প্রকাশিত :  ০১:০৯, ০১ এপ্রিল ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ০৩:৫৬, ০১ এপ্রিল ২০২১

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয় ১১ ডাক্তার

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয় ১১ ডাক্তার

জনমত ডেস্কঃ ব্রিটেনে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কারণ এই টিকা যেমন জীবন বাঁচাচ্ছে, তেমনি করোনাভাইরাস মহামারীর চলমান সংকট থেকে বের হয়ে আসারও পথ দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। তবে কিছু কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা এই টিকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবিষ্কার হওয়ার কারণে এর নিরাপত্তা নিয়ে এখনো উদ্বিগ্ন হচ্ছেন।
এখানে ১০ জন ডাক্তার, যারা করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে কাজ করছেন, তারা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো উত্তর দিয়েছেন।

ভ্যাকসিনটি খুবই দ্রুততার সাথে তৈরী করা হয়েছে, তাই আমি কীভাবে নিশ্চিত হবো যে এটি নেয়া নিরাপদ?

তিনটি পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর এবং বিশ্বের হাজার হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরই এগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
ট্র্যায়াল পর্বগুলোকে ওভারল্যাপ করে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সামগ্রিক সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করা হলেও পরীক্ষা পর্যায়ে কোনরূপ কর্নার কাট অর্থাৎ কোন ফাঁক রাখা হয়নি এবং নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার কঠোর মানদন্ডগুলো যথাযথভাবে পূরণ করার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভ্যাকসিনগুলো দ্রুত তৈরী করা হলেও, অন্যান্য ওষুধের মতো একই ধরনের কঠোর সুরক্ষা পরীক্ষা এবং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সব কিছু করা হয়েছে। আমরা ইউকেতে ব্যবহার করি এমন সকল ওষুধের অনুমোদন প্রদানকারী সম্পুর্ণ স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘মেডিসিন এন্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি’ (এমএইচআরএ) প্রতিটি ভ্যাকসিন বা টিকার সুরক্ষা বা নিরাপত্তার দিকটি মূল্যায়ন করেছে এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। এরই মধ্যে কয়েক মিলিয়ন মানুষ কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।
একজন জিপি হিসেবে, কোভিড-১৯ আমার কমিউনিটির ওপর যে ভয়ানক প্রভাব ফেলেছে, তা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। এটি মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাওয়া, ইন্টেনসিভ কেয়ারে থাকা বা মারা যাওয়ার তুলনায় ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিতান্তই কম বা তুচ্ছ।
- ডা. কয়েস আহমদ, জিপি, জরুরী পরিচর্যা বিষয়ক চিকিৎসক এবং ভাইস চেয়ার, ব্রিষ্টল মুসলিম স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ গ্রুপ



ভ্যাকসিন কি আমার ডিএনএ পরিবর্তন করবে?

না। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আপনার ডিএনএ পরিবর্তন করতে পারে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। ভ্যাকসিনগুলো কোন অবস্থাতেই আপনার ডিএনএ-তে হস্তক্ষেপ করে না। ধারনা করা হচ্ছে, এমআরএনএ ভ্যাকসিন শব্দ ব্যবহারের কারণেই সম্ভবত এই অতিকথন মিথটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফাইজার/বায়োএনটেক এবং মডার্না ভ্যাকসিন হচ্ছে এমআরএনএ ভ্যাকসিন। ডিএনএ এর সাথে এর কোনরূপ সম্পর্ক নেই এবং আপনার জিনগুলোকে এটি পরিবর্তন করবে না। বরং এগুলো স্পাইক প্রোটিন তৈরী করে, যা আপনার ইমিউন সিস্টেমে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির ফলে আপনার শরীর এন্টিবডি উৎপন্ন করবে, যা পরবর্তিতে ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে পারবে।
- ডা. রাগীব আলী, কন্সালটেন্ট ইন একুইট মেডিসিন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এনএইচএস ট্রাস্ট

ভ্যাকসিন কী হালাল?

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অনুমোদিত তিনটি ভ্যাকসিন বা টিকায় শূকরের কোন উপাদান নাই এবং অনেক মুসলিম নেতা ও সংগঠনসমূহ তাদের কমিউনিটিগুলোকে এই ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহিত করছেন। ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশন, মুসলিম ডক্টরস্ এসোসিয়েশন, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এবং মস্কস্ এন্ড ইমামস্ ন্যাশনাল এডভাজরি বোর্ড হচ্ছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন, যারা লোকজনদের ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
অক্সফোর্ডÑএস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে কিছু ইথানল রয়েছে, তবে এটি পরিমাণে খুবই কম এবং অনুরূপ পরিমান আপনি ব্রেড বা কলায়ও পেতে পারেন, তাই অসংখ্য মুসলিম স্কলারের মতে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা জায়েজ। মুসলিম নেতৃবৃন্দ ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে সমর্থন করার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন মসজিদে ভ্যাকসিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যদি আপনি ভ্যাকসিন সম্পর্কে এবং এটি আপনার ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না সেসম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি আপনার স্থানীয় মসজিদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলতে পারেন।
- ডা. হিনা শাহিদ, জিপি এবং চেয়ার অব দ্যা মুসলিম ডক্টরস্ এসোসিয়েশন

রামজান মাসে রোজা রেখে আমি কি ভ্যাকসিন নিতে পারবো?

