প্রকাশিত :  ১৪:৩৪, ১২ জানুয়ারী ২০২১

না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মজুমদার আলী

বিভিন্ন মহলের শোক

না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক  মজুমদার আলী

জনমত ডেস্কঃ না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রিয়মুখ মজুমদার আলী। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজিউন। ১১ জারুয়ারী রাত দশটায় রয়েল লন্ডন হাসপাতালে কোভিড আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ২৪ এপ্রিল বৃটেনের কভেন্ট্রি শহরে প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে গঠিত হয় এ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তিতে বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরীর নেতৃত্বে¡ এই এ্যাকশন কমিটি ষ্টিয়ারিং কমিটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে গঠিত হয় ষ্টিয়ারিং কমিটির শাখা। এই কমিটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে অর্থ সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে কাজ করেন। বড় বড় কয়েকটি সভাসাবেশ হয় লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার ও হাইডপার্ক কর্ণারে। ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাঙালিরা ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে এসব সমাবেশে অংশ নিতেন। তাদেরই অন্যতম ছিলেন এই মজুমদার আলী। তখন তার বয়স ১৩/১৪ বছর তখনকার সমাবেশের বেশ কয়েকটি ছবি ছিল তার কাছে। তিনি এসব ছবি দেখিয়ে গর্বের সাথে বলতেন আমরা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা। সত্যিই সেদিনকার মজুমদার আলীরা ছিলেন প্রবসী মুক্তিযোদ্ধা।

মজুমদার আলী লন্ডনে একটি টিভি টকশোতে বলেন, তখন বসবাস করতেন ওল্ডহ্যাম শহরে। সপ্তাহে বেতন পেতেন ১৫ পাউন্ড, নিজের খরচের  জন্য পাঁচ পাউন্ড রেখে বাকী দশ পাউন্ড দিয়ে দিতেন যুদ্ধ ফান্ডে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তহবিলে আর্থিক অনুদান দিতে সেসময়কার সকল ব্রিটেন প্রবাসী বাঙালিরা।

তখন বিলাত প্রবাসী বাঙালি বলতে ৯৫ শতাংশই ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের অধিবাসি। মজুমদার আলী ছিলেন একজন নিখাদ বঙ্গবন্ধু প্রেমিক। আজীবন জাতির জনকের আদর্শের অনুসারী মজুমদার আলীকে দেখা যেত লন্ডনের আওয়ামীলীগের প্রতিটি সভা সমাবেশে। 

মজুমদার আলীর দেশের বাড়ী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পাটলী গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক মেয়ে  রেখে গেছেন। 

প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা মজুমদার আলীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, যুদ্ধাপরাধ বিচার মঞ্চের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সেক্রেটারী রুমি হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য মানবাধিকার কর্মি আনসার আহমেদ উল্লাহ, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি নূরুদ্দিন আহমদ, সেক্রেটারী জামাল আহমদ খান, যুগ্ম সম্পাদক স্মৃতি আজাদ, যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারী আলিমুজ্জামান, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলাগের সহসভাপতি হরমুজ আলী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নইমুদ্দিন রিয়াজ, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু, সাধারন সম্পাদক সেলিম আহমদ খান, লন্ডন মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ড. আনিছুর রহমান আনিছ, শায়েক আহমদ, যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হোসনেয়ারা মতিন, আঞ্জুমান আরা আঞ্জু, আওয়ামীল নেতা এডভোটেক শাহ ফারুক আহমদ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলার আহবাব হোসেন প্রমুখ। 

পৃথক পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।


Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর