প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ০৪ মে ২০২১

সুরমার ভাঙনের কবলে সুনামগঞ্জ শহরতলির হবতপুর গ্রাম

সুরমার ভাঙনের কবলে সুনামগঞ্জ শহরতলির হবতপুর গ্রাম

সুনামগঞ্জ শহরতলির লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হবতপুর সুরমার ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে। গেল প্রায় ৪০ বছর ধরে এই গ্রাম নদী ভাঙনের শিকার। ইতিমধ্যে গ্রামের ৫০ পরিবারের জমি বাড়ি ভাঙনে পড়েছে। গৃহহীন হয়েছেন ২৫ পরিবার। নদী ভাঙন প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

হবতপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, গ্রামের আব্দুর রশিদ, আপ্তাব উদ্দিন, জুনাব আলী, আতর আলী, হুসেন আলী, শফিকুল ইসলাম, আজাদ মিয়া, এনামুল হক, ফয়েজুল হক, আমিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, এমদাদুল হক, নাজমুল হক, আলম হোসেন, মোশারফ আলী, মনফর আলী, আজমিলা বেগম, নাছির উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, ছায়াতুন নেছা, অলিউর রহমানসহ আরও অনেকের ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়েছেন।

দীর্ঘ ৪০ বছরে নদী ভাঙনে ৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গ্রামের চলাচলের সড়ক, দোকানপাট, ফসলি জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। বসতবাড়ি হারিয়েছেন ২৫ পরিবার। কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেবার জন্য মৌখিক ও লিখিতভাবে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন গ্রামবাসী । কিন্তু এই পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত আজমিলা বেগম বলেন, আমার বাড়ি ছিল, জমিও ছিল। এখন কোনো কিছইু নাই। এখন অন্যের বাড়িতে থাকছি।

ক্ষতিগ্রস্ত ছায়াতুন নেছা বলেন, নদী ভাঙনে শুধু আমাদের ক্ষতি হয়নি, ক্ষতি হয়েছে অর্ধশত পরিবারের। গৃহ হারা হয়েছেন অনেকে। নদী সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

শাহানারা বেগম বলেন, আমার বাড়ি-ঘর সব কেড়ে নিলো সুরমা নদীর ভাঙনে।

আব্দুর রহমান বলেন, অর্ধেক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জরুরিভাবে এই ভাঙন প্রতিরোধ প্রয়োজন।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও গ্রামের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে মৗখিক ও লিখিতভাবে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

লক্ষণশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, হবতপুর এলাকায় নদী ভাঙনে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষ আরও ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।

সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, স্থায়ী নদী শাসনের জন্য প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। এখনও প্রক্রিয়াধিন আছে এই প্রকল্প প্রস্তাবনা।



Leave Your Comments


সিলেটের খবর এর আরও খবর