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন গ্রহণের ফলে রোজা বাতিল হয়না। রামাদানের কারণে টিকা নিতে দেরী করার কোন প্রয়োজন নেই।
- ডা. এবাদুর চৌধুরী, জিপি



ভ্যাকসিনটিতে কি গর্ভস্থ ভ্রূন এর কোষ আছে?

কোন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনে অপরিণত বা অকালজাত ভ্রƒণের কোষ বা টিস্যূ নেই। প্রকৃতপক্ষে কোন ধরনের টিকাতেই কোন জীবিত প্রাণী বা মানবের কোষ নেই। নীতিগত মানদন্ড যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও পরীক্ষাগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। মুসলিম এসোসিয়েশনগুলো এবং ইমামরাও যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে সমর্থন করছেন।
ডা. নিঘাত আরিফ, জিপি, উইম্যান্স হেলথ ইন বাকিংহামশায়ার, কন্ট্রিবিউটর, বিবিসি ব্রেকফাস্ট/আইটিভি দিস মর্নিং শো

কোভিড ভ্যাকসিনগুলো কি ফ্রি?

শুধুমাত্র এনএইচএস থেকেই বিনামূল্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলো পাওয়া যাবে। তাই আপনি প্রাইভেটলি অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে এই টিকা কিনতে পারবেন না। মহামারীকে ব্যবহার করে লোকজনকে ঠাকানোর জন্য অপরাধীরা তৎপর রয়েছে। তাই দয়া করে এটা মনে রাখবেন যে, এনএইচএস কখনোই আপনাকে ভ্যাকসিনের জন্য কোন অর্থ প্রদান করতে কিংবা টিকা পেতে ব্যাংকের সকল তথ্য দেয়ার জন্য বলবে না।
ডা. ফারজানা হোসেইন, জিপি, দ্যা প্রজেক্ট সার্জারী, নিউহ্যাম।



ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেয়ার পর আমি কি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে এবং পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে মেলামেশা শুরু করতে পারবো?

প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ডোজ নেয়া সত্বেও এই মূহুর্তে আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, সরকারের বর্তমান বিধিনিষেধগুলো অনুসরণ করা উচিত। আমরা জানি যে, মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে ভ্যাকসিন সাহায্য করবে এবং লোকজনকে গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে রক্ষা করবে। তদুপরি, ভ্যাকসিন নেন কিংবা না নেন, কোভিড-১৯ রেস্ট্রিকশনস বা বিধিনিষেধগুলো মেনে চলা অব্যাহত রাখাটা প্রত্যেকের জন্যই অপরিহার্য। এটি অনেক শক্ত, তারপরও এই সময়ের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এর অর্থ হলোঃ
– সামাজিক দুরত্বের নির্দেশিকা মেনে চলুন
– মুখ ঢেকে রাখুন এবং ‘হাত-মুখ-দূরত্ব’ বিধিটি মেনে চলুন।
– অন্যদের সাথে যোগাযোগ যথাসম্ভব কমিয়ে রাখুন, কারণ এভাবেই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়ায়।
- ডা. শিন্তাল প্যাটেল, জিপি, ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন

নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কি কাজ করবে?

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রভাব বিস্তারকারী কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনগুলোর বিরুদ্ধে উভয় ভ্যাকসিনই (ফাইজার/বায়োএনটেক এবং অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকা) নিরাপদ ও কার্যকর। তবে যদি কোন ভ্যাকসিন অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনের বিরুদ্ধে সংক্রমণ প্রতিরোধে কম কার্যকারিতা প্রদর্শন করেও থাকে, তারপরও গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর কারণ হওয়া থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিয়ে থাকে। জীবন বাঁচাতে এবং এনএইচএস-কে রক্ষা করতে ভ্যাকসিন রোলআউট অব্যাহত রাখাটা অপরিহার্য।
ডা. হরপ্রীত সুদ, জিপি, লন্ডন এবং বোর্ড মেম্বার অব হেলথ এডুকেশন ইংল্যান্ড।

ভ্যাকসিনটি কি নিরামিষ এবং ভেগান উপযোগী?

