প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ১৯ জুন ২০২১

গোয়ানইঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা: স্বামী হিফজুর গ্রেপ্তার

গোয়ানইঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা: স্বামী হিফজুর গ্রেপ্তার

সিলেটের গোয়ানইঘাটে দুই সন্তানসহ এক নারীকে হত্যার ঘটনায় ওই নারীর স্বামী হিফজুর রহমানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গত বুধবার সকালে গোয়ানঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (১০) এবং তানিশা (৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘর থেকেই হিফুজরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর থেকে হিফজুর পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিলো পুলিশ।

শনিবার হিফজুরকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমান বর্তমানে সুস্থ আছেন। রোববার (২০ জুন) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দিবেন। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে রোববার আদালতে তোলা হবে। পাশপাশি মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করবে।

এই ঘটনায় আলিমা বেগমের বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে গোয়ানঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলো সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তীর আহত হিফজুরের দিকেই।

এই ঘটনার তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হিফজুর রহমান প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছেন। প্রথমে আমরা তা বুঝতে পারিনি। তিনি ঘরের ভেতরে অজ্ঞানের ভান করে পড়েছিলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর বুঝা যায় তার আঘাত গুরুতর নয়।

হিফজুরকে সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সাথে করে অস্ত্র নিয়ে আসতো। তাদের ঘরের বটি দা দিয়েই খুন করতো না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

অথচ হিফুজরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য বলে জানান ওই কর্মকর্তা। হিফুজরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল। এতে আমাদের ধারণা স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্যখাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা ছিলে দেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাধারণ ঘুমানোর আগে সবাই হাত পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী সন্তানদের মরদেহের হাত-পাও পরিষ্কার ছিলো। অথচ তার পায়ে বালি ও কাদা লাগানো ছিলো। এতে বুঝা যাচ্ছে তিনি রাতে ঘুমাননি।




Leave Your Comments


সিলেটের খবর এর আরও খবর