প্রকাশিত :  ১০:২৯, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান হবে না

পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান হবে না

 জনমত রিপোর্ট ।। নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো.গোলাম ফারুক বলেছেন, ‘এ ধরণের সমস্যা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব না।’

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এবং মেন্সচুরাল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট (এমএইচএম) প্লাটফর্ম আয়োজিত নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো.গোলাম ফারুক বলেন, ‘এ ধরণের বিষয় আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে শেখাতে পারবো না। শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে তাদেরকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করাতে হবে, বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। পাঠ্যবই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ে। আবার আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা আমাদের অনেক বড় বাধা। শিক্ষার্থীদের ঠিক সেভাবেই শেখাতে হবে যেভাবে তারা পছন্দ করে।’ 

এ সময় তিনি বিখ্যাত নাট্যকার ‘জর্জ বার্নার্ড শ’র উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বার্নার্ড শ বলে গিয়েছিলেন যে, তার বই যেন কখনও পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করা না হয়। তাহলে বইগুলো বা বইয়ের মাধ্যমে পরামর্শগুলো ধংস হয়ে যাবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘যেখানেই যাই না কেন সবাই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির কথা বলে। আবার এদিকে বইয়ের ওজন ভারি হয়ে যাচ্ছে। আমরা সব দিক থেকেই চাপে আছি। আর কারিকুলামে এরকম জাতীয় সমস্যা অন্তর্ভুক্ত করা হলো একটি সহজ দায়মুক্তি। কিন্তু এভাবে সমস্যার সমাধান ঘটবে বলে আমার মনে হয় না। বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের আধুনিক করে তুলতে হবে। অন্যান্য দেশের স্কুলের খেলার মাঠ, টয়লেট, ক্লাসরুম সবকিছু শিক্ষার্থীরাই পরিষ্কার করে। আমাদেরও শিক্ষার্থীদের সেদিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নিজে স্বাবলম্বী হওয়া শিখলে সব দিক আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’

এদিকে নারীদের  মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভাবছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবি’র সদস্য অধ্যাপক মো. মোশিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজে হাত দিচ্ছি আমরা। এ বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে স্বাগত জানাতে চাই। প্রতি বছর আমরা সবার মতামত নিয়েই কাজ করি কিন্তু তারপরও সমালোচনার সম্মূখীন হতে হয়। তাই এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আমরা কাজ করি।’         
বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক এবং এমএইচএম প্লাটফর্মের চেয়ারম্যান রোকেয়া কবীরের নেতৃত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক প্রফেসর সৈয়দা তাহমিনা আখতার, টিটার্চস ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের  সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মাশফিকা জামান সাতিয়ার, ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ইকবাল হোসেন, ইউবিআর অ্যালায়ান্সের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফায়াদ উবায়েদ। এছাড়া মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে এনসিটিবি’র বইয়ের বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন আইসিসিডিআর,বি’র গবেষক টিশান মাহফুজ।

সভায় বক্তারা বলেন, ৪০ শতাংশ মেয়ে গড়ে ৩ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে এ সমস্যার জন্য। সঙ্গে এ বিষয়ে কুসংস্কার তো রয়েছেই। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপক ব্যাহত হয়। পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়ে হালকা উল্লেখ থাকলেও সমস্যা থেকে উত্তরণের কোন উপায় বলে দেয়া নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির বইতে উল্লেখ আছে। কিন্তু এটি ৪র্থ শ্রেণির বইতে উল্লেখ থাকাটা জরুরি। তাতে শিক্ষার্থীরা এ সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকবে। এছাড়া ছেলেদেরও জানতে হবে। তাতে তারা তাদের সহপাঠীদের বিপদে সহায়তা ছাড়াও এ বিষয়ক টিজিং থেকে দূরে থাকবে। তাছাড়া সরকারি স্কুলগুলোতে ভালো মানের টয়লেট বানাতে হবে। ২০১৫ সালে সরকার এ বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা সব স্কুলের কাছে নেই, থাকলেও মানে না।   

প্রতিত্তরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো.গোলাম ফারুক বলেছেন, ‘টয়লেটের সমস্যা পুরানো ভবে থাকতে পারে। কিন্তু স্কুলগুলোর নতুন ভবনগুলোতে এ সমস্যা নেই। বরং মেয়েদের আলাদা টয়লেট আছে।’  



Leave Your Comments


শিক্ষা এর আরও খবর