প্রকাশিত :  ২২:৫০, ০৩ জুন ২০২১

বাংলাদেশের “নতুন ই- পাসপোর্ট”ঃ দেশবাসী ক্ষুব্ধ!

বাংলাদেশের “নতুন ই- পাসপোর্ট”ঃ দেশবাসী ক্ষুব্ধ!

দেওয়ান ফয়সল 

সম্প্রতি বাংলাদেশী নতুন ই- পাসপোর্টে "এক্সসেপ্ট ইসরায়েল” শব্দ দুটি উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে "এক্সেপ্ট ইসরায়েল” শব্দটি পাসপোর্টে ব্যবহার হয়ে আসছিলো এ কথা সবারই জানা। হঠাৎ করে সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলো তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা এবং ক্ষোভ জমে উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই ক্ষোভ জমে ওঠার আরও কারণ হচ্ছে, পাসপোর্টে লেখা রয়েছে "দিস ই-পার্সপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্যা ওয়ার্লড”। যার অর্থ হচ্ছে, এই ই- পাসপোর্ট দুনিয়ার সব দেশ ভ্রমণের জন্য বৈধ। তাহলে মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, মুসলমানের চির শত্রু ইসরাইল ভ্রমণেও আর বাধা নেই! হায়রে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ! আজ আমরা কোথায় গিয়ে পৌছেছি? বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালে ইসরাইল যখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে, তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের স্বীকৃতিকে সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করে দেন। 

বর্তমানে ই- পাসপোর্টের এই স্দ্ধিান্তটি সরকার এমন এক সময় নিলো যখন মুসলমানদের চিরশত্রু ইসরায়েলী সৈন্যরা আলআকসা মসজিদে নামাজরত ফিলিস্তিনি  মুসলমানদের উপর গুলিবর্ষণ করে অগণিত মানুষকে হত্যা এবং আহত করে। ১১ দিনের এই সংঘর্ষে

 মুসল্লিদের রক্তে লালে লাল হয়ে যায় মসজিদের ভিতর এবং বাইরের এলাকা।  গাজায় অবিরাম বোমা বর্ষণ করে নীরিহ নারী পুরুষ সহ শিশুদের হত্যা করে। ভিডিওতে দেখা গেছে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তাদের মায়ের হাত ধরে ইসরায়েলী সৈন্যদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জড়িয়ে ধরে আছে, এমন সময় সৈন্যরা এসে ছেলে মেয়েদের হাত থেকে তাদের মা’কে দু’হাত ধরে টেনে হেঁচরে নিয়ে যাচ্ছে আর তারা মা মা বলে পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছে আর কাঁদছে! কি যে ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো তা বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। ফিলিস্তিনী মুসলমানদের উপর ইসরায়েলের এই বর্বরতা চলছে যুগ যুগ ধরে। 

ইসরাইল নামক দেশটি মুসলমানদের জন্য যে কত ভয়ঙ্কর একটি দেশ, তা লিখতে হলে তাদের পেছনের ইতিহাস একটু লিখতে হয়। ২০১৭ সালে বিবিসি বাংলা নিউজে এক প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ আমি এখনে তুলে ধরছি যাতে পাঠকরা বুঝতে পারেন ইহুদীরা কত ধূর্ত প্রকৃতির। 

“ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস এলাকা। ১৯৩০ দশকে পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদীরা এখানে এসে কৃষি খামার গড়ে তুলেছিলো। ইহুদিদের পাশেই ছিলো ফিলিস্তিনী আরবদের বসবাস। সেখানে আরবদের কৃষি খামার ছিলো। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে এখানে বসবাস করছিলো। সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলো। কিন্তু ১৯৩০ দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে, তারা ধীরে ধীরে জামি হারাচ্ছে। ইহুদীরা দলে দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনী বাস্তচ্যুত হয়। তারা ভেবেছিলো দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে তারা বাড়ি ফিরে আসতে পারবে। কিন্তু ইসরায়েল আর কখনো তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়নি। ১৮৯৭ সাল থেকেই ইহুদীরা চেয়েছিলো নিজেদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। 

উল্লেখ্য যে, ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে বৃটেন। ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্য্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি বৃটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিলো।  তখন বৃটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে, ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে। বৃটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে। তৎকালীন বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি  "বেলফোর ডিক্লারেশন” হিসেবে পরিচিত। ইহুদীদের কাছে বৃটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে, ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য ্একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দেবে। 

১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানীর শাসক হিটলার ইহুদীদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন। যার ফলে ইহুদীরা জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদী অভিভাসী ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে আসতে থাকে। তখন ফিলিস্তিনী আরবরা বুঝতে পারে যে, তাদের অস্থিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনী আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুু হয়েছিলো বৃটিশ সৈন্য এবং ইহুদী নাগরিকরা। কিন্তু আরবদের সে বিদ্রাহ কঠোর হস্তে দমন করে বৃটিশ সৈন্যরা। সে সময় ফিলিস্তিনীদের উপর বৃটিশ সৈন্যরা এতো কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিলো যে, আরব সমাজে ভাঙ্গন তৈরী হয়েছিলো। যেহেতু ইহুদীরা তাদের নিজেদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর ছিলো। বৃটেনের সহায়তায় সে অনুযায়ী তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলো। 

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর দ্বারা লাখ লাখ ইহুদী হত্যাকান্ডের পর নতুন আরেক বাস্তবতা তৈরী হয়। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর যে সব ইহুদী বেঁচে ছিলো তাদের জন্য কি করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন ফিলিস্তিন ভূখন্ডে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা তাদের মধ্যে আরো জোরালো হয়। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুরে ধরেন। মি ট্রুম্যান চেয়েছিলেন হিটলারের হাত থেকে বেচেঁ যাওয়া এক লক্ষ ইহুদীকে অতি দ্রুত ফিলিস্তিনের ভূখন্ডে জায়গা দেয়া হোক। কিন্তু বৃটেন বুঝতে পেরেছিলো যে, এতো বিপুল সংখ্যক ইহুদীদের ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে নিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে তাই তারা তা করেনি।  

সে সময় ইহুদীদের সশস্ত্র দলগুলো বৃটিশ সৈন্যদের উপর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো শুরু করে। তখন ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে জাহাজে বোঝাই হয়ে আসা হাজার হাজার ইহুদীদের বাধা দেয় বৃটিশ বাহিনী। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয় নি। তখন ইহুদী সশস্ত্র দলগুলো বৃটিশ বাহিনীর উপর তাদের আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাতে ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের জন্য বৃটেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সমাধানের জন্য বৃটেনের উপর চাপ বাড়তে থাকবে। এরপর বাধ্য হয়ে বৃটেন বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে যাবে। 

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখন্ডে দু’টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদীদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য। ইহুদীরা মোট ভূখন্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। কিন্তু আরবদের জনসংখ্যা এবং জমির মালিকানা ছিলো দ্বিগুণ। স্বভাবত:ই আরবরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। কিন্তু ফিলিস্তিন ভূখন্ডে তখন ইহুদীরা বিজয় উল্লাস শুরু করে। অবশেষে ইহুদীরা একটি স্বাধীন ভূখন্ড পেলো। জাতিসংঘের এ সিদ্ধন্তের পর আরব এবং ইহুদীদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। তখন ইহুদীদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিলো। ইহুদীদের বড় সুবিধা ছিলো তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব। এর বিপরীতে আরবদের কোন নেতৃত্ব ছিলোনা। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিলো যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবেনা। তাই সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরী ছিলো ইহুদীরা। সবার দৃষ্টি ছিলো জেরুজালেম শহরের দিকে। মুসলমান, ইহুদী এবং খুষ্টানদের জন্য পবিত্র এ জায়গা।” 

আমাদের দেশে একটি কথা চালু আছে- "বসতে পেলে  শুতে চায়”। উপরোক্ত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, ইহুদীরা ১৯৩০ দশক থেকেই ফিলিস্তিনে এসে বসবাস শুরু করে। সে সময় তারা মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ধীরে ধীরে তাদের হাত প্রসারিত করতে থাকে। ইহুদীরা খুবই ধূর্ত প্রকৃতির ল্কো। তারা প্রখর বুদ্ধির অধিকারী। তারা প্রথম এখানে এসে থাকার জায়গা করেছে এবং পরে ধীরে ধীরে পুরো ফিলিস্তিনকে গ্রাস করতে চলেছে। ফিলিস্তিনী মুসলমানদের সরলতা এবং অতিথিপরায়নতার সুযোগটাই তারা কাজে লাগিয়েছে।

 তাদের প্রধান শক্তি হচ্ছে বৃটেন এবং আমেরিকা সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো, যারা বর্তমান সময়ের জন্য বিশ্বের শক্তিধর দেশ। অন্যদিকে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো কোন সময়েই এক হতে পারে না। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, বৃটেন এবং আমেরিকার প্রধান লক্ষ্যই হলো তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোকে কব্জায় রাখা। এ দেশগুলোকে তাদের হাতের মুঠোয় রাখতে হলে তাদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে রাখা, যাতে এক না হতে পারে। এর ফলে তাদের লাভ দুটো। প্রথমত: হচ্ছে , ইসরায়েলকে তারা নিরাপদে রেখে ধীরে ধীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে গ্রাস করা। দ্বিতীয়ত: হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত রাখতে পারলে তারা এসব দেশে অস্থ্র বিক্রি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে, যা আমরা বর্তমানে দেখতে পারছি। তারা এ কথা ভালো ভাবেই জানে যে, যদি বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কোন সময় এক হয় তাহলে বিশ্বে তাদের দৌরাত্ম শেষ হয়ে যাবে। ইসরায়েলতো ধ্বংস হবেই, সেই সঙ্গে তারা যত শক্তিশালী হোক না কেন মুসলমানদের কাছে মাথা নত করতেই হবে, তাদের সেই শক্তি মুসলমানদের হাতে চলে যাবে। সুতরাং যে ভাবেই হোক মুসলমানদের দমিয়ে রাখতেই হবে। 

