প্রকাশিত :  ০৭:১৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

লাদাখে যোগাযোগ বাড়াতে তার বসাচ্ছে চীন

লাদাখে যোগাযোগ বাড়াতে তার বসাচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  লাদাখের বিরোধপূর্ণ সীমান্তের প্যানগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে অপটিক ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার বসাচ্ছে চীনের সেনাবাহিনী। কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি দুই দেশ উত্তেজনা নিরসনের সমঝোতায় পৌঁছানো পরও এই কাজ অব্যাহত রেখেছে বেইজিং। ভারতের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ওই তার শনাক্ত করেছেন তারা। এর মাধ্যমে সম্মুখসারির চীনা সেনাসদস্যরা পেছনে থাকা ঘাঁটির সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি চীন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ ঘিরে চীন-ভারত বিরোধ শুরু হয় বলে অনেকেই মনে করেনগত মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। জুন মাসে একবার প্রাণঘাতী সংঘাতের পর এ মাসে দুই দেশই ৪৫ বছর পরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পরস্পরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তোলে। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের এক পার্শ্ববৈঠকে বিরোধ নিরসনে পাঁচ দফা সমঝোতায় পৌঁছান চীন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ী উভয় দেশই। দুই পক্ষই দাবি করছে, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে কেউ কাউকে হুমকি দিতেও ছাড়ছে না। সমঝোতার পরও দুই দেশের সংবাদমাধ্যমেই সম্ভাব্য ‘সামরিক হস্তক্ষেপের’ কথা জোরেশোরেই উচ্চারিত হয়েছে।

প্যানগং লেকের দক্ষিণে দুই দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার প্রায় ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে গত কয়েক মাস ধরেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে চীন ও ভারতের কয়েক হাজার সেনা সদস্য। ট্যাংক আর যুদ্ধবিমানের সমর্থনে থাকা এসব সেনা অবস্থান তীব্র উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে সমঝোতার পরও সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সেনা কোনও দেশই সরিয়ে নেয়নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সেখানকার উত্তেজনা আগের মতোই রয়ে গেছে।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত লাদাখের মূল শহর লেহ’র আকাশে সোমবার সকাল থেকেই মহড়া দেয় দেশটির যুদ্ধবিমান। পার্বত্য শহরটির উপত্যকা জুড়ে প্রতিধ্বনি তোলে দেশটির বিমান বাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিমান।

প্যানগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তের পরিস্থিতি বর্ণনা করে ভারতীয় এক কর্মকর্তা জানান, এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ রেখার কোনও কোনও অংশে দুই দেশের সেনা সদস্যদের অবস্থানের দূরত্ব মাত্র কয়েক মিটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো তারা (চীন) উচ্চ-গতির যোগাযোগের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার বসাচ্ছে।’ ‘(লেকের) দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে মারাত্মক দ্রুততার সঙ্গে অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে’, বলেন তিনি।

মাস খানেক আগে ভারতীয় গোয়েন্দারা প্যানগং লেকের উত্তর প্রান্তে একই ধরণের তারের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন বলে দাবি করেন আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তারা জানান, স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে লেক এলাকার পর্বত চূড়ার বালিতে অস্বাভাবিক তার দেখতে পাওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষের অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর বিষয়ে সতর্ক হয়ে ওঠে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি গোয়েন্দাদের সহায়তায় মূল্যায়নের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে, এসব যোগাযোগ ক্যাবল মাটির নিচ দিয়ে বসিয়ে যাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে যে স্পানাগ্গার খাড়িতে সেখানেও এই ক্যাবল বসানো হচ্ছে বলে দাবি ভারতের।

দুই দেশের কর্মকর্তারাই বলেছেন, চীন ও ভারতের মধ্যে গত কয়েক মাসের উত্তেজনা তৈরির নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে নিয়ন্ত্রণ রেখা জুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ।

সাবেক এক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অপটিক্যাবল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে নিরাপদে যোগাযোগ করা যায়। পাশাপাশি এর মাধ্যমে ছবি এবং নথিপত্রও আদান-প্রদান করা যায়। তিনি বলেন, রেডিও-তে কথা বললে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ নিরাপদ।

ভারতীয় সেনাসদস্যরা এখনও নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যোগাযোগ রক্ষার জন্য রেডিও’র ওপর নির্ভরশীল। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, রেডিও নির্ভর যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাংকেতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে থাকেন।


Leave Your Comments


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর