প্রকাশিত :  ১৫:১১, ২৯ জুলাই ২০২০

বাদুড়ের শরীরে করোনা ছিল বহুযুগ থেকেই

বাদুড়ের শরীরে করোনা ছিল বহুযুগ থেকেই

জনমত ডেস্ক : সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ এখন করোনায় আক্রান্ত। এখনো পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। কোথায় থেকে, কিভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল গোটা দুনিয়ায় তা জানার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন একাধিক দেশের শতাধিক বিজ্ঞানী ও গবেষক।

এ পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনার সমগোত্রীয় যে সমস্ত ভয়ানক ছোঁয়াচে ভাইরাস ঘটিত রোগ ছড়িয়েছে, তার জন্য মূলত দায়ী বাদুড়। তাই করোনার ক্ষেত্রেও প্রথমিকভাবে বাদুড়ের ওপরের গবেষণা চালাতে শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। 

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মালয়েশিয়া, উগান্ডা, বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় মারবার্গে নিপা ও হেন্ড্রা-র মতো যে সমস্ত ভয়ঙ্কর ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল সে ক্ষেত্রেও ভাইরাসের উৎস ও ধারক ছিল এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাদুড়ের শরীরই হলো বিভিন্ন রকম ভয়ঙ্কর ভাইরাসের আঁতুড় ঘর। এদের শরীরে ইবোলা, রেবিস, সার্স, মার্স’র মতো ভয়ঙ্কর সব ভাইরাসের বাস। এগুলোর মধ্যে সার্স ও মার্স ভাইরাস সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সমগোত্রীয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইনফেক্সাস ডিজিজ ডায়নামিক্স -এর একদল বিজ্ঞানী করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছিলেন। তিনটি আলাদা পদ্ধতি অনুসরণ করে করোনাভাইরাসের উৎস খোঁজার চেষ্টা চালিয়েছেন। এই গবেষণার পর তাঁদের মত, বহুযুগ ধরেই বাদুড়ের শরীরে ছিল করোনাভাইরাস! পরে তা মানুষের শরীরে কোনোভাবে সংক্রমিত হয়েছে। মঙ্গলবার নেচার মাইক্রোবায়োলজি নামক জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

এই গবেষণায় দলের প্রধান ড. ম্যাকিয়েজ বনি জানিয়েছেন, এই গবেষণায় দেখা গেছে হর্সশু (Horseshoe Bats) প্রজাতীর বাদুড়দের মধ্যেই মূলত করোনার জীবাণুর অস্থিত্বের প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিশ্বাস, সম্ভবত বহুযুগ ধরেই হর্সশু প্রজাতীর বাদুড়ের শরীরে এই ভাইরাস ছিল। এশিয়ায় এই ধরনের বাদুড়ই সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তবে ঠিক কিভাবে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে এসেছে তা জানাতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।


Leave Your Comments


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর