প্রকাশিত :  ১৭:২৩, ১৫ অক্টোবর ২০২০

বিমানের সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট কতদিন চলবে?

রূপসী কন্যার দেশ ওয়েলস থেকে

 বিমানের সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট কতদিন চলবে?

দেওয়ান ফয়সল

দীর্ধ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর গত ৪ঠা অক্টোবর পুনরায় শুরু হলো বিমানের সিলেট-টু লন্ডন ফ্লাইট।  যদিও এর আগেও তা চালু হয়েছিলো তবে ২০১১ সালে শীতকালে সিলেট বিমান বন্দর এলাকা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় বিমানের ল্যান্ডিং মারাত্মক ঝুঁকি পূর্ণ এবং বিমানের রিফুয়েলিং সিস্টেম এর সুবিধা না থাকার অজুহাতে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে রিফুয়েলিং স্টেশন চালু হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ এই ফøাইট চালুর ব্যাপারে আর আগ্রহ দেখায়নি। যার ফলে প্রবাসীরা সিলেট টু লন্ডন ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে দীর্ঘ দিন যাবত বিমান কর্তৃপক্ষের উপর চাপ দিয়ে আসছিলেন এমন কি এ ব্যাপারে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচীও পালন করে আসছিলেন।  যাই হোক, আল্লাহর মেহেরবানীতে শেষ পর্য্যন্ত তাদের বোধোদয় এবং সিলেটি প্রবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় তা আবার চালু হয়েছে। 

এই ফ্লাইট শুরু হওয়ার প্রথম ফ্লাইটেই যারা এসেছেন তাদের মধ্যে কিছু অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমাকে ফোন করে বললেন, তাঁর এক পরিচিত লোক ডাইরেক্ট ফ্লাইটে সিলেট থেকে লন্ডন আসলেন কিন্তু এখানে আসার পর তার লাগেজ আজ পর্য্যন্ত আসেনি। এই লাগেজটা কোথায় গায়েব হয়েছে তার কোন হদিস পাচ্ছেন না তিনি। শুধু তাই নয়, আমাদের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের হোয়াটসএ্যপ গ্রুপ-এ আকবর নামের এক ভাই ফ্লাইটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে যা  লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরলাম " ভাইয়েরা আমার, বোনেরা আমার, আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সিলেট-লন্ডন ডাইরেক্ট ফ্লাইট চালু হওয়ায় আমরা সবাই আনন্দিত। এর মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী পূরণ হয়েছে। কিন্তু ডাইরেক্ট ফ্লাইটের টিকেটের দাম অনেক বেশি। যদিও গত ৪ তারিখ ফ্লাইট উদ্বোধনের দিন বলা হয়েছিলো টিকেটের দাম সহনীয় পর্য্যায়ে নিয়ে আসা হবে। যেখানে লন্ডন- ঢাকা ফ্লাইট আনুমানিক ৭ শত পাউন্ডে পাওয়া যায় সেখানে সিলেট-লন্ডন টিকেটের দাম প্রায় ১২শত পাউন্ড। এর পেছনে অর্থ কামাই ছাড়া আর কোন যুক্তি আছে কি না আমার জানা নেই। তারা মনে করছেন, সিলেটীরা তো ডাইরেক্ট ফ্লাইটে যাবেনই সুতরাং মনে যা চায় সেই অনুপাতে দাম রাখলে সমস্যা হবে না। এব্যাপারে জনাব আকবর বিমান কর্তৃপক্ষ সহ কমিউনিটির সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।”

আসলে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। গত ৯ই অক্টোবর বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত পত্রিকা "দৈনিক ইত্তেফাক”-এ এক খবর প্রকাশিত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের শত শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা নিয়ে। খবরে বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে , একটি চক্র বিমানের বিভিন্ন ইউনিটের প্রকৃত আয়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ আয় কম দেখিয়ে এসব অর্থ লোপাট করেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, চক্রটি বিমানের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। 

উল্লেখ্য যে, অর্থ লোপাটের এসব ঘটনা বিমানের নিজস্ব তদন্তেও ধরা পড়ে। ২০১৬ সালে বিমানের নিজস্ব তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে তখন তদন্ত কমিটি অর্থ লোপাটের এসব ঘটনা নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করার সুপারিশও প্রদান করেছিলো। 

দুদক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে কর্মকর্তারা প্রাথমিক ভাবে প্রমাণ পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৃত ও প্রদর্শিত আয়ে বড় ধরণের ফারাক রয়েছে। বিমানের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন দুদক যাচাই-বাছাই করে এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানের উর্ধতন বেশ কিছু কর্মকর্তাকে জিঞ্জাসাবাদ করে দুদক। এরপর দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি দুদক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

অনুসন্ধান সংশিষ্ট দুদক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি ফ্লাইট অবতরণ করে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ১৫টি ফ্লাইট রয়েছে। ৩০টির মতো কার্গো ফ্লাইটও ওঠানামা করে। ২০১৬ সালে বিমানের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিমানের গড় আয়ের এক হিসেবে দেখা যায়, ২০১৪ সালে বিদেশী উড়োজাহাজগুলো থেকে বিদ্যুৎ সার্ভিস বাবদ মাসে বিমান ১৫ কোটি টাকা আয় করলেও দেখানো হয় ৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড় হিসেবে বছরে এ খাত থেকে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়া এয়ারকন্ডিশন ইউনিট থেকে মাসে ২৫ কোটি টাকা আয় হলেও দেখানো হয় ১০ কোটি টাকা। একই ভাবে এয়ারক্রাফট পুশ টো-ট্রাক্টর থেকে ৫ কোটি টাকার আয়কে দেখানো হয় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা অর্থাৎ গড় হিসেবে বছরে এ খাত থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লোপাট হয়। অন্যদিকে ওয়াটার সার্ভিস ট্রাক থেকে ৫ কোটি টাকার স্থলে ৩ কোটি দেখিয়ে গড়ে বছরে ২৪ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এভাবে বিমানের আরও বহু সেক্টর রয়েছে সে হিসেব দিতে গেলে লেখা অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তবে এতটুকুই লিখবো দুদকের হিসেবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রতিবছর লোপাট হয়। 

এ ব্যাপারে দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদকে চলছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ”