প্রকাশিত :  ১৭:৫০, ১৭ জুন ২০২১

এস-৪০০ কেনায় তুরস্ক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না: বাইডেনকে এরদোগান

এস-৪০০ কেনায় তুরস্ক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না: বাইডেনকে এরদোগান

গত সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

গত সোমবার ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে তুরস্ক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না।

রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের সম্পর্কে দাগ ফেলেছিল। এ কারণে ন্যাটোর এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গত ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

গত সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি ছিল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।

বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, আমি বাইডেনকে বলেছি ‘এফ-৩৫ অথবা এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তুরস্কের কাছ থেকে ভিন্ন পদক্ষেপ আশা করবেন না। এরদোগানের এ কথা অর্থ হলো, তুরস্ক অস্ত্র কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

এ প্রসঙ্গে বাইডেনের বক্তব্য হলো, তুরস্ক রাশিয়ার মিসাইল সিস্টেম কিনে ভুল কাজ করেছে। গত অক্টোবরে তুরস্ক প্রথমবার রাশিয়ার মিসাইল পরীক্ষা করে দেখে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাবধান করে দিয়েছিল।

গতবছর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম না কেনার আহ্বান জানায়। এর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, এ কাজ ন্যাটোর নীতি-বিরোধী এবং মার্কিন সেনার কাছে বিপদের কারণ। এটা যুক্তরাষ্ট্রের সেনার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ও প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষেত্রে রাশিয়া ঢুকে যাবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের হাতে প্রচুর অর্থ চলে আসবে। এ সবই আমেরিকার চিন্তার কারণ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ এবং হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে পরীক্ষা চালায় তুরস্ক।

তুরস্ক আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু দেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শরিক দেশ। আমেরিকা চায়, তুরস্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় থাক, সামরিক সহযোগিতা বজায় থাক। কিন্তু সেটা করতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এস ৪০০-র বাধা দূর করতে হবে।

তবে আঙ্কারার বক্তব্য হলো, তারা প্রথমে মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা তা বিক্রি করতে রাজি হয়নি। তখন তারা রাশিয়ার সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তছাড়া গ্রিসও রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপনাস্ত্র কিনেছে। তাদের যুক্তরাষ্ট্র কিছু বলেনি। অথচ, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এটা দুমুখো নীতি।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কী?

এফ-৩৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক এবং ব্যয়বহুল স্টেলথ যুদ্ধ বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ১০ কোটি ডলার। লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি এই বিমানে আছে 'স্টেলথ' প্রযুক্তি। অর্থাৎ এ বিমান ওড়ার সময় শত্রুপক্ষের রাডারে তার অস্তিত্ব ধরা পড়বে না। তা ছাড়া শত্রুপক্ষের বিমানের চোখে পড়ার আগেই সে নিজেই তাকে দেখতে পাবে। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই অস্ত্র কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 



Leave Your Comments


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর