প্রকাশিত :  ২৩:২০, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

চট্টলার গর্ব - ৫২’র ভাষা কন্যারা

 চট্টলার গর্ব - ৫২’র ভাষা কন্যারা

।। নুজহাত নূর সাদিয়া ।।

বীর চট্টলা, জাতীয় জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার ভিড়ে জন্ম দিয়েছে সময় পাল্টে দেওয়া  যুবাপুরুষের, তবে বীর প্রসবিনী চাঁটগার উর্বর ভূমি শুধুমাত্র  ক্ষণজন্মা পুরুষদের উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সময়ে সময়ে সাহসিকাদের অসামান্য সাহস আর কর্মকুশলতায় গৌরবান্বিত করেছে চট্টগ্রাম সহ পুরো বাংলাদেশকে। এই অসংখ্য  ইতিহাস সৃষ্টিকারি বঙ্গতনয়াদের ভিড়ে নেতৃস্থানীয় চাঁটগার রাণীদের কর্মগাঁথা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি পাঠকদের কাছে:
আরতি দত্ত:
১৯৩৮-১৯৪০ সাল, ছাত্র আন্দোলন এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এ অন্যতম হোতা। পাথরঘাটাস্থ মেনকা স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় নারী সমিতি গঠন করেন যাতে কল্পনা দত্ত, পুষ্প সেন  শিল্পপতি একে খানের স্ত্রী, ব্যারিস্টার আজিমের স্ত্রী সহ প্রভাবশালী গ্রুপের একাংশ আরতির প্রতি নিরব সমর্থন জানান। রাজনীতি মনস্ক এ তরুণীর যোগ্য সহধর্মী ছিলেন সুধাংশু দত্ত। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ও অফিস সামলানোর দায়িত্বভার তাকে আত্মগোপন অবস্থা হতে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে। ৪৯’র সেপ্টেম্বরে আত্মগোপনে যাবার সময় দু’সন্তান বিশু ও দীপাকে মা-বাবার কাছে রেখে যান। দুগ্ধপোষ্য বিশুকে জোর করে দুধ ছাঁড়িয়ে যান এ ত্যাগী মা। তার ভাষায়,কত যে কেঁদেছে বিশু তখন! গোলজার বেগম স্কুলে শিক্ষকতা জীবন শুরু হল, রাজনীতির দুর্নিবার শখ এখানে ও বাঁধ সাধল?  চাকরি ছাঁড়তে বাধ্য হন ১৯৪৮ সালে।‘৪৯ সালে খাস্তগীর স্কুলে যোগ দেন, সেই যে বিশ্বাস, চেতনা প্রোথিত হয়েছিল তার জোরেই তার শিক্ষাপ্রাপ্ত জওশন আরা বুলবুল,জাহানারা জুবিলি, খালেদা খান সহ আর ও অনেকের স্বেচ্ছাত্যাগে জোরদার হয় ভাষা আন্দোলনের এগিয়ে চলা। সাপ্তাহিক ২০০০ কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি আনন্দচিত্তে স্মৃতিচারণ করেছেন; আমরা আত্মগোপনে ছিলাম, তবে আমার ছাত্রীদের মধ্যে যে চেতনা, বিশ্বাস স্থাপন করেছিলাম পরবর্তীতে তাদের সোচ্চার অংশগ্রহণ আমাকে আনন্দিত করেছে।