবে সম্পাদন করা হয়নি বলে বেশ সমালোচনাও রয়েছে। তদন্ত চলার মাঝেই কাভানাকে মিথ্যা শনাক্তকরণ যন্ত্রে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য দাবি তুলেছেন সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী একজন ক্রিস্টিনা ব্লেসি ফোর্ড এরই মধ্যে এ পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু এ পরীক্ষা কতটা নির্ভুল? কীভাবে তা কাজ করে?
পলিগ্রাফ টেস্ট কী : সংক্ষেপে বলা যায়, পলিগ্রাফ টেস্টে বিভিন্ন ধরনের শরীরিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা হয়, যার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় যে একজন ব্যক্তি সত্য কথা বলছে কি না। সাধারণত রক্তচাপ কেমন, শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন এবং হাতের তালু ঘামছে কি না, নাড়ির গতিÑ এগুলোই এর মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। 
যেভাবে কাজটি করা হয় : বিশ্বের নানা প্রান্তে পলিগ্রাফ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জাপান, রাশিয়া এবং চীনে তা প্রচলিত। সবখানেই এর প্রযুক্তি এবং প্রক্রিয়া এখনও একই রয়ে গেছে। ব্রিটেনে পলিগ্রাফ পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ অধ্যাপক ডন গ্রুবিন বলেন, ‘এখানে একটি অনুশীলন টেস্টও হয়, যেখানে প্রচুর প্রশ্ন করা হয়।’ ওই ব্যক্তিকে সহজ-স্বাভাবিক অনুভূতি দেওয়াও এর উদ্দেশ্য; যাতে সে স্বস্তির পরিবেশ পায় এবং কীভাবে প্রক্রিয়াটি কাজ করতে পারে, সেটিও সে বুঝতে পারে। সব সরঞ্জাম একসঙ্গে যুক্ত করার আগে সব প্রশ্নের ব্যাপারেও তার সম্মতি নেওয়া হয়।
সরঞ্জামগুলো যুক্ত করার পর এর সঙ্গে রক্তচাপ ঠিক আছে কি না, তা দেখার জন্য একটি মনিটর, আঙুল ও হাতের তালুতে তড়িৎ প্রবাহের পরিবর্তন লক্ষ করার জন্য দুটি নল বক্ষ এবং পাকস্থলীর আশপাশে যুক্ত করা হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এসব সরঞ্জামের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা হবে, কিন্তু কক্ষের ভেতরে তাকে থাকতে হবে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা। প্রশ্নকর্তা বেশকিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন করবেন এবং এরপরে মূল প্রশ্নগুলোর প্রতিক্রিয়া তুলনা করে দেখবেন। পরীক্ষার পর আরেকটি সাক্ষাৎকার দিয়ে যাচাই কাজ শেষ হয়, যেখানে ওই ব্যক্তি যে কোনো প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
প্রতারণা করা কি সম্ভব : বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রতারণা করা সম্ভব। প্রফেসর গ্রুবিন বলেন, যে কোনো ব্যক্তি পলিগ্রাফ টেস্টকে হারাতে পারে, কিন্তু সেজন্য অবশ্যই তাকে প্রশিক্ষিত হতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের মাদকের সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে, কিন্তু তারা সফলতা পান না। তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ পরীক্ষকই শনাক্তকরণ বানচালের এ ধরনের কোনো প্রকাশ্য চেষ্টা ধরে ফেলতে পারেন।
আসলেই কি এ পদ্ধতি কার্যকর : ১৯২১ সালে যখন এর উদ্ভাবন হলো, তখন থেকেই পলিগ্রাফের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এ যন্ত্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। এটা কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এর মৌলিক বিষয়ে ত্রুটি রয়েছে। 



Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর