প্রকাশিত :  ১৪:২১, ৩১ জুলাই ২০২১

কাশ্মীর - আবারও `ভূস্বর্গ' হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে

কাশ্মীর - আবারও `ভূস্বর্গ' হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে

ইমরান চৌধুরী ।। কাশ্মীর - পৃথিবীর ভুস্বর্গ বলে আখ্যায়িত এক অপূর্ব জনপদ। হিমালয়ের স্নিগ্ধতার প্রলেপে আচ্ছাদিত পার্বত্য উপ্যতকা, নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের মহাসমারোহে যেখানে প্রত্যেকটি ঋতুই ভিন্ন ভিন্ন রূপে শোভা ছড়ায় বছরের সব সময় - নতুন নতুন রঙে সাজে বার বার এই দেশটি। সেই স্বর্গকে পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে গত দু বছর আগে ইন্ডিয়া সরকার নিয়ে আসে এক যুগান্তরকারী সিদ্ধান্ত - যা কিনা অত্র এলাকার মানুষের বুকে চেপে বসে ছিল গত ৬৫ বছর  ধরে। অনাদিকাল যাবত কেন্দ্রীয় সরকার এবং কাশ্মীরের স্থানীয় সরকার এসেছে আর বদলেছে বারংবার কিন্তু কাশ্মীর যে তিমিরে ছিলো, থেকে গেছে সেই তিমিরেই। ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার প্রগতিশীল সরকার নিয়ে এসেছে এক সাহসী সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত - হাটি হাটি পা’ করে আজ তা’ দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। সংবিধানের একটা অস্থায়ী অনুচ্ছেদকে পরিত্যাগ করার মাধ্যমে নিয়ে এসেছে যুগান্তরি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন। এসেছে কাশ্মীর উপ্যাতকায় এক নব্য উদ্দীপনার সোপান । 

অনেক বাধা, অনেক প্রতিবাদ অহেতুক করা হয়েছে এই পরিত্যাগকে নিয়ে। কিন্তু এই সকল কিছুকে সমূলে বিনাশ করে ইন্ডিয়া সরকার হাতে নিয়েছে কয়েক শ’ নতুন উন্নয়ন প্রজেক্ট। কাশ্মীর ভ্যালিতে চলছে এক  নব্য উন্নয়নের ঢেউ। অনেক রক্ত ক্ষয় হয়েছে এই অঞ্চলে অনেক অনেক বছর যাবত, বিঘœ হয়েছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের পড়াশুনা - তাই ভারত সরকার ৩ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ১০০ ভাগকে শিক্ষা এবং নিরক্ষরতা দুর করে উন্নীত করতে চায় । শুরু হয়েছে রাস্তা ঘাট, বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সব ধরনের জনহিতকর প্রকল্প সমূহ - যে গুলো  একেবারে বদলে দিবে কাশ্মীর উপ্যতকার অবয়ব চিরতরে । 

যুগে যুগে গত ৭০ বছরের অধিক কাল যাবত অনেক সরকার এসেছে এবং ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কিন্তু কেউই আনতে পারে নাই এই ধরনের উন্নয়নের জোয়ার। সম্প্রতি জুম্মু কাশ্মিরের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকেই স্ফটিকের মত স্বচ্ছ যে, নতুন গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন এক সাথে জুগপৎভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচন এর মাধ্যমে আসবে তৃণমুল পর্যায়ে সরাসরি নির্বাচিত গন প্রতিনিধি; জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবে তাদেরই সত্যিকারের প্রতিনিধি।


২ বছর আগে জুম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গো ২৪ জুন কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে মিটিং করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি এপিনিউজ ডটকম থেকে নেয়া।

প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন সংস্থা যদিও চাচ্ছে কিভাবে এই উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক পক্রিয়াকে ভন্ডুল করা যায় । সম্প্রতি ড্রোন প্রেরনই আবার প্রমাণিত করে যে ওরা অস্থির এবং ওদের ধৈর্যচ্যুতির মাত্রা। কাশ্মীর এলাকা এক দিন হয়ে উঠবে অত্র এলাকার সবচে’ উন্নত এলাকা - যুবকদের জন্য থাকবে কর্মসংস্থান। বিদেশি এবং দেশজ পুঁজির লগ্নি এবং কল কারখানা ঘুরিয়ে দিবে কাশ্মীরের অর্থনীতি । 

আজকের এই দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এটাই আবারও প্রমাণ করল যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে সকল বৈষম্য দূরীভূত করে সমাজে, দেশে এবং পৃথিবীতে আনয়ন করা যায় সব ধরনের ভ্রান্ত ধারনার অবসান। ধর্মীয় গোঁড়ামির মতবাদকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠাবে কাশ্মীর এর আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা এবং আগামী প্রজন্ম। ভেদাভেদের মস্তিষ্ক ধোলাই এর দিন এখন শেষ। এখনকার যুবক, যুবতিরা চায় ভিন্ন জীবন, সমৃদ্ধ জীবন এবং সামাজিক সম্মান - ঐ চোরাগলির বস্তা  পচা মতবাদে আর কেউ হতে চায় না আসক্ত । 

কাশ্মীরের এই নতুন পথে চলার যাত্রা যেন কোন ভাবেই যাতে বিঘিœত না হয়। অত্র এলাকার ভু রাজনীতি এবং সন্ত্রাসী মতবাদের উপদ্রপ যেন চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় - তা না হলে শান্তি সব সময়ই হোঁচট খাবে বার বার। গণতন্ত্র বিঘিœত আবার। এখানে নতুন এক ভাবনার উদ্রেক হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় - কারণ আফগানিস্থানের বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সৈন্যদের দেশে ফেরত যাওয়ার ফলে তালিবান সন্ত্রাসের তান্ডবটা কাশ্মীর সহ আশে পাশের দেশ গুলোতে সন্ত্রাসী হামলা এবং সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেতে পারে যে কোন সময়। এই নব্য হুমকি থেকে অত্র অঞ্চলের সব দেশকে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে এক সাথে কাজ করতে হবে যাতে করে ঐ বিষবৃক্ষ সমূলে ঊৎপাটন করা যায় - অত্র এলাকার শান্তি এবং সমৃদ্ধি সংরক্ষণ করা যায় সর্বদা। কাশ্মীর এর নতুন অধ্যায়ের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে জানাই অনেক অনেক স্বাগতম । 

ইমরান চৌধুরীঃ ভু রাজনীতি বিশ্লে­ষক 



Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর