প্রকাশিত :  ০৮:০৪, ২১ জুন ২০২১

‘স্বপ্নও দেখিনি কোনো দিন নিজের ঘর হবে’

‘স্বপ্নও দেখিনি কোনো দিন নিজের ঘর হবে’

বড়লেখায় অন্যের বাড়িতে বসবাসকারী সহায়-সম্বলহীন সত্তরোর্ধ্ব সেই বৃদ্ধা সুরুজা বিবি পেলেন সেমিপাকা সরকারি ঘর। ঘর পেয়ে আনন্দ অশ্রু দেখা যায় তার চোখেমুখে। খুশিতে যেন বাকরুদ্ধ।

অস্পষ্ট কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘স্বপ্নও দেখিনি কোনো দিন নিজের ঘর হবে, এখন নিজের বাড়িতে মরতে পারব, এর চেয়ে বড় কি হতে পারে না। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো করেন। তিনি ধন্যবাদ জানান উপজেলা প্রশাসনকেও।’

রোববার মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের ৫২ হতদরিদ্র পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাবি আর জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দলিল হাতে পেয়ে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন বৃদ্ধা সুরুজা। গত ১১ মে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইনে ‘ঈদের পর ছাড়তে হবে বাড়ি, ঘুম নাই বৃদ্ধা সুরুজার’ শিরোনামে সহায় সম্বলহীন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা সুরুজা বিবির করুণ কাহিনি নিয়ে একটি সংবাদ ছাপা হলে তা বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

সদ্য বিদায়ী ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে শুরু করেন। ইউএনওর নির্দেশে ঈদের আগেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা বৃদ্ধা সুরুজার খোঁজ নিতে যান উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর গ্রামে। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তিনি বৃদ্ধাকে তুলে দেন ঈদের উপহার। কথা দেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি ভূমিতে ঘর তৈরি করে দেবেন। আর এতেই আশ্রয়স্থল হারানোর শঙ্কা কাটে সুরুজার।

জানা গেছে, মাতৃভূমি ময়ময়নসিংহে নদীভাঙনের শিকার হয়ে দেশ স্বাধীনের আগে স্বামী আছমত আলীর সঙ্গে বড়লেখার করমপুর গ্রামে এসেছিলেন সুরুজা বিবি। তার স্বামী ছিলেন দিনমজুর। নিজের বাড়ি না থাকায় অন্যের বাড়িতে থাকতেন। দিনমজুর স্বামীর উপার্জিত অর্থে কোনোমতে চলত সংসার।

 প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুতে চরম বিপাকে পড়েন সুরজা বিবি। তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে সুরুজা বিবির জীবনযুদ্ধ শুরু। মানুষের বাড়িতে থেকে কোনোমতে কাজ করে সংসার চালাতে থাকেন। সন্তানরা বড় হয়। ইতোমধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে থাকেন আলাদা আর বড় ছেলে রোগাক্রান্ত হয়ে আট বছর আগে মারা গেছেন। বড় ছেলের বিধবা বউয়ের অভাবের সংসার, তাই সুরুজা বিবি থাকেন ছোট ছেলের সংসারে।

কিশোর বড় নাতি একটু আধটু কাজ করে। মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় চলে তাদের সংসার।  অভাবের তাড়নায় ও বার্ধক্যের কারণে সুরুজা বিবি ঠিকমতো চলতে পারেন না। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। কথাও বলতে পারেন না ঠিকমতো।

এরই মধ্যে আশ্রয়দাতা বাড়ি বিক্রি করে দেবেন, তাই ঈদের পরই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় কোথায় যাবেন, কী করবেন— এমন চিন্তায় চোখে ঘুম ছিল না বৃদ্ধা সুরুজা বিবির।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা জানান, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরই বৃদ্ধা সুরুজার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। ইউএনওর নির্দেশে রমজানের ঈদের আগে তিনি সুরুজা বিবির খোঁজ নিতে করমপুর গ্রামে যান।

 দুরবস্থা দেখে কাছাকাছি এলাকায় সরকারি খাসজমি খুঁজে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘরের চাবি ও ভূমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিদের খুঁজে মুজিববর্ষের উপহার তুলে দিতে পারায় তিনিও তৃপ্ত।



Leave Your Comments


সিলেটের খবর এর আরও খবর