প্রকাশিত :  ০৯:০৬, ১২ নভেম্বর ২০২০
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৬, ১২ নভেম্বর ২০২০

ট্রাম্প চলে যাচ্ছেন, থেকে যাচ্ছে ট্রাম্পিইজম

ট্রাম্প চলে যাচ্ছেন, থেকে যাচ্ছে ট্রাম্পিইজম

প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই কোনবার জেতেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থি আবার কোনবার জিতে আসেন রিপাবলিকান প্রার্থি। নির্বাচনে প্রধান দুই দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আর রিপাবলিকান পার্টি জানবাজ যুদ্ধে মেতে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কোন এক দলের একজন প্রার্থি বিজয়ী হন। প্রেসিডেন্ট পদে সমাসীন থাকেন চার বছর। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাধারণত দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। ২৪৪ বছর ধরে এই ধারা চলে আসছে মার্কিন মুল্লুকে। 

প্রায় আড়াইশ বছরের এই নিরবচ্ছিন্ন ধারায় বিশাল বেমক্কা ধাক্কার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জীবনে কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। ছিলেন না সেনেট বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সদস্য। ছিলেন না কোন স্টেটের গভর্ণর বা এটর্নি জেনারেল অথবা কোন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। 

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফাতেই ট্রাম্প কার্ড ছুঁড়ে মেরে দান জিতে নিয়েছিলেন। রাজনীতির পাঠ নেননি কখনো কোথাও, কিন্তু কি করে রাজনীতির দাবায় চাল চালতে হয়, ব্যবসায়ি ট্রাম্প সেটা ভালো রপ্ত করে নিয়েছিলেন। 

২০১৬-তে ট্রাম্প যখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থি হিলারী ক্লিনটনকে পারস্ত করে প্রেসিডেন্ট পদ বগলদাবা করে নিয়েছিলেন, তখন তিনি শুধু যে হিলারীকে ধরাশায়ি করেছিলেন, তা নয়, তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পুরো ইলেকশন মেশিনারি; পার্টির নানা ধারা-উপধারার অনুসারিবর্গ; হিলারীর সমর্থক মাল্টিন্যাশনাল ব্যবসায়িগোষ্ঠি; দলনিরপেক্ষ ভোটারদের যে অংশ হিলারীর পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকেছিলেন, তাঁদের; এমন কি বিপুল জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিশাল প্রভাব আর সেই সাথে রিপাবলিকান পার্টির যারা ট্রাম্পের বিরোধী ছিলেন, তাঁদের সবাইকেও তিনি পর্যদুস্ত করে ছেড়েছিলেন। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছিলেন নিজে বাজিমাত করার উদ্দেশ্যে। আড়াই শ বছর ধরে মার্কিন রাষ্ট্রটি যে সমাজ-কাঠামো এবং রাজনৈতিক গতিপথ নির্মাণ করেছে, ট্রাম্পের কাছে তার কোনই গুরুত্ব ছিলো না। বহিরঙ্গে যে সৌজন্যতা-ভব্যতা ধারণ করা হয় মার্কিন মুল্লুকে, তার কোন স্থান ছিলো না ট্রাম্পের প্লে-বুকে। মানবিকতা, অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা, দুর্বলের প্রতি দয়ার্দ্রতা - এ সব অনুসরণে ট্রাম্পের এক ধরণের বিবমিষা দেখা গেছে সব সময়। আর নারীর প্রতি শ্রদ্ধা? যাবতীয় কদাচারের প্রতি দারুণ আসক্ত ট্রাম্পের কাছে নারী ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছু-এমন ধারণা তাঁর শত্রুও পোষণ করে বলে মনে হয় না। 

নিজে বাজিমাত করতে ট্রাম্প কোন্্ প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছিলেন? 

প্রথমে দেখে নেয়া যাক ২০১৬ থেকে ২০২০ - এই চার বছর ধরে ঐতিহ্যবিরোধী একটা টালমাটাল প্রেসিডেন্সি চালিয়ে আসার পরও ২০২০ সালে তাঁর পক্ষে কত শতাংশ ভোট পড়েছে। যে সব ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, মোটামুটিভাবে তাদের ৪৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পের পক্ষে। এই নির্বাচনে বিজয়ী ডেমোক্র্যাটি প্রার্থি জো বাইডেন এবং ট্রাম্প - এই দু‘জনের পক্ষে ভোটাররা (এবং সাদামাটা হিসেবে দেশের মানুষও) ভাগ হয়ে গেছেন প্রায় সমান ভাগে। 

এখানেই প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। 

প্রায় অর্ধেক ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের নীতিগুলো কি কি? 

করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার। আর শুরু থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন, করোনাভাইরাস তেমন কিছু নয়, ‘চলে যাবে‘। নয় মাস হতে চললো, করোনা এখনও ‘চলে যায়নি‘। ট্রাম্প নিজেরই করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান ড. ফাওসিকে নির্বাচনের পর বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। কারণ? ড. ফাওসি করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলোর (অথবা পদক্ষেপহীনতার) সাথে একমত নন। তিনি চান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই প্রাণঘাতী মহামারিকে বাগে আনার ব্যবস্থা করতে। ট্রাম্প এতো সবের ধার ধারেন না। একনায়কদের মতো তিনি যা যান, সবাইকে ত-ই করতে হবে। 

সময়ের আগেই লকডাউন তুলে নেয়া, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করা এসব দাবি নিজে তুলে তাঁর সমর্থকদের ট্রাম্প রাস্তায় নামিয়েছেন এবং যারা এগুলোর সাথে একমত নন, তাদের নিয়ে খিস্তি-খেউড় করে নাস্তানাবুদ করে গেছেন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরার ধার তিনি ধারেননি এবং তাঁর সমর্থকেরাও এতে উতসাহিত হয়ে তাঁর মতোই আগ্রাসি আচরণ চালিয়ে গেছেন। 

২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৭ দিনের মধ্যে ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্প ৭টি মুসলিম দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্টদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এক্সিকিউটিভ অর্ডার স্বাক্ষর করেছিলেন। এই আদেশে সিরিয়ার শরণার্থিদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিলো অনির্দিষ্টকালের জন্যে। 

বৈশ্বিক তাপমাত্রায় ভয়-জাগানিয়া যে পরিবর্তন ঘটে চলেছে, ট্রাম্প জলবায়ূ পরিবর্তনের সে বাস্তবতা বিশ্বাস করেন না। এবারের নির্বাচনের পরের দিনই ক্লাইমেট চেইঞ্জ বিষয়ক প্যারিস চুক্তিনামা থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছেন। 

প্রেসিডেন্ট ওবামার করা এফোর্ডেবল কেয়ার এক্ট ট্রাম্প মোটেই পছন্দ করেন না, সেটা তিনি বাতিল করতে চান। অথচ এই আইনে স্বল্প আয়ের মানুষজনদের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ দেশে প্রচ্ছন্নভাবে বর্ণবাদ উস্কে দিয়েছেন। চরম ডানপন্থীদের সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। 

দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মানবিকতার ধার ধারেনি। ইমিগ্র্যান্টদের বিরুদ্ধে লাগাতার বোলচাল চালিয়ে গেছেন। তাঁর নির্দেশে তাঁর বর্ডার এজেন্সির লোকজন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থি পরিবারগুলোকে বিভক্ত করে ফেলেছে। বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে তাদের শিশু সন্তানদের। 

ইউরোপ, ন্যাটো - এগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প শুরু থেকে আদাজল খেয়ে লেগে রয়েছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বিনষ্ট করায় ট্রাম্পের জুড়ি পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসকের সাথে সখ্যতা গড়তে তাঁর ছিলো প্রাণান্ত কোশেশ। তিনি সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন রাশিয়ার সাথে। ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর পণ্যসামগ্রীর ওপর বসিয়েছেন ট্যারিফ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউ এইচ ও)  বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ অর্থ দেয়া ট্রাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ, ডব্লিউ এইচ ও তাঁর দৃষ্টিতে ‘চায়না ভাইরাস‘ (করোনা) মোকাবেলায় তেমন কিছুই করেনি, বরং, চীনকে ‘তোয়াজ‘ করে চলেছে।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ রোধের লক্ষ্যে দেশটির সাথে আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিলো, সেটি বাতিল করে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল করতে তিনি বিশেষ বিলম্ব করেননি। তাঁর পরম মিত্র ইজরায়েলকে তুষ্ট করতে ট্রাম্প এই কান্ডটি করেছেন। 

ইজরায়েলের ফায়দার জন্যে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদকালে আরও এমন সব কিছু করেছেন, যা এ পর্যন্ত কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি। তিনিই জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করিয়েছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত অবস্থানে তিনি ফাটল ধরিয়ে প্রথমবারের মতো সেখান থেকে ইজরায়েলের জন্যে স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছেন। বাহরাইন ও আরব আমিরাত ইজরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্পের কৃপাধন্য হয়েছে। শোনা গেছে, সৌদী আরবও এই কাতারে শামিল রয়েছে। তবে এখন হয়তো হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের বিদায়পর্বের কারণে তাদের এগিয়ে আসা বিলম্বিত হতে পারে। 

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অঅশ্রয়প্রার্থিদের আগমন ঠেকাতে দু‘দেশের সীমান্তে দেয়াল তুলে দেয়া নিয়ে ট্রাম্প বিস্তর বাগাড়াম্বর করেছেন। সেখান থেকে ক্রিমিনালরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। 

দেশের ভেতরে গুলি করে অনেক মানুষের অকাল-মৃত্যুর ঘটনার পর কঠোর ‘গান কন্ট্রোল‘ করা হবে বললেও ট্রাম্প বিশেষ কিছুই করেননি। 

সবশেষে, প্রায় সার্বজনীনভাবে ২০২০-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর পরাজয় ঘটেছে বলে স্বীকৃত হলেও ট্রাম্প সেটা মেনে নিচ্ছেন না। তিনি একনায়কের মতো, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে, হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন যে, তাঁর বিজয় ‘ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে‘ এবং তিনি আইনী লড়াইয়ে যাচ্ছেন। 

প্যান্ডোরার বাক্সের কথা এখন খোলাসা করা যাক। 

এবারের নির্বাচনে ভোটদাতাদের ৪৯ শতাংশ ট্রাম্পের পলিসির সাথে একমত। অর্থাত, এই ৪৯ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী পলিসির সাথে একমত। ট্রাম্পের ইমিগ্র্যান্ট-বিরোধী অমানবিক ব্যবস্থার সাথেও তারা একমত। মুসলিম দেশগুলো থেকে টেররিস্টরা এসে যুক্তরাষ্ট্র সয়লাব হয়ে যাচ্ছে, তারা সেটাও বিশ্বাস করেন। এদের ঠেকাতে হবে, এ বিষয়েও তারা ট্রাম্পের অনুসারি। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়িদের তারা দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যে বিপদজনক মনে করেন না। তারাও মনে করেন, করোনা ‘চলে যাবে‘, মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরী নয়। ক্লাইমেট চেইঞ্জ একটা অপপ্রচার। বর্ণবাদেই দেশরক্ষা। বাইরের জগতের সাথে এতো সখ্যতার কোন দরকার নেই। ইউরোপ-ন্যাটো গোল্লায় যাক, শুধু ইজরায়েলকে মদদ দিয়ে গেলেই হবে।

২০১৬-তে ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রচারণা ছিলো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, কিন্তু আদতে সেটা হয়ে গিয়েছিলো ‘আমেরিকা এলোন’। তাঁর সমর্থকদের তাতে কিছুই যায় আসে না।

ট্রাম্প যতোই গাঁইগুঁই করুন না কেন, তাঁকে শেষ পর্যন্ত যেতেই হবে। কিন্তু ভাবনার বিষয়, তিনি প্যান্ডোরার যে বাক্স খুলে দিয়ে গেলেন, কি তার পরিণতি? অরাজনৈতিক এক ধুরন্ধর ব্যবসায়ি তাঁর রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার জন্যে যে কূট চাল চেলে প্রথম দফা জিতে গিয়েছিলেন, এবারও সেই জয় তাঁর হাতে প্রায় এসে গিয়েছিলো বলে। এ দফা সে চালে কিস্তি মাত হয়নি বটে, কিন্তু ট্রাম্প দেশের অর্ধেক মানুষের যে তন্ত্রীতে অনুরণন তুলে মার্কিন রাজনীতির চালচিত্র পাল্টে দিয়েছেন, সেটা তো অর্ধেক মার্কিনীর দৃষ্টিভঙ্গীর ধারক। তার মোকাবেলা কেমন করে হবে? কোন্্ পরিশীলনে তা সম্ভব আবারও পরিমার্জিত করা? আদৌ কি সেটা সম্ভব? 

ট্রাম্প চলে যাচ্ছেন, থেকে যাচ্ছে ট্রাম্পিইজম। 

[মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, স্পেশাল কন্ট্রিবিউটর, জনমত ডটকম, সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের ডাক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ও সিলেট প্রেস ক্লাব] 

লন্ডন ১১ নভেম্বর ২০২০


Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর