প্রকাশিত :  ১২:৪১, ২৯ এপ্রিল ২০২১

রমজানের পথ ও পাথেয়

রমজানের পথ ও পাথেয়

আত্মশুদ্ধির মাস রমজানুল মোবারক বান্দার জন্য আল্লাহ তায়া’লার অনেক বড় নেয়ামত। এই মাসের দিবস-রজনীকে আল্লাহ তায়া’লা খায়ের ও বরকত (উত্তম প্রতিদান) দ্বারা পূর্ণ করে রেখেছেন। তাকওয়া অর্জনের অনুশীলনের জন্য এবং ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সব আমলের জন্য ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। এ মাস শুধু একটি মাসই নয়; বরং গোটা বছরের এটা তাপকেন্দ্র। এ মাস থেকেই মুমিন গোটা বছরের তাকওয়া-তাহারাতের সঞ্চয় গ্রহণ করে। পুরো বছরের ঈমানি প্রস্তুতি এ মাস থেকেই গ্রহণ করে।

হাদিসের ভাষায় : ‘আল্লাহ তায়া’লার কসম! মুসলমানদের জন্য এর চেয়ে উত্তম মাস আর নেই এবং মুনাফেকদের জন্য এর চেয়ে ক্ষতির মাসও আর নেই। মুসলমান এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সঞ্চয় করে।

নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, এ মাস মুমিনের জন্য গণিমত এবং মুনাফেকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ) উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা গেল যে, রমজানের খায়ের ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকা মুনাফেকির দলিল। আল্লাহ তায়া’লা আমাদের নেফাক থেকে রক্ষা করুন এবং মুমিনের মতো এ মাসের ইস্কেকবালের (সাদর সম্ভাষণ ও স্বাগত জানানোর) তওফিক দান করুন এবং মুমিনের মতোই এই মূল্যবান সময়কে কাজে লাগানোর তওফিক নসিব করুন।

আল্লাহ তায়া’লা যেমন রমজানকে খায়ের ও বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের মৌসুম বানিয়েছেন, তেমনি গোটা বছরের ঈমানি শক্তি সঞ্চয়ের কেন্দ্র বানিয়েছেন। এরই সঙ্গে আরও অনুগ্রহ করেছেন যে, এ মাসে সৃষ্টিজগতে এমন অনেক অবস্থা ও পরিবর্তনের সূচনা করেন, যা গোটা পরিবেশকেই খায়ের ও বরকত দ্বারা ভরপুর করে দেয়। হাদিসে এসেছে-এ মাসে আল্লাহর হুকুমে জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বড় বড় জিন ও শয়তানকে বন্দি করা হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে : ‘হে কল্যাণ-অন্বেষী, অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের পথিক,  থেমে যাও।’

এসবের প্রভাবে রমজান মাসে চেতনে বা অবচেতনে ভালো কাজের দিকে আগ্রহ হতে থাকে। সৌভাগ্যশালী ওইসব ব্যক্তি, যারা এই আসমানী প্রেরণাকে মূল্য দেয় এবং সাহস ও হিম্মতের সঙ্গে কর্মের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা যদি রমজানের ফাজায়েল সম্পর্কে অবগত হই, তবে বুঝতে পারব রমজান হলো-তিজারতের (ব্যবসার) মৌসুম। কিন্তু কোথাকার তিজারত? রমজান হলো-আখেরাতের তেজারতের মৌসুম। যে তেজারতের মাধ্যমে মানুষ আখিরাতের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে, যে তেজারতের লভ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতুন নাঈম, যে তেজারতে সফল হওয়া ছাড়া দুনিয়ার সব তেজারতই শুধু ব্যর্থতা ও ব্যর্থতা।

রমজানে দুনিয়াবী তেজারত নিষিদ্ধ নয়, তবে এমনভাবে তাতে মগ্ন হয়ে পড়া যেন এ মাস এই তেজারতেরই জন্য এসেছে-এমনটা ভাবা ঠিক না। বিশেষত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রমজানের শেষ দশকে যে অবস্থা আমাদের সমাজে পরিলক্ষিত হয়, তা তো খুবই বেদনাদায়ক। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বিক্রিতে মশগুল, আর অন্যরা শুধু পণ্য ক্রয়ে নয়, মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোর পরিদর্শন ও প্রদক্ষিণে মগ্ন, না ফরজ নামাজের জামাতের গুরুত্ব, না তারাবির জামাতে উপস্থিতি, না পূর্ণ তারাবি পড়ার তওফিক। তেলাওয়াত, তাসবিহ, দোয়া ও রোনাজারির (কান্নাকাটি) তো প্রশ্নই অবান্তর। এছাড়াও রয়েছে অশালীন চলাফেরা, যা রমজানের পবিত্রতাকে নষ্ট করে।

আমাদের মনে রাখা উচিত, প্রকৃতপক্ষে রমজান হলো-আখেরাতের তেজারতের মৌসুম। এ মাসের সময়গুলো খুব বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা উচিত। অন্তত ফরজ রোজা এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদা তারাবির সঙ্গে সেহরির সময় তাহাজ্জুদ, কিছু পরিমাণে হলেও জিকির ও তেলাওয়াত প্রত্যেকেরই করা উচিত। বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে এতখানি মগ্ন হওয়া উচিত নয় যে, ফরজ নামাজের জামাত ও তারাবি ছুটে যায়। এছাড়া তেজারতে ধোকাবাজি ও প্রতারণা এবং সুদ ও জুয়া সহ অন্য সব হারাম কার্যকলাপ থেকে তো সারা বছরই বেঁচে থাকা ফরজ, রমজান মাসে-এর অপরিহার্যতা আরও বেড়ে যায়। কেননা বরকতপূর্ণ সময়ের গুনাহও অত্যন্ত কঠিন ও ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে।

রমজানের রোজা ইসলামের মূল স্তম্ভের একটি। রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। রমজান আসে গুনাহ মাফ করানোর জন্য। রমজান আসে মুমিনের জীবনকে নতুনভাবে সাজানো ও গুছানোর জন্য। রমজান আসে জাহান্নামিদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য। কোনো কাজের প্রস্তুতি ছাড়া ভালোভাবে তা সম্পন্ন করা যায় না। দেখতে দেখতে রমজান চলে যাচ্ছে। আমাদের পথ ও পাথেয় সংগ্রহ করে রাখা উচিত।

বাজার সদাই ও ঈদের কেনাকাটা করে রাখা

রমজানের পুরো সময়ই গুরুত্বপর্ণ। একটা মুহূর্তও নষ্ট করা যাবে না। রমজানের সময়কে কাজে লাগাতে হলে রমজানের কেনাকাটা রমজান শুরুর আগেই করে রাখতে হবে। কেনাকাটা দুই ধরনের। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। যেমন-তেল, চাল, ডাল ইত্যাদি। কাঁচাবাজার ব্যতীত বাকি সবকিছু একসাথে এক মাসের বা অন্তত পনেরো দিনের বাজার একসাথে করে রাখব। মাছ, গোশত কিনে ফ্রিজিং করে রাখতে পারি। অফিসে বা দোকানপাটে যাওয়া-আসার সময় প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার করে নিয়ে আসব। খেয়াল রাখব যেন কোনোভাবেই সময় নষ্ট না হয়।

আরেক ধরনের কেনাকাটা হচ্ছে ঈদের জন্য। সবচেয়ে ভালো হয় রমজান শুরু হওয়ার আগে পারিবারিক মিটিংয়ে বসুন। পরামর্শ করুন কার কার জামাকাপড় লাগবে। কোন কোন আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা মানুষজনকে কাপড়চোপড় দিতে হবে। লিস্ট করে পাইকারি মার্কেট হতে কেনাকাটা করে ফেলুন। টেইলার্সে বানানোর মতো হলে অর্ডার দিয়ে দিন। অনেক ভাইকে দেখেছি, রমজান শুরু হওয়ার আগেই রমজান আসার আগেই কেনাকাটা করে ফেলে। সব ঝামেলা শেষ।

গরিবদের জন্য খাদ্য ও উপহার সামগ্রী

রমজান মাসে দেখবেন প্রায় বিত্তবান একে অন্যের বাড়িতে দাওয়াত থাকে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাহেবগণ দাওয়াত খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে যান। কাউকে দাওয়াত খাওয়ানো অবশ্যই ভালো কাজ। তবে মনে রাখতে হবে, এভাবে বিশাল একটি অনুষ্ঠান করে খাওয়ানোর চেয়ে উত্তম হচ্ছে, বাজার সদাই করে গরিব মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া। প্রকৃত হকদারগণ পাবে। আপনার ফায়দা হবে বেশি। অধিকাংশ সময় আমরা এমন লোকদের দাওয়াত করে খাওয়াই, যাদের ঘরে খাবারের অভাব নেই। কিন্তু আমাদের সমাজের এমন অনেক পরিবার আছে যারা সামান্য খাবার খেয়ে রোজা রাখবে। আমার আপনার দস্তরখানে বাহারি খাবার, মাছ মাংস, ফলমূল, দুধ-কলা থাকে। আমি কি পারি না আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকজন গরিব মানুষকে রমজানের বাজার করে দিতে? 

হাদিসে এসেছে, কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব আল্লাহ তায়া’লা তাকে দান করেন। এখানে ইফতার করানো মানে আপনার সাথে বসে ইফতার করাতে হবে, এমন না। আপনি বাজার করে দেন; সে তার মতো রান্না করে খাবে। অথবা নগদ টাকাও দিয়ে দিতে পারেন। সে বাজার করে নিবে।

যাকাত প্রদানের প্রস্তুতি

প্রতি এক বছর পরপর জাকাত ফরজ হয়। যাকাত দিতে হয় হিসাব করে। শতকরা ২.৫০ পার্সেন্ট যাকাত দিতে হয়। আপনার সম্পত্তি কোথায় আছে, কার কাছে আছে, কত টাকা ঋণ আছে, কত টাকা বাদ দিয়ে যাকাতের হিসাব করতে হবে ইত্যাদি সময় সাপেক্ষ বিষয়। আপনার ঝামেলা মনে হলে বিজ্ঞ কোন মুফতি সাহেবের শরণাপন্ন হন। যাকাতের হিসাব করুন। তারপর কাকে কাকে যাকাত দিবেন, কোথায় দিবেন, এসব ফাইনাল করে ফেলুন। কারণ, রমজান আসার পর এতকিছু ভাবার সময় নাও পেতে পারেন। আগেই হিসাব করে রাখুন; রমজান আসার পর গ্রহীতার কাছে যাকাত পৌঁছে দিন। 

জাকাত হিসেবে নগদ টাকাও দেওয়া যায়; আবার মূল্যবান যেকোনো জিনিসও দেওয়া যায়। খাবার বা কাপড় চোপড় দিতে পারেন। শিক্ষাসামগ্রী দিতে পারেন। গরিব, ইয়াতিম ছাত্রকে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বা বইপত্র কিনে দিলেও হবে। তাই জিনিসপত্র দিয়ে জাকাত আদায় করলে তো কেনাকাটা করতে হবে এবং কাদেরকে দিবেন, তাও নির্ণয় করা দরকার। এ কাজগুলো রমজান আসার আগেই করে ফেলা উচিত।

তারাবির নামাজ যত্ন করে পড়ুন

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবির নামাজ। অবশ্যই খতম তারাবি পড়ব। মারাত্মক সমস্যা হলে সূরা তারাবি পড়া যায়। তবে আমরা চেষ্টা করব খতম তারাবির জন্য। যেসব মসজিদে খুব দ্রুত তেলাওয়াত করে সেসব মসজিদে না যাওয়া উত্তম। যেসব মসজিদে খুব আস্তে আস্তে তেলাওয়াত করে সেখানে যান। আজকে তো আমরা এসি মসজিদ খুঁজি। ধীরে তেলাওয়াতের মসজিদ খুঁজি না। তারাবিকে আজকাল আমরা তাড়াহুড়োর নামাজ বানিয়ে ফেলেছি। আমি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কেউ হলে মসজিদে যেন তারাবি আস্তে আস্তে তারতিলের সাথে পড়ে, এজন্য চেষ্টা করব। সম্ভব না হলে আমিই দূরে কোথাও চলে যাব, যেখানে সুন্দরভাবে তেলাওয়াত হয়। আপনি মসজিদের দায়িত্বশীল হলে তারাবির ইমাম ঠিক করাও দরকার। অনেক ব্যবসায়ী ভাই খতম তারাবিতে মসজিদে যেতে পারেন না, তারা মার্কেটে বা কোনো বাসাবাড়িতে তারাবি পড়েন এবং তারা ১০-১৫ দিনে খতম করে বাকি দিন সূরা তারাবি পড়েন। কারণ, রমজানের শেষ দিকে প্রচ- ব্যস্ততা থাকে তাদের।

কুরআনের তেলাওয়াত বিশুদ্ধ করুন

আমাদের অনেকের তেলাওয়াত শুদ্ধ নয়। রমজান মাসে অনেকের সময় থাকে। খাওয়াদাওয়ার ঝামেলা থাকে না। নানান ব্যস্ততা কমিয়ে ফেলে। তাই যাদের তেলাওয়াত শুদ্ধ নয়, তারা তেলাওয়াত শুদ্ধ করার পরিকল্পনা করতে পারেন। বাসায় বা মসজিদে বা অন্য কোথাও। সবচেয়ে ভালো হয় নির্দিষ্ট একটা সময়ে কয়েকজন মিলে একজন উস্তাদের কাছে পড়েন। কুরআন নাজিলের মাসে কুরআন বিশুদ্ধ করার চেষ্টাও ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

অর্থসহ কুরআন পড়ুন

অনেকের তেলাওয়াত শুদ্ধ মাশাল্লাহ। তাদের চেষ্টা করা উচিত কুরআনের তরজমা ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পড়ার। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অনেক তরজমা ও তাফসির রয়েছে। তরজমা ও তাফসির বাছাইয়ের জন্য অবশ্যই নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। আপনি কোন তরজমা বা তাফসির পড়বেন, এটা আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।

প্রতিদিন রোজাদারকে ইফতার করানো

আগে আমরা বলেছি রমজানের আগেই নিজের সাধ্যমত বাজার সদাই করে গরিব মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। এটা তো অবশ্যই উত্তম। আরেকটা হচ্ছে আপনি ইফতারের সময় কোনো মেহমান বা কাউকে নিয়ে ইফতার করলেন। রোজাদারকে ইফতার করালে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই অন্তত একজনকে হলেও সাথে নিয়ে ইফতার করব। আরও বেশি সামর্থ্য থাকলে আরও বেশি লোকজনকে ইফতার করানো উচিত। অথবা ইফতার বানিয়ে কারও বাসায় পাঠিয়ে দিলেন। অসহায়, গরিব, মুসাফির, আলেম, আত্মীয়স্বজন ও পড়শীদের মধ্য থেকে যে কাউকেই বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে মুত্তাকি ও দ্বীনদারদের প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

পরিবারের মহিলাদের সহযোগিতা করুন

রমজানে মহিলাদের রান্নাবান্নার ব্যস্ততা বেশি থাকে। তাদের সহযোগিতা করা উচিত। যেন অল্প সময়ে রান্নাবান্নার কাজ শেষ করে তারাও ইবাদতে সময় দিতে পারে।

রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতেকাফ

রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করার বিরাট ফজিলত রয়েছে। ইতেকাফে বসতে হলে এখন থেকেই আপনাকে সবকিছু গোছাতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে। নইলে ঝামেলায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ এলাকার মসজিদে ইতেকাফ করা উচিত। তবে নিজের শায়খ বা বুজুর্গ কোনো আলেমের সোহবত নেওয়ার জন্য দূরে ইতেকাফ করতে হলেও সমস্যা নেই। ইতেকাফ সম্পর্কে আমাদের মাঝে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। ইতেকাফের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রমজান মাসে গোনাহের কাজ ত্যাগের অঙ্গীকার করুন

ভাই! রমজান চলে আসছে, এখনও আপনি গোনাহে লিপ্ত?! আগে যা করেছেন তাতো করেছেনই। এখন রমজানের উসিলায় সেগুলো বন্ধ করুন। আগে সিগারেট খেতেন, এখন পরিত্যাগ করুন। নাটক-মুভি দেখতেন, তা ছেড়ে দিন। নিজেকে বুঝান যে, এটাই হতে পারে আমার জীবনের শেষ রমজান। গোনাহ ও বদ অভ্যাসগুলো রমজানের উসিলায় ছাড়তে পারলে দেখবেন সারা জীবনের জন্য ছাড়া হয়ে গেছে।

তাওবা করুন

সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হচ্ছে অতীতের সকল গোনাহ থেকে তাওবা করা। আল্লাহ তায়া’লার কাছে তাওবা করুন। কান্নাকাটি করে বলুন, হে আল্লাহ! এসব গোনাহ আর করব না। আমাকে সুন্দরভাবে একটি রমজান কাটানোর তাওফিক দান করো। আল্লাহ তায়া’লা তাওবা কবুলের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। বান্দার তাওবায় তিনি অত্যন্ত খুশি হন। তাই আসুন! রমজান আসার আগেই সকল গোনাহ থেকে আমরা তাওবা করি।

ঈদুল ফিতর বিশ্বাসের বিশ্বজনীন উৎসব

সারা বিশ্বের একশ পঞ্চাশ কোটি মুসলমানের হৃদয় জুড়ে ঈদ আসে প্রতি বছর। ঈদের আনন্দ অনুভব করে মুসলিম সমাজের প্রতিটি সদস্য। ঈদ ধনী গরিব, সাদা কালো সকল মুসলমানের জন্যেই সমান। আরব আজম তথা এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া যেখানেই আছে মুসলিম, সেখানেই আছে ঈদ। ঈদের আনন্দে সকল মুসলমানের সমান অধিকার। ভৌগলিক সীমানার সাথে নেই এর কোনো সম্পর্ক। এর সম্পর্ক বিশ্বাস ও আদর্শের সাথে।

মুসলিম কোনো ভৌগোলক জাতি নয়, ভাষাকেন্দ্রিক জাতি নয়, নয় নিরেট কোনো ধর্মীয় জাতি। মুসলমান একটি উম্মতের নাম। ‘মুসলিম উম্মাহ’ হিসেবে এর পরিচয়। কতগুলো সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস ও বিধানের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে এ উম্মাহ। তাই এটি একটি আদর্শিক উম্মাহ। অর্থাৎ মুসলমান একটি আদর্শিক জাতির নাম। সারা বিশ্বের মুসলমান একই বিশ্বাস ও বিধানের অনুসারী। একই সাংস্কৃতিক মূল ধারার অধিকারী তারা। কারণ তাদের সভ্যতা সাংস্কৃতি তো তাদের আদর্শ প্রসূত। পুরো এক মাসব্যাপী মুসলমান এভাবে আত্মসংযম, সততা, সত্য নিষ্ঠা, আল্লাহভীতি, আল্লাহর গোলামি ও আনুগত্য এবং নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতার যে অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, ঈদুল ফিতর সেই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী উৎসব অনুষ্ঠান। এ দিনটি মাসব্যাপী সফল প্রশিক্ষণ গ্রহণের সমাপনী উৎসবের দিন।

রমজানের এক মাসের প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে যদি বছরের বাকি মাসগুলোতে সততা ও দক্ষতার সাথে জীবনের সমস্ত কাজ পরিচালনা করা হয়, তবেই মুসলিম জাতি হিসেবে আমরা ফিরে পেতে পারি আমাদের সেই হারানো গৌরব। তবেই সফল হতে পারে আমাদের ঈদ। আমরা কি পারি না আমাদের ঈদের আনন্দকে রোজার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে জীবন ও সমাজ পরিচালনার দীপ্ত শপথে পরিণত করতে? আমরা কি পারি না ঈদের শিক্ষার ভিত্তিতে আমাদের সমাজ বিনির্মাণের শপথ নিতে?

লেখক : সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক



Leave Your Comments


ধর্ম এর আরও খবর