প্রকাশিত :  ০১:১০, ১৬ এপ্রিল ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ০২:৩৫, ১৬ এপ্রিল ২০২১

মাহে রামাদান : আত্মশুদ্ধি ও আত্ম গঠনের মাস

মাহে রামাদান : আত্মশুদ্ধি ও আত্ম গঠনের মাস

মাহে রমজান সিয়াম সাধনা ও তাকওয়া অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও আত্ম গঠনের মাস। কল্যাণ, বরকত, রহমত ও মাগফিরাত এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভের মাস। মহান আল্লাহ এ মাসটিকে বহু ফজিলত ও মর্যাদা দিয়ে অভিষিক্ত করেছেন। ফলে এ মাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। মুমিন বান্দার জীবনে বছরের মধ্যে রমজান মাসটিই এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়। এ কারণেই বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, শোকর ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম।

রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন : ‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম।’ (সূরা ইউনুস : ৫৮)

পার্থিব কোনো সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসুলে কারিম (সা.) অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন : ‘তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’ এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে বলেন : ‘আল্লাহ তায়া’লা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল।’ (নাসায়ী : ২১০৫)

আমাদের কর্তব্য : আল্লাহর এ অনুগ্রহের মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করা, এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া ও ইবাদত-বন্দেগী সহ সকল কল্যাণকর কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা।

পবিত্র রমজান ২০২১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু। এদিকে বাংলাদেশের করোনা গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। একাধারে চলছে করোনা টিকাদানের কাজ। গত বছরও একই সময়ে গোটা বিশ্বের করোনা পরিস্থিতি ঊর্ধ্ব গগনে ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই এই পবিত্র মাসটিতে ইসলাম সম্প্রদায়ের মানুষদের অনেক বিধিনিষেধ মানতে হয়েছিল। নামাজের জামায়াতগুলোকেও স্থানান্তরিত করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়েছিল।

বাড়তে থাকা করোনা গ্রাফের কথা মাথায় রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য প্রটোকল জারি করেছে। ‘হু’-এর (WHO) বার্তায় উঠে এসেছে মূলত অতি ভিড় এলাকা, যেমন মার্সি টেবিল এড়ানো উচিত। এছাড়াও বলা হয়েছে, সাধারণত রমজান চলাকালীন ধর্মপ্রাণ মানুষেরা মসজিদে জাকাত অর্থাৎ দান করে থাকেন, সেটা খাবারও হতে পারে আবার আর্থিক সাহায্য হতে পারে। সেই সব দান মসজিদ কর্তৃপ আবার দুস্থদের দান করেন। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছে রান্না করা বা প্যাক করা খাবার দানের জন্য না দিয়ে দানের অর্থ COVID-19 টিকাকরণের জন্য ব্যবহার করা হোক। রমজানের উপবাসের সময়ে বেশিরভাগ মুসলমান দিনের বেলা খাবার এবং পানীয় থেকে বিরত থাকেন। সেক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে ‘সুহুর’ অর্থাৎ ভোরের খাবার এবং ইফতারের খাবার আয়োজনের জন্য একত্রিত না হয়ে সেগুলিকে ভার্চুয়াল ভাবে পালন করা উচিত।

এদিকে ২০২১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে করোনা গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ফরিদুল হক জানান, বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ৯ মে দিবাগত রাতে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর’ পালিত হবে। রমজান মাসের চাঁদ দেখার পর থেকেই ঘরে ঘরে রোজার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। করোনা মহামারির কারণে দেশের মসজিদগুলোতে প্রতি ওয়াক্ত ও তারাবিহ নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে সোমবার আদেশ জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীসহ দেশের মসজিদগুলোতে এশার নামাজের পরে প্রথম তারাবির জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মাসে প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিবাভাগে পানাহার বঞ্চিত থেকে সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে মহান আল্লাহ তায়া’লার অনুগ্রহ কামনা করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। রাত কাটাবেন ইবাদত-বন্দেগিতে।

বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি থেকে রা পেতেও মহান আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করবেন তারা। রমজান শেষেই দেখা মিলবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের।

রোজার ফজিলত ও তাৎপর্য

ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে--সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হলো আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নিয়ত সহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে মদিনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী (তাকওয়াবান) হও।’ (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩)

সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন : ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে।’

পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর ভেতর থেকে কিছু হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো : প্রিয় নবীজি (সা.)-এর প্রিয় সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।’ (বুখারী ও মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন : ‘বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতীত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারী ও মুসলিম)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন : রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢালস্বরূপ।

তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার। সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রাণের চেয়েও উওম।

রোজাদারের খুশির বিষয় দুইটি--যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারী)

অপর একটি হাদিস আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন : রোজা এবং কুরআন (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)। (বায়হাকী)

হাদিস আরো এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘যখন রমজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো। আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা এ মাসের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।’ (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)

হাদিসে এসেছে, নবী কারিম (সা.) বলেছেন : ‘কেউ যদি (রোজা রেখেও) মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু পানাহার ত্যাগ করায় (অর্থাৎ উপবাস ও তৃষ্ণার্ত থাকা) আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী)
পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এই মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা বেড়ে গেছে আরো বহুগুণ। রমজানের ফজিলত নিয়ে আরো অনেক হাদিস বিভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়া’লা এই মাসের রোজা গুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল। এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো। এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোজখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না। এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ্য রাখে না যে, রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়া’লা এই সওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়া’লা তাকে হাউজে কাওসার থেকে পানি পান করাবেন যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত।
এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দিক মাগফিরাত, আর তৃতীয় দশক হচ্ছে দোজখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোজখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)
প্রিয় নবীর প্রিয় সাহাবী আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন : ‘রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ছিঁড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসায়ী)
সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন, অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতীত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। (নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না)। (ইবনে মাজাহ, নাসায়ী)
আবু হুরায়রা (রা.) আরো বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন : ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)
রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন : রমজানের জন্য বেহেশত সাজানো হয় বছরের প্রথম থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম দিন উপস্থিত হয় বেহেশতের গাছের পাতা থেকে আরশের নিচে বড় বড় চোখ বিশিষ্ট হুরদের প্রতি বিশেষ হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলে, হে পালনকর্তা! আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে।
রহমত, মাগফিরাত ও নারকীয় জীবনের স্পর্শ থেকে মুক্তি লাভের অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবছর ফিরে আসে মাহে রমজান। আসে তাকওয়ার উত্তাপ অনুভব করাতে, যা কিছু অকল্যাণকর, অন্ধকারময় তা থেকে ব্যক্তির অন্তর ও বাহ্য জগৎকে বিমুক্ত করে শুদ্ধ-আলোকিত মানুষের উন্মেষ ঘটাতে। তবে তার জন্য প্রয়োজন মাহে রমজানকে যথার্থভাবে যাপন, সিয়াম পালনের নীতি-বিধান বিষয়ে সম্যক জ্ঞানার্জন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে আজীবন চলার তাওফিক দান করুন। আমিন
লেখক : সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক।






Leave Your Comments


ধর্ম এর আরও খবর