প্রকাশিত :  ২২:১০, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০
সর্বশেষ আপডেট: ২২:১৬, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

শান্তির মহাবাণী ছড়িয়ে এলো শুভ বড়দিন

শান্তির মহাবাণী ছড়িয়ে এলো শুভ বড়দিন

জনমত ডেস্ক : শুভ বড়দিন আজ। আজ প্রার্থনার দিন, নিজেকে সমর্পণের দিন। যিশুখ্রিস্টের শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়ে আনন্দ করার দিন।

করোনার মহাদুর্যোগে পৃথিবীর কল্যাণে, মানবের কল্যাণে গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা হবে। আলোকসজ্জা, ক্রিমসাস ট্রি, সান্তাক্লজের উপহার আনন্দে দিনটি কাটবে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন (ক্রিসমাস)। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠবেন উৎসবে।

দুই হাজার বছর আগে এই শুভদিনেই পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল যিশুর।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা এতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করব। আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সব সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে এবারের বড়দিন পালন করতে বলেন। তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশ ও জাতি তথা বিশ্ববাসীকে এই মহামারী থেকে যেন মুক্তি দেন- এ প্রার্থনা করি।

এবারের বড়দিনের আয়োজন নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও যুগান্তরকে বলেন, বাহ্যিক দিক থেকে এবার আমরা একটু সীমিত পরিসরে বড়দিন উদযাপন করলেও স্পিরিচুয়্যালি আমরা আগের মতোই আছি। এই বড়দিনে আমাদের প্রার্থনা থাকবে, আমরা যেন করোনা মহামারী থেকে মুক্তি পাই। গির্জায় গির্জায় সব প্রার্থনা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হবে।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একজন নারীর প্রয়োজন ছিল। সেই নারীই কুমারী মেরি। যাকে মা মেরি নামে ডাকে খ্রিস্টানরা। ‘ঈশ্বরের আগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায়’ মা মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন। ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস, বাংলায় বলা হয় ‘যিশু’। শিশুটি কোনো সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনান।


Leave Your Comments


ধর্ম এর আরও খবর