এমএইচআরএ এবং উৎপাদনকারীরা এটা নিশ্চিত করেছে যে, অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার/বায়োএনটেক এবং মডার্না কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনে প্রাণীর উৎস সংশ্লিষ্ট কোন উপাদান নাই। এগুলো ভ্যাজেটেরিয়ান ও ভেগানদের এবং যারা ধর্মীয় বা সংস্কৃতিগত কারণে নির্র্দিষ্ট কিছু খাবার এড়াতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত। ভ্যাকসিন গ্রহণ করার জন্য অসংখ্য ধর্মীয় নেতা ও সংগঠনগুলো তাদের কমিউনিটিকে উৎসাহিত করছেন। মন্দির, ক্যাথেড্রাল, গুরুদোয়ারা এবং মসজিদগুলো ভ্যাকসিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ধর্মীয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফলে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
ডা. অন্নপূর্ণা শর্মা, এমবিবিএস এফআরসিপিসিএইচ, কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান, টিকাদান কার্যক্রমে নেতৃত্বদান ও শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট



ভ্যাকসিন কি ফার্টিলিটিতে কোন প্রভাব ফেলে?

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আপনাকে বন্ধ্যাত্ব করে তুলতে পারে বলে এমন কিছু ক্ষতিকারক কল্পকাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের কারণে মহিলা কিংবা পুরুষের সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বা বন্ধ্যা হওয়ার কোন প্রমাণ নেই। স্পাইক প্রোটিনের ইমিউনিটি বা সংক্রমণ-মুক্ততা ফার্টিলিটি অর্থাৎ সন্তান জন্মদান সক্ষমতায় সমস্যার কারণ হতে পারে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। যারাই কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের দেহে স্পাইকের প্রতি এন্টিবডি তৈরী হয় এবং কোভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে ওঠার পর তাদের ফার্টিলিটির ক্ষেত্রে কোনরূপ সমস্যা হওয়ার প্রমাণ নেই।
ডা. আনুজা শাহ, জিপি, লুটন এবং মহিলাদের স্বাস্থ্য ও ডায়াবেটিসের ওপর জিপি ট্রেইনার।

ভ্যাকসিন কি আপনাকে কোভিড দেবে?

অনুমোদিত কোন ভ্যাকসিন থেকে আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবেন না। এন্টিবডিগুলো তৈরী করতে তারা আপনার শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকে উদ্দীপ্ত করতে কাজ করবে, যাতে করে  আপনি ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে আপনার শরীর যেন তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। ভ্যাকসিন নেয়ার আগে যদি আপনি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যান, তাহলে টিকা নেয়ার পরও আপনার কোভিড টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ হতে পারে। এবং, কোন ভ্যাকসিনই ১০০% সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না, তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়া সম্ভব। তবে কোনভাবেই  টিকা থেকে ভাইরাসে সংক্রমিত হবেন না। ভ্যাকসিন নেয়ার পরও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং (সামাজিক দূরত্ব) এবং মুখ ঢেকে রাখার বিধি মেনে চলা সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. জাহাঙ্গীর (জিঙ্গে) আলম, এনএইচএস ডক্টর, ক্যাম্পেইনার, গেস্ট স্পিকার।

আমি ইয়াং এবং ফিট, তাই কেন আমার জন্য এটি নেয়া দরকার? আমি ফ্লু জ্যাব নেয়ারও প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনা, তারপরও কেন এটি অন্যরকম?

যদিও এটি সত্য যে কোভিডে মারা যাওয়া বেশিরভাগ লোকই ছিলেন বয়স্ক। তবে ইন্টেনসিভ কেয়ারে থাকা আমাদের রোগীদের অর্ধেকেরই বয়স ৬০ এর কম এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি অসংখ্য রোগী যাদের বয়স ২০, ৩০ বা ৪০ বছর। এমনকি কোভিডের হালকা সংক্রমণও ‘লং কোভিড’ অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণ হতে পারে, যেমন সকল বয়সী মানুষই সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমনকি মাসের পর মাস ক্লান্তিবোধ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় ভুগতে পারেন।
আর, দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যারা বয়স্ক আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বসবাস কিংবা তাদের সংস্পর্শে সচরাচর এসে থাকেন, তাদের জন্য এটা মনে রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনি সহজেই আপনার মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদি/নানা-নানি, অর্থাৎ যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তাদেরকে সংক্রমিত করতে পারেন। তাই, ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকে এবং আপনার প্রবীণ আত্মীয়-স্বজনকে এবং সামগ্রিকভাবে গোটা সমাজকেই সুরক্ষা দিতে পারেন।
ডা. রাগীব আলী, একুইট মেডিসিন বিষয়ক কনসালটেন্ট, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এনএইচএস ট্রাস্ট।


Leave Your Comments


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর