প্রকাশিত :  ২৩:৫৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২০
সর্বশেষ আপডেট: ০১:০৩, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

আমাদের স্বাধীনতার অ-সুখ

জাতির স্বাধীনতারও একটি ‘বিপক্ষ’ থাকে কেন?

আমাদের স্বাধীনতার অ-সুখ

|| মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ||

আমাদের স্বাধীনতার একটি অ-সুখ আছে।

ব্যক্তির অ-সুখ থাকে ক্ষুদ্রবৃত্তে, হয় নিতান্ত ব্যক্তিগত।

জাতির স্বাধীনতার অ-সুখ বিরাট বিশাল, সেটা ছড়ানো থাকে থাকে জাতির গোটা মানচিত্র জুড়ে।

একটি জাতির স্বাধীনতারও ‘বিপক্ষ’ বলে যখন একটা কিছু থাকে, তখন সেই জাতির স্বাধীনতার অ-সুখটি সনাক্ত হয়, প্রয়োজন হয় তার নিরাময়ের।

অদ্ভুত শোনালেও সত্যি যে, স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব যখন বয়স ৫০ পূর্ণ করতে চলেছে, তখন এই বাংলাদেশেই স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বলে দু‘টি ধারার অস্তিত্বের কথা উচ্চারিত হয়ে চলেছে।

মোটা দাগে স্বাধীনতার ‘পক্ষ’ তাঁরাই যাঁরা বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্যে জাতিকে প্রস্তুত করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে সফল হয়েছেন এবং সেই সাথে এই ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম-যুদ্ধের রাজনৈতিক, সামরিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে আরও যাঁরা ছিলেন মূল ধারার সংগ্রামে সহযোগি-সহযাত্রি, তাঁরা সকলেও আছেন মুক্তিযুদ্ধের ‘পক্ষ’ হয়ে।

আর স্বাধীনতার ‘বিপক্ষ’ কারা?

এক কথায় এর জবাব: মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যাদের অবস্থান ছিলো তারা।

একাত্তরে জাতির মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে তৎপর কিছু বাঙালিরও অস্তিত্ব ছিলো তখন বাংলার মাটিতে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধে বিজয় অর্জন পর্যন্ত স্বাধীনতার এই বিপক্ষের সুসংগঠিত মানুষজন ইসলামের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ঠেকাতে অস্ত্র হাতেই সক্রিয় ছিলো।

আমরা দেখেছি, পাকিস্তান আমলে বাঙালির ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলনের সময় যেমন, তেমনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ক্ষুদ্র এই গোষ্ঠি ‘ইসলাম গেলো’ বলে রব তুলে বাঙালির বিপক্ষে পাকিস্তানী শাসকচক্রকে মদদ যুগিয়েছিলো।

কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর তার ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় - কোনটিই ধর্মভিত্তিক অথবা ধর্মবিরোধী  কোন প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়নি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ছিলো না। আমাদের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ ছিলো পাকিস্তানী রাষ্ট্রযন্ত্রের বৈষম্য এবং তাদের শোষণ-নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা গড়বার লক্ষ্যে । ধর্ম নিয়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠির সাথে আমাদের কোন বিবাদ ছিলো না। আমাদের কোন বিরোধ ছিলো না ধর্মের সাথেও।