প্রকাশিত :  ১৬:২৫, ০২ ডিসেম্বর ২০১৮

দেনাগ্রস্ত ফখরুল, বছরে কাদেরের আয় ৩১ লাখ

দেনাগ্রস্ত ফখরুল, বছরে কাদেরের আয় ৩১ লাখ
জনমত রিপোর্ট ।। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণ দাখিল করছেন। তাদের জমাকৃত হলফনামা থেকে উঠে আসছে জানা-অজানা অনেক তথ্য। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হলফনামা জমা দেয়া হয়েছে। 

রবিবার (২ ডিসেম্বর) ইসির কাছে সম্পত্তির বিবরণ দাখিল করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, ওবায়দুল কাদেরের বার্ষিক আয় ৩১ লাখ টাকা। যেখানে মির্জা ফখরুলের বার্ষিক আয় ১১ লাখ টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কাদের, অন্যদিকে এখনও সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেনা রয়েছে ফখরুলের। কাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ অর্নাস আর ফখরুল দেখিয়েছেন এমএ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে ওবায়দুল কাদের আর ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ফখরুল।

 কাদেরের হলফনামায় যা আছে:
বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার, চাকরি ও লেখালেখি থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে বছরে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টাকা আয় করেন ওবায়দুল কাদের। তার সর্বমোট বার্ষিক আয় ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

সেইসঙ্গে তার স্ত্রী বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৬০ টাকা, অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা আয় করেন।

অস্থাবর সম্পদ: ওবায়দুল কাদেরের বর্তমানে নগদ অর্থ আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৮৩ লাখ ৫৮হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ এক কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ টাকা। ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন কাদের। আর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ২৫ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে তার ঘরে। এছাড়া নিজের নামে রয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র।

পাশাপাশি কাদেরের স্ত্রীর হাতে এখন নগদ আছে ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা এবং তার ১ লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তিনি ১২ হাজার টাকা দামের ফোন ব্যবহার করেন। ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার নামে।

স্থাবর সম্পদ: ওবায়দুল কাদেরের রাজধানীর উত্তরায় ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ও পৈতিৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। তবে তার নিজস্ব কোনও বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। স্ত্রীর রয়েছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট।

 ফখরুলের হলফনামায় যা আছে : 
অন্তত ৪৫টি মামলা রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৯টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা। যেখানে কৃষিখাত থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা আসে। তবে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ ফখরুলের কোনও আয় নেই। যদিও এ খাতে তার স্ত্রী বছরে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৮ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৪ টাকা; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ১ লাখ ৪১ হাজার ১৮১/৮৭ টাকা। আর তার স্ত্রীর শেয়ার থেকে বার্ষিক আয় ৮৪ হাজার ৮৯৫ টাকা ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ২০ লাখ টাকা।

বিএনপি মহাসচিব পেশাগত অবস্থান থেকে বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করেন। চাকরি করে বছরে সম্মানী ভাতা পান ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এছাড়া ফখরুল বার্ষিক ব্যাংক সুদ পান ২ হাজার ৮০৫ টাকা; যেখানে তার স্ত্রী পান ২৬ হাজার ৯০৭ টাকা। ডিপিএস থেকে ফখরুলের বার্ষিক আয় ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৮ টাকা।

অস্থাবর সম্পদ: মির্জা ফখরুলের হাতে বর্তমানে নগদ আছে ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৫ টাকা। তার স্ত্রীর আছে ৫ হাজার ৩১২ টাকা। এছাড়া ফখরুলের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৮১/৭৮ টাকা। যেখানে স্ত্রীর আছে ২১ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০/৭৪ টাকা। দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেডে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তার শেয়ার আছে ৬৫৮টি।

ফখরুলের নিজের নামে সঞ্চয়পত্র না থাকলেও স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাইভেটকার আছে। তার স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকার একটি গাড়ি আছে। আছে ১০ ভরি সোনা, যা বিয়ের সময় দান হিসেবে পেয়েছেন।

অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে মির্জা ফখরুলের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি টিভি, দু’টি ফ্রিজ, একটি এসি, দু’টি ডেকসেট আছে। তার স্ত্রীর আছে ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী। এছাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের খাট, সোফা সেট ও ডাইনিং টেবিল ব্যবহার করেন ফখরুল। স্ত্রীরও আছে ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র।

স্থাবর সম্পদ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের অর্জনকালীন মূল্যের ৬০ হাজার টাকার ৫ একর কৃষি ও ৫ লাখ টাকার ৪ শতক অকৃষি জমি আছে। স্ত্রীর আছে অর্জনকালীন মূল্যের ৫০ হাজার টাকার কৃষি ও ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ৫ কাঠা অকৃষি জমি।

এছাড়া অ্যাপার্টমেন্ট না থাকলেও অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকার দোতলা বাসার একাংশ আছে ফখরুলের। তার স্ত্রীর আছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট। দোকানের অগ্রিম বাবদ মির্জা ফখরুলের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেনা রয়েছে।


Leave Your Comments


বাংলাদেশ এর আরও খবর