প্রকাশিত :  ১০:২২, ০৮ এপ্রিল ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৭, ০৮ এপ্রিল ২০২১

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেইজ হ্যাক, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেইজ হ্যাক, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

জনমত ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের অনলাইন ডাটাবেইজ হ্যাক হয়েছে। এতে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশিসহ সিন্ডিকেটের ৫ সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে কুয়ালালামপুরসহ আশেপাশের ২২টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে একজনের দাতুক উপাধিও রয়েছে।

অভিযানে ল্যাপটপ, পাসপোর্ট, নগদ অর্থসহ যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ৩৩ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে।

ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক খায়রুল দাযাইমি দাউদ বলেছেন, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেইজ হ্যাক করে একটি সিন্ডিকেট। সেখান থেকে টাকার বিনিময়ে তারা জাল টেম্পোরারি ওয়ার্ক ভিজিট পাস (পিএলকেএস) প্রিন্ট করে বিতরণ করেছে।

বুধবার মালয়েশিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) ফেডারেল টেরিটরি কুয়ালালামপুর কার্যালয়ে ইমিগ্রেশন পরিচালক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সিন্ডিকেটের ৫ সদস্য বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের নাগরিক। গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত ইমিগ্রেশন অভিযানে বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হয়েছে।

তবে এই অভিযানে কতজনকে আটক করেছে সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি। আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ইমিগ্রেশনের সহযোগিতায় এমএসিসির অভিযানটি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ও আস্তানা ভেঙে দিয়েছে। যার ফলে মালয়েশিয়া সরকারের কয়েকশো মিলিয়ন রিঙ্গিত রাজস্ব বেঁচে গেল, যা মালয়েশিয়া অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে নেয়া হত।

এই সিন্ডিকেট সদস্যরা ডাটাবেইজ হ্যাক করে, ইমিগ্রেশন অফিসের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে এবং পরবর্তীকালে ইমিগ্রেশন অফিসের বাহির থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণের অপারেশন সেন্টার থেকে একটি ট্রান্সমিটার ইন্সটল করে পিএলকেএস ওয়ার্ক ভিজিট পাস প্রিন্ট করত।

ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট ডাটাবেইজ সহ দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ব্যবস্থা হিসাবে সরকার মাইআইএমএম সিস্টেমকে প্রতিস্থাপন করবে এমন একটি নতুন সিস্টেম নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম (এনআইআইএস) নামে পরিচিত। নতুন সিস্টেমটি ডাটা বিশ্লেষণ পরিচালনায় সাজানো থাকবে এবং সকল পরিষেবা দ্রুত, দক্ষ, বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এ দিকে এমএসিসির চিফ কমিশনার দাতুক সেরি আজম বাকী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একটি সরকারি সংস্থার ডাটাবেইজে অনুপ্রবেশ এটি গুরুতর অপরাধ। মালয়েশিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৯ সেকশন ১৭ অনুচ্ছেদে আরও অধিকতর তদন্ত চলছে।



Leave Your Comments


বাংলাদেশ এর আরও খবর