প্রকাশিত :  ২১:১২, ১৫ জুলাই ২০২১

"গরীবের বন্ধু” প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করছে কারা?

আজকের লেখার শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি মনে পড়ে গেলো। দেশ সবেমাত্র স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন। তখন দেশে আইন শৃঙ্খলা নেই, চুরি ডাকাতি সহ নানা ধরণের নৈরাজ্যে দেশ ছেয়ে গেছে। মানুষের ঘরে খাবার নেই। চারিদিকে শুধু হাহাকার। এমনই এক দু:সময়ে বঙ্গবন্ধু দেশের হাল ধরলেন, ধীরে ধীরে সবকিছু আয়ত্তে আনার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করলেন। শেষ পর্য্যন্ত সবই ঠিক হলো। 

১৯৭২ সালের শীতকালের কথা। দেশে প্রচন্ড শীত পড়েছে। দেশের গরীব মানুষগুলো শীতের প্রকোপ সদ্য করতে না পেরে মরতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু এই মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য তখনকার সময়ে দেশে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য বিদেশ থেকে সাড়ে ৭ কোটি কম্বল এনে বিতরণের ব্যবস্থা করেন। সেই সময় এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, "আমি সাড়ে ৭কেট্ িকম্বল বিদেশ থেকে আনলাম কিন্তু আমার কম্বল গেল কোথায়? বড় দু:খ হয়, বিভিন্ন দেশ পেয়েছে সোনার খনি আর  আমার সদ্য স্বাধীন দেশে আমি পেয়েছি - চোরের খনি।”  ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর (এ সময় শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান) সামরিক শাসকের হাতে ক্ষমতা চলে যায়। এ সময় তারা এই চোরদের এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে সরকার গঠন করে দেশ শাসন করে। ধীরে ধীরে এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলো চোরদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে বড় বড় পদে আসীন করে। এই চোরগুলোই পরে তাদের ভীত শক্ত করে সরকারের বিভিন্ন দফতরে তাদের আসন প্রতিষ্ঠিত করে। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে আজকের আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যদি এদের প্রতি একটু খেয়াল দিতেন, ধীরে ধীরে এদের ক্ষমতা কেড়ে নেবার ব্যবস্থা করতেন তাহলে আজকে প্রধানমন্ত্রীকে এই নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হতে হতো না। 

প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা আজ দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে অঘোষিত যুদ্ধ করে এমন একটি অবস্থার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন যারা বিবেকবান মানুষ তারা হাড়ে বুঝতে পারছেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ আজ একটি দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে। দেশের রাস্তাঘাট, উন্নত মানের যানবাহন, পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামের টানেল নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যে ভাবে এগিয়ে চলছে কয়েক বছর পর এই বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করবে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্যই হলো গরীব জনসাধারণকে বেঁচে জন্য থাকার জন্য ঘর, খাদ্য, কাপড় ইত্যাদি নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই তিনি এবারের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে যারা গরীব অসহায়. যাদের থাকার ঘর নেই তাদের জন্য ঘর বানিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজও শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার ঘর পেয়েছে। তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে হাত তুলে দোয়া করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য। 

এ কাজ শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে দেখা যায়, এসব চোর ডাকাতের দল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া গরীবের ঘরগুলো শক্ত মজবুত করে না বানিয়ে নামকা ওয়াস্তে ইটের মধ্যে সিমেন্ট বালি না মিশিয়ে বরং কাদামাটি দিয়ে কোন রকমে খাড়া করে রেখেছে। তার উপর লাল নীল রং দিয়ে ঝকঝকে সুন্দর ঝকঝকে করে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। পরে দেখা যাচ্ছে ঘরের পুরো কাজ শেষ হওয়ার আগেই হয়তো দেয়াল ভেঙ্গে পড়ছে অথবা ফাটল ধরেছে নতুবা বাতাসে চালের টিন উড়ে গেছে। শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি ঘর এ ভাবে তৈরী করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এই গরীব এবং অসহায় লোকের সাথে যারা ছিনিমিনি খেলতে পারে তাদেরকে কি বলে আখ্যায়িত করা যায় সে ভাষা আমার জানা নেই, তাই আমার পাঠকদের উপরই তা ছেড়ে দিলাম। 

দুর্নীতির এসব অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার ফলে সরকার এখন এদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে নেমেছ্ ে। এই এ্যকশনও কতদিন চলবে কে জানে। কারণ গরীবের টাকা লুটপাটের জন্য সরকারী মহলেই একটি চক্র সব সময়ই সক্রিয়। সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় কিছু সংখ্যক খাটি দেশপ্রেমিক অফিসারগণ এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন। অনেক জায়গায় এ্যাকশন নেয়া শুরু হয়ে গেছে বলে মিডিয়া জগতে প্রচারিত হচ্ছে। গত ১২ই জুলাই লন্ডন থেকে প্রকাশিত "নতুন দিন” অনলাইন পত্রিকা লিখেছে "প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্যে ঘর নির্মাণে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে সুনামগঞ্জের শাল্লার ইউএনও আল মুক্তাদির হোসেন ও হবিগঞ্জের মাধবপুরের সাবেক ইউএনও তাসনুভা নাশতারানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।” এসব ঘটনা শুধু সিলেটেই নয়, সারা বাংলাদেশে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গরীব অসহায়দের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে তার সব জায়গাতেই টাকা চুরির হরিলুট চলছে। এই হরিলুটের বিরুদ্ধে দেশের বিবেকবান মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেছে, তাদের দাবি হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মানবিক উদ্যোগ ভূমিহীনদের আশ্রয় প্রকল্পে যে সকল দুর্নীতিবাজরা জড়িত, একদিকে যেমন তৃণমূল কর্মীদের উচিত ওদের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় রুখে দাঁড়ানো তেমনি সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত প্রমাণিত হলে অনতিবিলম্বে শুধু পদাবনতিই নয় বরং চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। এরা জাতির শত্রু।