‘সংক্রমণের তৃতীয় তরঙ্গ’ চলছে বলে বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি: ‘বিধিনিষেধ শিথিল হলে নন-কোভিড চিকিৎসা ব্যাহত হবে’

প্রকাশিত :  ০০:১৩, ১০ জুন ২০২১

লকডাউনঃ ২১ জুনের ‘মুক্তি’ নিয়ে দোটানায় ব্রিটিশ সরকার

লকডাউনঃ ২১ জুনের ‘মুক্তি’ নিয়ে দোটানায় ব্রিটিশ সরকার

জনমত রিপোর্টঃ পূর্ব ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ি ২১ জুন কী পুরোপুরি উঠছে লকডাউন? বিজ্ঞানীরা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধিনিষেধ পুরোপুরি তোলার ক্ষেত্রে আরো সময় নিতে। আর লকডাউন বিরোধীরা ২১ জুনেই বিধিনিষেধ মুক্ত ‘স্বাধীন’ বৃটেন চান। ভাইরাসের ডেল্টা সংস্করণ, যেটা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত, তার সংক্রামক ক্ষমতা মূল ভাইরাসের চেয়ে ৬০ গুণ বেশি এবং বর্তমানে ইংল্যান্ডে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলেই বিজ্ঞানীরা বিধিনিষেধ এখনই তুলে না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার তথ্য উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করছে এবং প্রয়োজনে লকডাউন প্রত্যাহারের সময়সীমা ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব করা হতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। 

এদিকে নতুন একটি মডেল অনুযায়ি যুক্তরাজ্য এখন সংক্রমণের তৃতীয় তরঙ্গের মুখোমুখি বলে সতর্ক করেছেন প্রফেসর নিল ফার্গুসন। তবে এর মাত্রা কী হবে তা নির্ভর করছে টিকাকরণ কর্মসূচি কতটা সফলভাবে কার্যকর হচ্ছে তার ওপর।

এদিকে এনএইচএস এর সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ি ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম  করোনা সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর মধ্যকার সংযোগকে ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। অফিস ফর দ্যা ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক (ওএনএস) বুধবার জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের প্রতি ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে ৮ জনেরই কোভিড-১৯ পজিটিভ এন্টিবডিস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অর্থ হলো হয় কেউ অতীতে সংক্রমিত হয়েছেন অথবা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।

এদিকে, বুধবার এনএইচএস এর প্রধান নির্বাহী ক্রিস হপসন বলেছেন, যদি লকডাউন রেস্ট্রিকশনস তুলে নেয়া হয় এবং সংক্রমণের নতুন ঢেউ শুরু হয়, তাহলে কোভিড ছাড়া অন্য রোগের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। টাইমস রেডিওকে তিনি বলেন, এমন কী কোভিড সংক্রমণের হার  সামান্যতম বৃদ্ধিও কোভিড এবং নন-কোভিড চিকিৎসার মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য তৈরী করবে। তিনি বলেন, আমরা জানি যে আমাদের আরো উন্মুক্ত হতে হবে এবং এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর উচ্চ হারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা কী এই ঝুঁকিকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি?

তিনি বলেন, দেশের হাসপাতালগুলো এই মূহুর্তে অনেক অনেক ব্যস্ত, অকল্পনীয়ভাবে ব্যস্ত এবং উদ্বেগজনকভাবেও ব্যস্ত। এবং এ কারণেই কোভিড রোগীদের সংখ্যা সামান্যতম বাড়লে আমাদেরকে বিপাকে পড়তে হবে।

কমিউনিটি সেক্রেটারী রবার্ট জেনেরিক বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২১ জুন লকডাউন প্রত্যাহার করে নেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রধান মন্ত্রী বরিস জনসন অনেক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখছেন।

সরকারের সায়েন্টিফিক এডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সি সংক্ষেপে সেইজ এর সাবগ্রুপ এসপিআই-এম কর্তৃক সংকলিত নতুন তথ্য-উপাত্ত সংবাদ মাধ্যমকে জানানোর সময় প্রফেসর ফার্গুসন বলেন, মূলত নতুন মডেল বলছে যে যথেষ্ট তৃতীয় তরঙ্গ ঝুঁকি রয়েছে। (তবে) আমরা এর মাত্রা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারি না। এটি দ্বিতীয় তরঙ্গের তুলনায় যথেষ্ট কম হতে পারে অথবা এটি একই মাত্রারও হতে পারে।

“এটি, মূলত নির্ভর করছে ভ্যাকসিনগুলো লোকজনের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে  ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সহ অন্যান্য অজানা ধরনের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, তার ওপর।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এর ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথএর প্রফেসর অব ইনফেকশাস ডিজিজেস  এলিসন রজার বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, মহামারীর মোকাবেলায় সরকারের কালক্ষেপনের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।




Leave Your Comments


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর