প্রকাশিত :  ১৩:৪৮, ২২ অক্টোবর ২০২০
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৫৩, ২২ অক্টোবর ২০২০

আদালতের দেয়া রায়ের শাস্তি কার্য্যকর না হলে প্রধানমন্ত্রীর 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয

আদালতের দেয়া রায়ের শাস্তি কার্য্যকর না হলে প্রধানমন্ত্রীর 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয

দেওয়ান ফয়সল

সম্প্রতি বাংলাদেশে অশুভ শক্তির যে উত্থান ঘটেছে তা যেন নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা দেখলে তাই যেন মনে হয়। অশুভ শক্তির ভয়াল থাবা যেন মাকরশার জালের মতো  প্রতিটি সরকারী বেসরকারী অফিস, আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রলায়, কালেজ, ইউনির্ভাটি, মাদ্রাসা পর্য্যন্ত তাদের আধিপত্য এমন ভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, দেশের মানুষ যেন অসহায়, জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই খবরের পাতা খুললে গলা কেটে হত্যা, ধর্ষণ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্ত্র নিয়ে একে অপরের প্রতি ধাওয়া, গুলি করা এ যেন নিত্যদিনের সংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে। এর কারণ কি? কারণ একটাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী একটি শক্তি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেশের শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস করার পেছনে কাজ করে যাচ্ছে। এদের পেছনে রয়েছে স্বদেশ এবং বিদেশে নিয়োজিত তাদের এজেন্টগুলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তাদের কার্য্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘৃণ্য কার্য্যক্রমের শুরু হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে, যা আজ অবদি চলছে। অতি কৌশলে তারা দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অফিস আদালত এমন কি দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাদের আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছে। যে কোন দেশেরই শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর হাতে ন্যাস্ত থাকে। যুক্তরাজ্যেও আমরা দেখছি, কোন ধরণের মারামারি, হত্যা, হামলা, চুরি অথবা সরকারের আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ এসে সাথে সাথেই তাকে সামাল দেয়ার একটা ব্যবস্থা করে ফেলে অর্থাৎ পুলিশ হচ্ছে যেন জনগণের বিপদে তাদের ভরসার একমাত্র জয়গা। যে কোন ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলেই যেন সবাই স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলে। পুলিশই বলতে গেলে তাদের অভিভাবক। কিন্তু আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনী হচ্ছে তার পুরো বিপরিত। কোন জায়গায় কোন ঘটনা ঘটলে পুলিশ আসলেই যেন ভয়ে সবাই হিমশিম খায়। কাকে কোন জালে ফেলে দিয়ে কোন মামলায় নাম ঢুকাবে তা কেউ জানেনা। যেখানে পুলিশ হওয়ার কথা জনগণের অভিভাবক, জনগণের সেবক, সেখানে আমাদের পুলিশরা হচ্ছে  যেন যমদূত! কিছুদিন আগে সিলেটে রায়হান হত্যার যে ঘটনা ঘটে গেলো, তা নিয়ে সিলেট সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ফুসে ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তাদের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে। 

গত ১৬-২২ অক্টোবর ২০২০ সংখ্যায় লন্ডনের সাপ্তাহিক "জনমত” পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কিছু অংশ এখনে তুলে ধরলাম। খবরে বলা হয়েছে -দুই বছর আগে রায়হান বিয়ে করেন এবং মাত্র  ২ মাস আসে তার একটি ছেলে জন্ম গ্রহণ করে। শনিবার রাতে সন্তানকে আদর করে বেরিয়েছিলেন ঘর থেকে। সে রাতে আর ঘরে ফেরেননি। ভোর সাড়ে চারটায় একটি নম্বর থেকে কল করে রায়হান জানান, টাকার জন্য বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তাকে মারধোর করা হচ্ছে। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা তাড়িঘড়ি করে টাকা নিয়ে যান ফাঁড়িতে। কিন্তুু পুলিশ রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি তাদের। 

পরদিন বিকেল ৩টায় রায়হানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা, নখ উপড়ে ফেলা রায়হানের লাশ দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় যোগ দেন সদ্য সন্তানহারা রায়হানের মা-ও। নিহত রায়হানের পরিবারের দাবি, টাকার জন্য আটকে রেখে নির্মম ভাবে অত্যাচার করে রায়হানকে মেরে ফেলেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) বন্দর বাজার ফাঁড়ির সদস্যরা। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী রায়হানকে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং দাবিকৃত টাকা না পেয়ে নির্য্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। 

এদিকে রায়হানের মৃত্যুর পর পুলিশ জানায়, নগরীর মাদক হিসেবে পরিচিত কাষ্টঘর এলাকায় শনিবার রাতে ছিনতাই করতে গিয়ে গনপিটুনির শিকার হন রায়হান। পরে সেই তথ্যে যোগ হয়, রায়হান নিজেও ছিনতাইকারী। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ছিনতাইকারীদেরই আরেকটি গ্রুপ তার ওপর নির্য্যাতন চালায়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্Íু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বলছে, পুলিশ মিথ্যচার করছে। কারণ, হরিজন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কাষ্টঘরে বাস করে বনেদি অনেক পরিবারও। পুরো এলাকাই সিসি ক্যামেরায় বেষ্টিত। এসব ক্যামেরা মনিটর করা হয় স্থানীয় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নজরুল ইসলাম মুমিনের কার্য্যালয় থেকে। পুলিশের বলা গণপিটুনির সময়কাল শনিবার রাত ২টা থেকে রোববার সকাল ৭টা পর্য্যন্ত সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে গণপিটুনির কোন দৃশ্যই দেখা যায়নি। 

এছাড়াও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে তিনটা থেকে ৪টার মধ্যে রায়হানকে তারা উদ্ধার করেছে। অথচ সাড়ে ৪টায় রায়হান তার পরিবারকে ফোন করে জানান, তিনি ফাঁড়িতে আছেন এবং নির্য্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তাকে যেন টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। অন্যদিকে সিলেট  এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে নেয়া হয় রায়হানকে। ৮টার দিকে মারা যান তিনি। এখন সিলেটবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, এসআই আকবর এতবড় একটা ঘটনা করার পর কিভাবে সে পালিয়ে যায়? সবাই মনে করছেন, আকবর পালায়নি, তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের সহযোগিতায়ই কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে।  

মূলত: পুলিশ বাহিনী হচ্ছে দেশের গৌরব। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরু দায়িত্ব তাদেরই উপর। আমরা দেখতে পাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত হত্যা-রাহাজানি, খুন খারাবী যা-ই ঘটুক না কেন আমাদের পুলিশ বাহিনী অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ধরে ফেলতে সক্ষম হয়. তা স্বীকার করতেই হবে। তাই বলছি, পুলিশ বাহিনী বলতেই যে সবই খারাপ তা নয়। কথা হচ্ছে, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এমন কিছু লোক ঢুকেছে যাদের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী একটি বিরাট প্ল্যাটফর্ম। তাদের কাজ হচ্ছে, দেশে এমন কিছু কান্ড ঘটানো যাতে সাধারণ জনগণ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং সরকার হঠাও আন্দোলন শুরু করে। শুধু পুলিশ বাহিনীই নয় র‌্যাব, আর্মি সহ দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকে, তা হলে তাদের এই হঠকারী চাল কার্য্যকর করা কোনদিনই সম্ভব হবেনা। কারণ, আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে সকল দেশদরদী, পরীক্ষিত ত্যাগী সদস্যরা দেশের যে কোন খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুুত রয়েছেন, তাদের কাছে কিছু সংখ্যক স্বাধীনতা বিরোধীদের দমন করা এমন কোন কঠিন কাজ নয় বলে আমি মনে করি। 

স্বাধীনতার পক্ষের পুলিশ বাহিনী সহ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পদস্থ অফিসারদের উচিৎ, পুলিশ বাহিনী সহ সকল বাহিনীর সম্মান, মর্য্যাদা এবং দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে তারা যেন  তাদের ডিপার্টমেন্টের ভেতরে যে সব মুখোশধারী এজেন্টরা রয়েছে এদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান শুরু করা। এখন বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি থানায়ই বলতে গেলে বিভিন্ন ধরণের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, যা জনগণকে ফুসিয়ে তুলছে। তাই এসব থানাগুলোর যারা দায়িত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনত: কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এছাড়াও পুলিশ বাহিনীর উপর থেকে নীচ তলার অফিসারদের মধ্যেও একটি শুদ্ধি অভিযান চালানো দরকার বলে আমি মনে করি। কারণ, বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে যেসব মারাত্মক কান্ডগুলো ঘটছে, খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে তাদের পেছনে বড় অফিসারদেরও হাত রয়েছে, এসব স্বাধীনতা বিরোধী প্ল্যাটফর্মের এজেন্টদের সাথে। অফিসার থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্য্যন্ত যারা এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত এদের চিহ্নিত করে যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠিন শাস্তি প্রদান করা যায় তাহলে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের হারানো গৌরব আবার ফিরে পাবেন, তারা হবেন জনগণের প্রকৃত বন্ধু। দেশের শান্তি শৃংঙ্খলা ফিরে আসবে, মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এব্যাপারে আইনমন্ত্রলায় এবং বাংলাদেশ হোম অফিসেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তবে একথা সত্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী প্ল্যাফর্মের এজেন্টরা মাকড়সার জালের মতো দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সহ মাদ্রাসা, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে অর্থাৎ পুরো শিক্ষাঙ্গনে যে জাল বিস্তার করেছে তা ছিন্ন করতে হবে যে কোন ত্যাগের বিনিময়েই হোক। 

বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য প্রথমেই আমি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কথা এখানে তুলে ধরলাম, যাতে তারা আমার লেখার সত্যতা উপলব্ধি করতে পারেন এবং এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, এতে তাদের যেমন মঙ্গল হবে তেমনি হবে দেশেরও মঙ্গল। 

এবার আসি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যান্য প্রসঙ্গে। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘোষিত দেশে শুদ্ধি যখন শুরু হয় তখন যুবলীগ নেতা স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিচারের আওতায় এনে তাকে শাস্তিও দেয়া হয়, কিন্তু আশ্চর্য্য হলেও সত্য যে, তাকে সে শাস্তি ভোগ করতে হয়নি। দীর্ঘ এক বছর যাবত তিনি অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালেই রাজার হালে আছেন। তার আত্মীয়-স্বাজন, বন্ধু-বান্ধব, দলের নেতা-কর্মীরা যখন খুশী তখনই তার সাথে দেখা করতে পারেন। তাহলে এটা কোন ধরণের শাস্তি হলো? 

এবার আসি সিনহা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে। গত ৩১শে জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর অব: মেজর ও সাবেক এস এস এফ কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এই হত্যার মূল হোতা ওসি প্রদীপ বলে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। তিনি চাকুরী জীবনের পুরোটা সময় চট্টগ্রামে কি ভাবে থাকতে পারলেন এবং কোন শক্তির বলে তিনি সেখানে এতোদিন থাকলেন তা নিয়ে জনগণের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। প্রায় দুই শতাধিক হত্যাযঞ্জ তিনি ঘটিয়েছেন বলেও খবরে প্রকাশ। আজ প্রায় ৩ মাস হয়ে গেলো তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।  এত বড় কোন গডফাদার তার পেছনে রয়েছে সেটাও মানুষের মনে প্রশ্ন? 

এছাড়াও আরও অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটে গেছে গত এক বছরের মধ্যে, যা বাংলাদেশের জনগণের অজানা নেই। সুতরাং এসব অতীত ঘটনাগুলোর বিস্তারিত এ লেখায় টানছিনা। শুধুমাত্র একটু ইঙ্গিত দিলাম এজন্য যে, লেখার মূল বিষয়স্তুুটা যাতে আমার পাঠকরা উপলব্ধি করতে পারেন। 

আমি বলতে চাই, এসব ন্যাক্কার জনক ঘটনাগুলোর পেছনে যে গডফাদাররা জড়িত রয়েছেন তাদের যদি খুঁজে বের করে আইনের আওতায় না আনা হয়, তাহলে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা কোন দিনই ঠিক হবেনা। দেশের আইন শৃঙ্খলা যতোদিন পর্য্যন্ত না ঠিক করা যাবে ততদিন পর্য্যন্ত সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাননা কেন, তাতে কোন কাজ হবেনা। কারণ, উন্নয়নতো দেশের জনগণের জন্যই, ব্রীজ নির্মাণ, রাস্তাঘাট সুন্দর করে তৈরী করা, মানুষের অবসর সময়টুকু কাটানোর জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে পার্ক নির্মান করা ইত্যাদির জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। কিন্তু মানুষ যদি নিশ্চিত মনে পরিবার পরিজন নিয়ে, বন্ধুবান্ধব নিয়ে সেই পার্কে না বেড়াতে পারে, রাস্তায় গাড়ি চালনায় নিরাপত্তা না থাকে, বড় বড় ব্রীজ পার হতে টোল আদায়ে অতিরিক্ত টোল আদায় সহ বিভিন্ন ধরণের হয়রানী বন্ধ করা না হয়, তাহলে এ সবের পেছনে কোটি কোটি খরচ করার স্বার্থকতা কোথায়? 

সবশেষে এট্কুুই বলতে চাই, বর্তমানে বাংলাদেশে যে অরাজকতা চলছে তা থামানোর জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করা দরকার। দেশের বিচার ব্যবস্থা আছে, কোর্ট কাচারী সবই ঠিকমতো চলছে, বিচারে সাজাও হচ্ছে অর্থাৎ সবই ঠিক আছে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে বিচার আছে কিন্তু শাস্তি প্রয়োগ করা হচ্ছেনা। যতদিন পর্য্যন্ত বিচারের রায়ের শাস্তি পুরোপরি কার্য্যকর না হবে, ততদিন পর্য্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর "জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। 

দেওয়ান ফয়সল: সাংবাদিক, কলামিস্ট

কার্ডিফ, ওয়েলস, ২১ অক্টোবর ২০২০


Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর