প্রকাশিত :  ০১:৩২, ২৪ জুন ২০২১

তবে তাদের মনে রাইখেন... বইলেন না, এরা কারা ?

তবে তাদের মনে রাইখেন... বইলেন না, এরা কারা ?

|| সৈয়দ হক (তাহমিম) ||

প্যান্ডামিক এর সময় বিলেতের মূল ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ভাই তাঁর নির্মিত “নট এ পেনি, নট এ গান” এর লিংক দিয়ে একটু সময় করে ‘একা’ দেখতে বললেন। মুভিটি দেখলাম। আসলে ইংরেজি ধারা বর্ণনায় থার্ড পারসন কথকের মাধ্যমে বর্ণিত এই ডকুমেন্টারি দেখে একটা রিভিউ লেখার কথা ছিল। চোখে পানি এসেছে। 

নট এ পেনি নট এ গান। মানে কি বুঝলেন? টাকা ছাড়া অস্ত্র কেনা হবে না। চোখ ভিজে যায়। এ এক হারানো ইতিহাস। ‘কামলা মানুষ’... প্রবাসে  গ্রামের মানুষগুলোর দেশের প্রতি দরদ। সারা সপ্তাহ, বছর এর ওইজেস সব দান দেশের লাগি। তারপর তাদের ভুলে যাওয়া... লাঞ্ছনা। হয়ত বা ইতিহাসে ‘তোমাদের’ নাম লিখা রবে না.... । বলবো । 

সময় নাই, লিখতে চাই নাই। কে শুনে কার কথা। জাল টানে ওয়াহিদে, মাছ খায় নাহিদে। কবিতা আছে। বেশি বলতে চাচ্ছি না। ১২ জন প্রবাসীকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ভালো কথা। 

কিন্তু এরা কারা?? গান আছে না... ‘বড় বড় গুণীদের আসরে’!!! মানলাম আপনি বড় পড়ুয়া, বিচারপতি, হিসাবপতি, ছাপার অক্ষরে কথা বলেন - সব ঠিক আছে। তবে ওই- ওই লোকটাকে আপনারা একটু মনে কইরেন? যে ওই শীতে, মাঘের শীতে সারারাত বাসে করে ভোরে ‘ট্রাফলগার স্কয়ারে’ এসেছিলো। তাঁকে। যে ‘ফ্রিডম’ বলতে বলতে তাঁর পরনের টাউজার খুলে পড়ে গিয়েছিলো, পরনে শুধুই ছিল ‘জাঙ্গিয়া’, তারে একটু মনে কইরেন। সে অশিক্ষিত ছিল ভাই। তবে আমার আপনার থেকে তাঁর দেশপ্রেম অনেক বেশি ছিল ভাই। গার্ডিয়ানে ওই জাঙ্গিয়ার ছবি ছাপা হয়েছিলো ভাই। পারলে তারে একটু খুইজা ‘কবরে’ একটু ফুল দিয়েন ।

 

আজ লিখতে চাচ্ছি না বেশি । লেখালেখি বাদ দিবো ভাবছি । যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। ওরা ১২ জনের কথা, সম্মাননার কথা দিয়েছেন। ভাল বলছি না। তবে এরা থার্ড টিয়ারের নেতা কর্মী। ফাস্ট , সেকেন্ড টিয়ারে অনেকেই ছিলেন। হাফিজ মজির উদ্দিন, হাজি নেছার আলী, নুরুল ইসলাম, টনি হক, দিলশাদ রেস্টুরেন্ট এর মতিউর রহমান সাহেব, সমুজ খান, আতা খান, মিম্বর আলী, সামসুল আলম, নবীগঞ্জের ছানু মিয়া, হাজি ইজ্জাদ আলী, জিল্লুল হক, সমরু মিয়া, মিডল্যান্ডের পাশা, মিসেস পাশা, মোস্তাক কোরেশী, সৈয়দ আব্দুর রহমান, আফসর মিয়া, আমার বন্ধু জিতুর বাবা ইসহাক মিয়া সহ সিলেট অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। শুধু কি তাই, অনেকে লন্ডন থেকে ইন্ডিয়া হয়ে দেশে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। যেমন আমাদের আল আমীন ট্রাভেলস এর নজরুল ভাই এর বাবা আফরোজ মিয়া। ওসমানী সাহেব তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব দিতে চেয়েছেন। নেন নি। ভাই আপনারা শিক্ষিত তাদের কথা মনে কইরেন। 

চরম পত্র পড়তেন এম আর আখতার মুকুল। লন্ডনে যখন তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন এই চাষাভূষারা তাঁকে বুকে করে রেখেছিলো। লন্ডন থেকে তিনি যখন দেশে গেলেন। লিখলেন, লন্ডনে ছক্কু মিয়া বই । বেশি ডিটেইলসে যাচ্ছি না। যারা এই ছক্কু মিয়াদের ছেঁড়ে একটু ‘এল্যাইট’ হতে চাচ্ছেন তাদের কিছু বলে শেষ করতে চাচ্ছি। একটা বিশেষ ফরম পূরণ করে মুক্তিযোদ্ধা ইনরল করতে হয়। যারা হয়েছেন তারা বিশেষ ওই ফরম পূরণ করেই হয়েছেন। তাদের একটা স্বার্থ অবশ্যই আছে। বাংলাদেশে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ এখন একটা ‘এল্যাইট’। আখেরে এই নেংটি পড়াদের অতীতে অনেক বাজে কথা শুনতে হয়েছে। ভাই এরা ফরম ও পূরণ করবে না। স্বীকৃতিও চায় না। তবে তাদের মনে রাইখেন। বইলেন না, এরা কারা?

(সৈয়দ হক তাহমিম এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া)




Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর