প্রকাশিত :  ১৪:২৯, ৩১ জুলাই ২০২১

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবুজ বিপ্লবের বিকল্প নেই

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবুজ বিপ্লবের বিকল্প নেই

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এই বাংলাদেশের মাটিতে ধান, পাট,ফলমূল, তরিতরকারী সবকিছুই উৎপন্ন করা যায় অতি অল্প পরিশ্রমে। আমাদের দেশের মানুষ যে কর্মঠ এবং ভীষণ পরিশ্রমী সে কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করতে হবে। প্রায় প্রতি বছরই সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় ধান এবং তরিতরকারীর বাম্পার ফলন হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যে বছরই বাম্পার ফলন হওয়ার খবর প্রকাশিত হয় সে বছরই দেখা যায়,  কৃষকের মাথায় হাত! যেখানে কৃষকের খুশী হওয়ার কথা, সেখানে কৃষকের মাথায় হাত কেন? এ প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই মনের মধ্যে উঁকিঝুকি মারতে থাকে। 

ধান বা তরিতরকারী কৃষকেরা বিক্রি করতে গেলে দেখা যায়, ফসল উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে তা থেকে অনেক কমদামে তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। এর কারণ কি? এর কারণ হচ্ছে কৃষকরা একদল সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী। খবর নিয়ে জানা গেছে, ফসলের ভাল উৎপাদন দেখে আগে থেকেই এসব মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের দল ফসলের দাম কমিয়ে দেয়। তারা শুধু তাদের লাভের অংশটাই বড় করে দেখে। তারা কম দামে কৃষকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মজুদের ভান্ডার গড়ে তোলে। এরপর যখন ফসল তোলার সময় শেষ হয়ে যায় তখন চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে। শুধু ধানই নয়, ফলমূল এবং তরতরকারীর ব্যাপারেও একই অবস্থা।

গত বছর দেখা গেছে মিষ্টি লাউ এবং তরমুজ সারা দেশে প্রচুর পরিমানে ফলন হলেও বিক্রি করার সময় তারা ন্যায্যমুল্য পায়নি। অনেক কৃষক তাদের ফসলের নায্যমুল্য না পাওয়ায় মনের দু:খে ্েক্ষতের মধ্যেই ফলগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। এই অবস্থা দেখে মনে হয় যেন, হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে কৃষকরা ফসল ফলায় তারা যেন মুনাফাখোর সিন্ডিকেটদের হাতে বন্দী। সিন্ডিকেটরা যা বলবে তা-ই তাদের শুনতে হবে। এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? দায়ী হচ্ছে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়। কারণ, এ ব্যাপারে সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ জন্মের ৫০ বছরেরও উপর হয়ে গেলো অথচ আমরা কৃষি বিপ্লব ঘটাতে পারলামনা, এর থেকে আর দু:খের বিষয় কি হতে পারে। সিন্ডিকেট মুনাফাখোরদের হাত থেকে আমাদের কৃষক সমাজকে রক্ষা করতে পারলাম না, এ দু:খ কোথায় রাখি। 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন দেশটি ছিলো একেবারেই অচল। রাস্তাঘাট, ভাঙ্গাচুরা যানবাহন, বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভ শূন্য অর্থাৎ একটা দেশ চালানোর মতো কিছুই ছিলো না। সেই অবস্থায়, দূরদর্শী চিন্তাধারার অধিকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে, দেশের মানুষের জন্য প্রথমেই ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হবে তাই তিনি কৃষি খাতের উপর গুরুত্ব দিয়ে সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমার কুষকরা যদি বাঁচে বাংলাদেশ বাঁচবে, বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে মরবেনা।” তাই তিনি কৃষকদের কমমূল্যে সার বিতরণ সহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দিতে শুরু করেছিলেন। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে সবুজ বিপ্লবের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারলেন না, বিশ্বাস ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে  (শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে গেছেন) হত্যা করে।