প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ৩১ জুলাই ২০২১

উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নির্মাণে আওয়ামীলীগ সরকারের ভূমিকা

উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নির্মাণে আওয়ামীলীগ সরকারের ভূমিকা

আজিজুল আম্বিয়া || বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি নির্ভর সংগঠনের নাম হল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যার জন্মের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সম্পর্ক ছিল। কেননা, এই সংগঠনটির নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। 

যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার এবং এই দলটির প্রধান হিসাবে নেতৃত্ব দিয়ে দিচ্ছিলেন তখন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির সাথে তুলনা করা হয়েছিল। সেই সময়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ছিল খাদ্য সঙ্কট, অর্থনৈতিক দৈন্যতা, অবকাঠামোগত ভঙ্গুরতা, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। বাঙ্গালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রাহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘাতকের হাতে তাকে সপরিবারই প্রাণ দিতে হয়েছিল ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট। তারপর দীর্ঘ সময়ের পরে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৯ সালের ৬  জানুয়ারী, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী এবং ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারী চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসীন হয়ে দেশ চালাচ্ছেন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

এই সরকারের বেশ কিছু সফলতা রয়েছে তা আলোচনা করার চেষ্টা করব। আবার ব্যর্থতাও যে নেই তা বলা যাবে না। যখন ব্যর্থতার চাইতে সফলতা বেশি আসে তখন ব্যর্থতা মানুষের চোখে পড়ে না তেমন। এই সরকারের সফলতার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করা, দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আজকে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, ঢাকার বুকে মেট্রো রেল চালু করা, পদ্মা সেতু নির্মান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যৎ কেন্দ্র স্থাপন, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়ন সহ শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা, দরিদ্রসীমা হ্রাস, আশ্রায়ন প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল ও বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও  মহামারি কোভিড মোকাবিলা ইত্যাদি।

শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলার জন্য বিনামূল্যে বই বিতরণ, নারী শিক্ষাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য উপবৃত্তি চালু, প্রায় ২৬ হাজার ১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ। বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকুরী সরকারিকরণ। সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য গঠন করা হয়েছে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট”। এছাড়া স্কুলে শিশু ভর্তির শতকরা হারও বৃদ্ধি পেয়েছে ।


শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সফলতার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে সারা দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক। বিপুল সংখ্যক উপজেলা হাসপাতালের সিট বৃদ্ধি করা হয়েছে, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের শয্যা সংখা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। নতুন কিছু মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে জনশক্তি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের আমলে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্র থেকে শুরু করে বর্তমানে ডিসি, এসপি, শান্তি মিশন সহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক এর পদ পর্যন্ত আজকে নারীদের দখলে আছে এবং তারা সুনামও বয়ে আনছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দেশের মানুষকে দেখিয়েছিল তা আজ বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ হাঁটছে। দেশের তৃনমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এখান থেকে মানুষ জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে বিমানের টিকেট পর্যন্ত করতে পারে। তাই মানুষের জীবন এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। দেশের সবকটি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেট এর আওতায়। সেবা প্রধান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই- পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। টেলিযোগাযোগের উন্নয়নের জোরালো পদক্ষেপের কারণে ১২ কোটির অধিক সংখ্যক জনগণ এই সেবা গ্রহণ করতেছে এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ও প্রায় সাড়ে ৪ কোটির উপরে। ফোর-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশে চলছে এখন ।

বর্তমান বিশ্বের ১৫৭ টি দেশে বাংলাদেশের প্রায় ৮৬ লক্ষের বেশি শ্রমিক কাজ করে রেমিটেন্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এখনো তারা অবহেলিত। তাই সরকার তাদেরকে এই অবদানের জন্য অন্ততপক্ষে ভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। তাতে তারা বিভিন্ন হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশে জাতীয় গ্রেডে অতিরিক্ত ৬ হাজারেরও বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোজন করা হয়েছে এবং প্রায় ৬৫ টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে তাতে বিদ্যুৎ ঘাটটি পূরণ হয়ে বর্তমানে রিজার্ভ বিদ্যুৎ থাকছে এছাড়া এর গ্রাহক ও বৃদ্ধি পেয়েছে ।

ভূমি ব্যবস্থাকে  আধুনিকায়ন করার জন্য মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান কম্পিউটারাইজেশন করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। প্রণীত হয়েছে “কৃষি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন, ২০১২ এর খসড়া”।

করোনা ভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব বিপর্যস্ত তখন বাংলাদেশ বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকা সংগ্রহ করেছে এবং সরকারও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে । দক্ষ কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে ভারত এগিয়ে এসেছে অক্সিজেন নিয়ে ।

যেখানে রোহিঙ্গা ছিল বিশ্ব সঙ্কট সেখানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এই সমস্যার একটি সুন্দর আপত সমাধান দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যারা এরকম সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ।