প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ৩০ জুন ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:০৪, ৩০ জুন ২০২১

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউকে বিডি টিভিতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউকে বিডি টিভিতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বদরুল  মনসুর, লন্ডন: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৯শে জুন  ইউ.কে বিডি টিভিতে  “আওয়ামীলীগ মানেই বাংলাদেশ “শীর্ষক  এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুরের সভাপতিত্বে এবং ইউকে বিডি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশিষ্ট সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম (লিংকন) এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর এম এ রহিম সিআইপি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মানবাধিকার সম্পাদক মানবিক নেতা এম এ সারব আলী এবং  ওয়েলস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপিসহ সকল বক্তা বলেন, "বাংলাদেশে সব থেকে সফল একটি দল, সব থেকে ত্যাগী, সব থেকে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। শুধু বাংলাদেশই বা কেন, সারা বিশ্বের মধ্যে সফল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি হচ্ছে এই দল। আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি প্রাচীন এই দলটির নেতৃবৃন্দদের, যারা দুঃসময়ে এই দলটির হাল ধরেছিলেন, দলটির পাশে থেকেছেন। করোনাকালীন সময়ে নয়, বাংলাদেশ আজকে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যার কর্ণধার জননেত্রী শেখ হাসিনা, তারই সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে অবস্থান করছে।"
বক্তারা বলেন, "৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন, ৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপোষহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। দেশের বর্তমান উন্নয়ন সহ সকল অর্জনই এসেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া বাংলার গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে।"
বক্তারা আরও বলেন, "স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামী লীগ মানেই  বাংলাদেশ! আওয়ামী লীগ মানেই  বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলার মানচিত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নামই নয়, একটি মুক্তির পথ, একটি বিশ্বাসের নাম। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির পথ প্রদর্শক ও জাতির মুক্তির নায়ক। যত কাল ধরে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী যমুনা মনু  বহমান থাকবে, ততকাল বঙ্গবন্ধুর নাম বাঙালি জাতির অন্তরে লালিত হয়ে থাকবে চির অম্লান হয়ে।"
"২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠন করে ‘ভিশন ২০২১’-এর আলোকে মধ্যম আয়ের সুখী-সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখান এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০৪১’-এর আলোকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে সফলতার নতুন পথ দেখিয়েছেন, দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ। মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।" 
বক্তারা আরও বলেন, "শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৩৯ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এ পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কন্টকাকীর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী।"
বক্তারা বলেন, "দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই ও প্রাসাদসম ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দলটি আজ বাংলাদেশের গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে দলটি। আবেগ, সংগ্রাম, জাতিসত্তা, দেশপ্রেম, মানবিকতা আর অসাম্প্রদায়িক প্রগতির মিলনে এক স্বতন্ত্র অনুভূতির নাম আওয়ামীলীগ। অনেক অমানিশা, কণ্টকাকীর্ণ অসমতল পথ আর হাজারো রক্ত নদী উজানে রেখে আসা আমাদের সম্মুখ যাত্রার অবিনশ্বর সারথি এই আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করছি।"
বক্তারা আরও বলেন, "আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংগ্রাম, সৃষ্টি, অর্জন ও উন্নয়নের ইতিহাস। আওয়ামীলীগ মানেই বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতির ইতিহাস। আর ইতিহাসের মহানায়ক হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।"
বক্তারা দেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।  


Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর