প্রকাশিত :  ১৮:৪০, ১২ নভেম্বর ২০২০

আরব আমিরাতে লিভ টুগেদার বৈধ

২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসবাসের ক্ষেত্রে জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হবে না

আরব আমিরাতে লিভ টুগেদার বৈধ

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ আরব আমিরাত লিভ টুগেদারকে বৈধতা দিয়েছে। এর অর্থ হল-এক সময়কার কট্টর ইসলামি অনুশাসনের দেশটিতে এখন থেকে অবিবাহিত নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকতে পারবেন। আইনগতভাবে তাদেরকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হবে না। একইসঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া মদপানের সুযোগও দেয়া হয়েছে মানুষকে।
দেশটির ইসলামিক পারসোনাল ল’-তে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়ে এই দুটি সুযোগ দেয়া হয়েছে ২১ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য। একইসঙ্গে কথিত ‘অনার কিলিং’-কে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও অনুমোদন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির আইনে এসব পরিবর্তন করা হয়েছে জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে। উল্লেখ্য, আরব আমিরাতে বহু ধর্ম-বর্ণের লোকের বসবাস রয়েছে। তবে দেশটি মূলত আরব মুসলিমের বাসস্থান ও তাদের শাসনাধীন।
সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল-আরব আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। এরপরই ইসরাইলের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও পর্যটক আকর্ষণের চেষ্টা করছে মুসলিম দেশটি। সরকার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দ্রুত এ আইন কার্যকর হচ্ছে। এখন থেকে মাদবদ্রব্য ও মদপান, বিক্রি ও মালিকানায় রাখার কারণে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। এ ছাড়া ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত নারী-পুরুষ-আত্মীয় হোক বা না-হোক, একসঙ্গে বসবাসের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হবে না। শনিবার মুসলিম ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনে পরিবর্তনের এসব ঘোষণা দেয়া হয় আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে। এতদিন আমিরাতের আইনে লাইসেন্স ছাড়া মদ ও মাদক রাখা এবং বিক্রির দায়ে ধরা পড়লে শাস্তির মুখে পড়ার বিধান ছিল। এ জন্য অন্তত ৮০টি বেত্রাঘাতের বিধান ছিল। অবশ্য এ ধরনের শাস্তি বাস্তবায়নের ঘটনা দেখা গেছে খুবই কম।
এ ছাড়া বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক করা ও একসঙ্গে বসবাসের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষকে কয়েক মাসের জেল দেয়ার বিধান ছিল ইসলামিক পারিবারিক আইন অনুযায়ী। তবে ব্যভিচারের সন্দেহ না হলে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তে যেত না। আমিরাতের অনেক স্থানেই কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে অন্ধ থাকার ভান ধরত। যেমন: দুবাইয়ের মতো শহরগুলোয় হোটেলে অবিবাহিত নারী-পুরষের একসঙ্গে থাকার বিষয়ে কোনো বাধা দেয়া হতো না।
আরব আমিরাতে বসবাসকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে এখন থেকে বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধীকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোয় স্থানীয় আইনের পরিবর্তে বাদী-বিবাদীদের নিজ দেশের আইন অনুসরণ করা হবে। এটি দেশটিতে বসবাসকারী লাখো বিদেশির জন্য বড় খবর। আরব আমিরাতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দেশটির মূল অধিবাসীদের ১০ গুণ।
হঠাৎ আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার পেছনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান উন্নতি এবং ঐতিহ্যগতভাবে পরমত সহিষ্ণুতার অংশকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম। অন্যের ক্ষতি করে না-ব্যক্তির এমন কোনো কাজকেও আর অপরাধ হিসেবে গণনা করা হবে না। এর বাইরে অনার কিলিংকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করায় নারীদের হত্যা ও নির্যাতনের মতো অন্যায় করে কেউ আর লঘু শাস্তিতে পার পাবে না। এতদিন এমন সুযোগ ছিল। অবশ্য আইনে এসব পরিবর্তন দেশটির প্রভাবশালীদের খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, আরব আমিরাতের আইনে দেশটির শাসক পরিবার ও মন্ত্রীরা দায়মুক্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন।


Leave Your Comments


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর