প্রকাশিত :  ০৯:১৩, ০১ ডিসেম্বর ২০১৮

কুৎসিত সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে সরকার : বিজভী

কুৎসিত সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে সরকার : বিজভী
জনমত ডেস্ক ।। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থে বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসিত সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধা দান এবং বিএনপি ও দেশের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তাদের ভয়ংকর প্রোপাগান্ডায় সয়লাব। 

শনিবার (১ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনেতিনি এসব কথা বলেন। 

রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিচ্ছে বিদ্বেষমূলক নানা সুপার ইমপোজ করা ছবি, টেম্পারড নকল অডিও-ভিডিও। মুলত: এইসব নির্জলা মিথ্যাচার, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অশ্লীল রুচিহীন প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তাদের দশ বছরের গুম-খুন- অত্যাচার-নিপীড়ন-জেল-জুলুম-সর্বগ্রাসী লুটপাট ও দুঃশাসন থেকে সরকার ভোটারদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ এই ধরনের গর্হিত অপকর্মে অর্ধশতাধিক অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক গ্রুপ ব্যবহার করছে। বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। নামে-বেনামে ভুয়া আইডির ফেসবুকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে প্রমোশন দিয়ে বুস্ট করছে। সরকারকে এই অপপ্রচার বন্ধ করে শালীন ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই আওয়ামী গোষ্ঠীর প্রতিহিংসা ও অপপ্রচার আর তথ্য সন্ত্রাসের নির্মম টার্গেট করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। জাতীয়তাবাদী শক্তির অবিসংবাদিত কাণ্ডারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং এ মুহূর্তে জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তারেক রহমানের প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা ওদের প্রসুপ্তি কেড়ে নিয়েছে। হিংসুকরা জানে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এ প্রজন্মের সবচেয়ে মননশীল, অসামান্য প্রজ্ঞা, কর্মনিষ্ঠ আর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন নেতার নাম তারেক রহমান।
তারেক রহমানকে নিয়ে সংঘবদ্ধ এবং বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছে সবখানে। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো হয়েছে তথ্য সন্ত্রাসকে। আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা প্রোপাগান্ডার জবাব দেবে।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ ও আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগ যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে, পুলিশ নেতাকর্মীদেরকে লাগাতার গ্রেফতার ও জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। ’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার তপন কুমার বিশ্বাস এবং পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হলেও কমিশন রহস্যজনকভাবে নির্বিকার থাকছে। আমি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস এবং পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়কে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

‘আওয়ামী লীগ পরাজিত হলেও দেশে থাকবে, পালিয়ে যাবে না’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘আপনারা পালিয়ে যাবেন কিভাবে কাদের সাহেব, জনগণতো আপনাদের পালিয়ে যেতে দেবে না। আপনাদের দুঃশাসনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই ‘

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউল হক, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 


Leave Your Comments


বাংলাদেশ এর আরও খবর