মুসলমানদের মনে রাখতে হবে, ইসরাইলের চিন্তধারা শুধু ফিলিস্তিনই নয়, তারা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রেটার ইসরাইল গঠন করার। গ্রেটার ইসরাইল গঠনের লক্ষ্যে নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে। এই গ্রেটার ইসরাইলের মধ্যে  বর্তমানে জর্দান, সিরিয়া ও সৌদি আরবের অনেক অঞ্চলও অন্তর্ভূক্ত। 

 ইসরায়েলের এই ইহুদী জাতি হচ্ছে আমাদের সিলেটী ভাষায় "পাতালত” (শুদ্ধ ভাষায় বলে ঝিংলাপরা) সাপের মতো। এ সাপ যাকে একবার ছোবল মারে, ওঝাও নাকি তার বিষ নামাতে পারেনা। সুতরাং বাংলাদেশকে এই বিষাক্ত সাপের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে গেলে ৫০ বছর বা তারও বেশি পরে হলেও ছোবল যে খেতে হবে সেটা মাথায় রেখে চিন্তা ভাবনা করে এগুনো উচিৎ। বাংলাদেশের নতুন ই- পাসপোর্ট থেকে "এক্সেপ্ট ্ইসরায়েল” এই শব্দ দ’ুটি বাদ দেওয়ার পর পরই ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা গত ২রা মে খুশীতে ডগমগ হয়ে ইংরেজীতে টুইট করেন যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় "খুশির খবর! ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটি স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ এবং আমি বাংলাদেশ সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই যাতে আমাদের উভয় দেশের জনগণ উপকৃত ও সমৃদ্ধ হতে পারে।”  

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কি রহস্য রয়েছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনা। অবশ্য ই-পাসপোর্টের উপর লেখালেখির সমালোচনার জবাবে আমাদের ফরেন মিনিষ্টার জনাব আব্দুল মোমেন বলেছেন, ইসরায়েলের সাথে আমাদের সম্পর্ক কোনদিন ছিলনা, এখনও থাকবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আমরা আগের অবস্থানেই আছি, আমরা ফিলিস্তিনী মুসলমানদের সাথেই আছি এবং থাকবো। এ প্রসঙ্গে জনাব মুমেন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আমরা  ই- পাসপোর্ট থেকে "এক্সেপ্ট ইসরায়েল” শব্দ দু’টি তুলে দিচ্ছি। গত ৫০ বছর যাবৎ আমাদের পার্সপোর্ট ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং তা সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু হঠাৎ করে এই শব্দ দু’টি বাদ দিয়ে ই- পাসপোর্টের মর্য্যাদা কি বাড়বে এটাই এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন। সবাই ভাবছেন, নাকি "ডাল মে কোচ কালা হে”।

 বিজ্ঞজনেরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন সিন্ডিকেটের দখলে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের ভেতরে সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থান। এই সিন্ডিকেটগুলোতে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলোর একটি বিরাট অংশ। এদের মধ্যে  হয়তো থাকতে পারে ইসরায়েলের এজেন্টও। এই এজেন্টরা হয়তোবা বড় অংকের অথবা বাংলাদেশকে এমন ভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে যাতে বাংলাদেশ একটি স্বর্গরাজে পরিণত হয়, এ ধরণের কোন লোভ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হয়তো বলতে পারেন, এ ধরণের প্রশ্ন কেমন করে আসে? তার সহজ উত্তর হচ্ছে, বাংলাদেশের নতুন ই- পাসপোর্ট থেকে "এক্সেপ্ট ্ইসরায়েল” এই শব্দ দ’ুটি বাদ দেওয়ার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা গত ২রা মে খুশীতে ডগমগ হয়ে ইংরেজীতে টুইট করেন যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় "খুশির খবর! ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটি স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ এবং আমি বাংলাদেশ সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই যাতে আমাদের উভয় দেশের জনগণ উপকৃত ও সমৃদ্ধ হতে পারে।”  

তবে যাই হোক, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। দেশের ভালোমন্দ তারাই বেশি জানেন। আমরা সাধারণ মানুষ এতো আইনের প্যাঁচ বুঝিনা। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশে উজ্বল করার লক্ষ্যে এমন কোন সিদ্ধান্ত যেন না নেয়া হয়, যার খেসারত ফিলিস্তিনী মুসলমানদের মতো আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের দিতে হয়।

কার্ডিফ, ওয়েলস ২রা জুন ২০২১



Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর