প্রকাশিত :  ০২:৪৫, ০২ মে ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১৭, ০২ মে ২০২১

বাংলাদেশে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের মানবিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশে ক্যাপ ফাউন্ডেশনের মানবিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন

জনমত ডেস্কঃ ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের চ্যারিটি সংস্থা ‘কমিউনিটি এগেইনস্ট পোভার্টি’ সংক্ষেপে সিএপি বা ক্যাপ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ ও কর্মসূচির ভূয়সি প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

তিনি ক্যাপ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্ণধারদের প্রশংসা করেন। এক ভিডিও বার্তার শুরুতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহে রমজানের এক শুক্রবারে ৩০ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করায় ক্যাপ ফাউন্ডেশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,আমি কয়েক বছর ধরে এই ক্যাপ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন চ্যারিটি প্রোগ্রাম দেখছি, এই আমাদের বাংলাদেশের জন্য। ইতিমধ্যে আমি তাদের একাধিক প্রোগ্রামে গিয়েছি এবং লন্ডনের চ্যারিটি প্রোগ্রামেও যোগদান করেছি। তারা নিজেরাই তাদের আয় থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এই ফাউন্ডেশনের জন্য বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডে ইভেন্ট করে যাচ্ছেন। 


ক্যাপ ফাউন্ডেশন সম্প্রতি সিলেটে ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করে ছবি ক্যাপ এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহিত 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাপ এর অর্থ “কমিউনিটি এগেইনস্ট প্রভার্টি”। এই স্লোগান এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের জেলায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে গত এগারো বছর ধরে। যেমন- ঢাকা বিভাগ, কক্সবাজার বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ সহ অন্যান্য। এই গত এক বছরে কোভিড-১৯ মহামারির মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ  অবস্থার মাঝেও এই সংস্থাটি মানুষের কল্যাণের জন্য  অমানুষিক পরিশ্রম করে গেছে। তারা করোনা থেকে মানুষের সুরক্ষার জন্য পুরো সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায়  হাজার হাজার পিপিই, ফেস মাস্ক, ফেস শিল্ড, হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যেমন-  সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও শামসুদ্দিন সদর হাসপাতাল। এই ক্যাপ ফাউন্ডেশন হাজার হাজার পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাক এর মাধ্যমে এক মাসের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের জন্য ক্যাপ ফাউন্ডেশন যেসকল কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে, তারও বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্যাপ এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রোগ্রাম হচ্ছে

- তারা স্যানিটেশন, উন্নত ল্যাট্রিন এর ব্যবস্থা করে এবং অনেক লোকের স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন সারা বাংলাদেশ জুড়ে। 

- ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ক্যাপ ফাউন্ডেশন প্রায় এক হাজারেরও বেশি রিক্সা, সেলাই মেশিন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গরীব দুঃখী মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন যেন তারা তাদের নিজেদের আয়ের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারে।

- ইতিমধ্যে ক্যাপ ফাউন্ডেশন তাদের দাতাদের মাধ্যমে হাজার হাজার গভীর জলের নলকূপ সারা বাংলাদেশে দিয়ে যাচ্ছেন যেন বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষ জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন।

- ক্যাপ ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে পাঁচটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিস্থাপন করেছে বৃহৎ সিলেট বিভাগে যেন গরীব দুস্থ শিশুরা সুষ্ঠু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।


‘ফিশ ফর লাইফ’ প্রজেক্টির মাধ্যমে প্রায় ২০০ টি পরিবারের ১০০০ মানুষকে সাবলম্বী করে তুলেছে ক্যাপ ফাউন্ডেশন। ছবি ক্যাপ এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহিত 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন আরো বলেন, ‘ফিশ ফর লাইফ’ প্রজেক্ট আমি নিজেই ২০১৯ সালের মে মাসে সিলেটে উদ্বোধন করেছিলাম এবং এই প্রজেক্টির মাধ্যমে প্রায় ২০০ টি পরিবারের ১০০০ মানুষের আয় রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদেরকে সাবলম্বী করে তুলেছে এই ক্যাপ ফাউন্ডেশন।

“ভিলেজ কর্নার শপ” এর কথা উল্লেখ করে মি. মোমেন বলেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট যে মুদির দোকান, তেমিন অনেকগুলো দোকান ভিলেজ কর্নার শপ প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা করে দিচ্ছেন এবং এখনও তারা এই মুদির দোকানগুলো করে দিয়ে যাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ,  বিশেষত বিধবা মহিলা এবং একেবারে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য।