প্রকাশিত :  ২০:৫৮, ১৫ জুলাই ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ২১:০৮, ১৫ জুলাই ২০২১

নাসিমা আখতার নিশা - নারী উদ্যোক্তাদের দেখিয়েছেন পথের দিশা

নাসিমা আখতার নিশা - নারী উদ্যোক্তাদের দেখিয়েছেন পথের দিশা

লন্ডনের বাঙ্গালী নারী হোম মেশিনিস্টরা ৬০ দশক থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত বৃটেনের ফ্যাশন জগতে শ্রম দিয়েছেন। সে সময়ে লন্ডনে বাঙ্গালী নারীরা স্বামীর সাথে গার্মেন্টস শিল্পে শ্রম দিতেন। তারা ঘরে সেলাই মেশিন দিয়ে ড্রেস সেলাই করতেন। তাদের অর্জিত অর্থেই বৃটেনের বাঙ্গালীদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড সবল হয়েছিল, বৃহত্তর সিলেটের গ্রামীণ জনপদের প্রভুত উন্নতি হয়েছিল সেসব নারীদের অর্জিত অর্থে। এই বিষয়টি গবেষণার দাবী রাখে। এর পরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের কথায় আসা যায় সম্ভবত  ৮০ এর দশক থেকে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা গার্মেন্টস শিল্পের উত্থানে বিরাট ভুমিকা রাখেন। 

২০২০ সালে বৈশ্বিক অতিমারির সময়ে নীরবে ই কমার্স বিপ্লব সাধিত হয়েছে উই এর মাধ্যমে, এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসিমা আখতার নিশা। গত বছর দুয়েক ধরে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা ই কমার্সে বা অনলাইনে ব্যবসায় বেশ এগিয়ে চলেছেন। শহরের শিক্ষিত মেয়েরা ছাড়াও গ্রামের (শিক্ষিত) মেয়েরাও অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের ই কমার্সে  এগিয়ে আসার গল্প খুবই চমকপ্রদ। সামাজিক প্রচার মাধ্যম ফেসবুকে, ইউটিউবে, ইনস্ট্রাগ্রামে, টুইটারে এসব চমকপ্রদ সাফল্যের গল্প আমরা বিদেশ থেকেও দেখে থাকি। 

এসব সাফল্যের গল্পকে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে যিনি নিয়ে এসেছেন তিনি হলেন ফেসবুক গ্রুপ তিনিই উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম উই (WE) এর স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আখতার নিশা। উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম এক বিশাল ই কমার্স প্লাটফরম গড়ে তুলে এক নীরব বিপ্লব সংগঠিত করেছেন। তার এই প্লাটফরম বহু তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরনে বিরাট ভুমিকা পালন করে চলেছে।  

২০২০ সালে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে উই (WE) এর স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আখতার নিশার নেতৃত্বে, যখন অবাঞ্চিত ও অনাকাঙ্খিতভাবে সারা দেশে লকডাউন  আরোপিত হল তখন লক্ষ লক্ষ পুরুষের সাথে কয়েক লক্ষ নারী কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। এদের মধ্যে অনেক কর্মহীন পুরুষ ও নারী বেকার হয়েছিলেন তারা অনেকেই আর উঠে দাড়াতে পারেননি। তবে যারা বিকল্প পথের সন্ধান করেছিলেন তারা ঘুরে দাড়িয়েছেন উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম বা উই (WE) এর হাত ধরে। ৩০ হাজার সদস্য সংখ্যা ছিল যে উই (WE) এর, জানা গেছে সেই উই (WE) এর সদস্য সংখ্যা ১১ লাখের মত দাড়িয়েছে। 

ফেসবুক গ্রুপ উই (WE)  এর স্বপ্নদ্রষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আখতার নিশা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, WE বাংলাদেশে ২০২০ সালে লকডাউন দেওয়ার পর (পণ্য বিপননের সংগে যুক্ত খাতগুলোর মধ্যে) ই কমার্সের খাতকেই একমাত্র জরুরী খাত হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা এই খাতকে  এক বিরাট সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন শুধু নারীরা নয় পুরুষদের জন্যেও এই খাতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। 

ফেসবুক গ্রুপ উই এর সভাপতি নাসিমা আখতার নিশা আরো বলেছেন, এই খাত ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খোলে দেবে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা থেকে আমি গ্রামীন নারীদের সংযুক্ত করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে কাজ করছি। দেশীয় পণ্য আমি বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আমার স্বপ্ন বিশ্বের বড় বড় শহরে WE এর শাখা থাকবে এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আমি এ স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো।

ই কমার্সের বেশ কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেছেন ফেসবুক গ্রুপ উই প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আখতার নিশা, সেগুলো হলো: পণ্য ডেলিভারি, দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে। দেশের ভেতরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেলিভারি ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। ডেলিভারি ব্যবস্থা সুনিশ্চিত নাহলে তৃণমুলে যেসব উদ্যেক্তা পণ্য পাঠাচ্ছেন, তারা এগিয়ে আসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন। দেশের বাইরে পণ্য পাঠাতে হলে পণ্যের মুল্যের চাইতে ডেলিভারি চার্জ বেশী দিতে হয়। এই  সমস্যাগুলোর সাথে সাথে রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ ও ওয়াইফাই এর সহজলভ্যতা। উদ্যেক্তাদের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম হলো ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সংযোগ। কাজেই ওর্ডার নেয়া ও ডেলিভারি দেয়া অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। তাছাড়াও উদ্যেক্তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারেও ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য।  

প্রসংগত উল্লেখ করা যেতে পারে বাংলাদেশে ই কমার্স খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে ই কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ই-ক্যাব এর মাধ্যমে বেশ কিছু উদ্যেগ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছিল, সেগুলো হলো মানব সেবা, আম মেলা, কোরবানির ডিজিটাল হাট। বাংলাদেশে এসব নতুন ইনোভেশন তরুন প্রজন্মকে আকৃষ্ঠ করবে। এ ছাড়াও ই ক্যাব ইকো সিস্টেম নিয়ে ও কাজ করছে। যারা ই কমার্সের সাথে যুক্ত হয়ে অনলাইনে নিজেদের ব্যবসা শুরু করেছেন তাদের মধ্যে যাদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং নেই তাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিলে ভাল হবে। তাছাড়াও জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অফলাইন ও অনলাইনে  ট্রেনিং সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা প্রয়োজন,  এসব করতে হলে উই ও ই ক্যাবকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে ।