প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ৩০ জুন ২০২১

ভিওএ বাংলা বিভাগীয় প্রাক্তন প্রধান ইকবাল আহমেদের ইন্তেকাল

ভিওএ বাংলা বিভাগীয় প্রাক্তন প্রধান ইকবাল আহমেদের ইন্তেকাল

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান জনাব ইকবাল আহমেদ রোববার ২৭ জুন ম্যারিল্যান্ডে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান শোনার সংবাদে দেশে ও প্রবাসে অনেকে শোকাহত হয়েছেন । জনাব ইকবাল আহমেদ ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন। তাঁর বড়ভাই  ইশতিয়াক আহমেদ ১৯৫৮ সালে বাংলা বিভাগ যখন প্রতিষ্ঠা করেন তখন ছাত্রাবস্থায় মাত্র ২০ বছরের যুবক ছিলেন জনাব ইকবাল । যিনি শুরু থেকেই বাংলা অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরের এক অভিজাত পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। কলেজিয়েট হাই স্কুল ও জগন্নাথ কলেজে পড়াশুনো করেন। বিএ পাশ করার পর কুড়ি বছর বয়সে পড়াশুনো করতে আমেরিকায় চলে আসেন। ১৯৫৯ সাল থেকেই ভিওএ বাংলা বিভাগের সাথে কাজ শুরু করেন। শুরুতে পার্ট টাইম হলেও অল্প ক’দিন পরেই ফুল টাইম হয়ে যান। চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান হন।

অবসর জীবনে ইকবাল আহমেদ অনেক লেখালেখিও করেছেন, বিশেষ করে কবিতা । কবি শামসুর রাহমান তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন কবিতা লিখতে। । তিনি প্রকৃতি ও সঙ্গীত খুবই ভালোবাসতেন। তাঁর কবিতা ঠিকানাসহ প্রবাসের অনেক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ইকবাল আহমেদের তিন মামা ছিলেন অনেক বিখ্যাতজন। তাঁরা হলেন বেতার ভাষ্যকার নাজির আহমেদ, একুশের শহীদ মিনারের স্থপতি শিল্পী হামিদুর রহমান ও বিশিস্ট আন্তর্জাতিক নাট্য ব্যক্তিত্ব সাঈদ আহমেদ।

ইকবাল আহমেদের প্রয়াণের সংবাদটি এই প্রতিবেদক জানতে পারেন শ্রদ্ধেয় রোকেয়া হায়দারের কাছ থেকে। ইকবাল ভাইয়ের ছোটবোন তাঁর স্কুল কলেজের সহপাঠি ছিলেন। ইকবাল ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি অশ্রু ভারাক্রান্ত হন। ইকবাল ভাই ছিলেন একজন অসাধারণ অমায়িক ব্যক্তিত্ব, বলেন রোকেয়া হায়দার। ইকবাল আহমেদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও ভিওএ কর্মী মাসুদ মারফি জানান, মঙ্গলবার ম্যারিল্যান্ডে তাঁর দাফন করা হবে। প্রায় তিন বছর আগে ভিওএ-এর ৭৫তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো তাঁকে শেষ দেখার এবং সেবার আমি তাঁর ইন্টারভিউ করেছিলাম।

ইকবাল ভাইয়ের পয়তিরিশ বছর আগে থেকে অত্যন্ত হার্দিক সম্পর্ক আমার। তাঁর বিয়েতেও ছিলাম। তাঁকে নিয়ে গিয়াস কামাল চৌধুরী ভাইসহ বিভিন্ন স্থানে ভিওএ ফ্যান ক্লাবে গিয়েছি  । ইশতিয়াক ভাই চলে গেছেন বেশ ক’বছর আগে। যেদিন তিনি মারা যান ঠিক সেদিন বিকেলে তাঁকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো রোকেয়া আপার সাথে। ইকবাল ভাইকে নিয়ে গেলো ক’দিন ধরে কথা হচ্ছিলো তাঁর সাথে। এইভাবে সবই এক সময় স্মৃতি হয়ে যায়।প্রিয় ইকবাল ভাইয়ের বেহেস্ত নসিব হোক, এই কামনা করছি।



Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর