প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ০৫ আগষ্ট ২০২১

বস্ত্র ও ওষুধ খাতের শেয়ার দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে

 বস্ত্র ও ওষুধ খাতের শেয়ার দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে

জনমত ডেস্ক: শেয়ারবাজার সূচক বাড়ছেই। আজ বৃহস্পতিবারও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক লেনদেনের দুই ঘণ্টা শেষে ৪২ পয়েন্ট বেড়েছে, আগের দিনের রেকর্ড অবস্থানকেও ছাড়িয়ে উঠেছে আরো উচুঁ অবস্থান ৬৫৭৮ পয়েন্টে।

সূচকের এই বৃদ্ধিতে বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির খাত ব্যাংক বা সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধি পাওয়া বীমা খাত নয়, সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বস্ত্র এবং ওষুধ খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি।

দুপুর ১২টায় একক কোম্পানি হিসেবে দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের শীর্ষে বস্ত্র খাতের একক প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। তবে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা ও ওরিয়ন ফার্মার দরবৃদ্ধি সূচকের বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে।

এ সময় ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেনে আসা ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৪টি দর বেড়ে এবং ৫টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। সার্বিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ০.৮০ শতাংশ। সূচক বৃদ্ধিতে এ খাতের অবদান ছিল ১৭ পয়েন্ট। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ওরিয়ন ফার্মার দরবৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে ১১ পয়েন্ট।

লেনদেনের দুই ঘণ্টা শেষে বস্ত্র খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৫০টিই দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র ৫ শেয়ার। সার্বিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ২.৮৭ শতাংশ। এ খাত সম্মিলিতভাবে ডিএসইএক্স সূচকে যোগ করেছিল প্রায় ১০ পয়েন্ট।

বিপরীতে ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির মধ্যে ২২টিই দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, বিপরীতে দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র ৩ শেয়ার। সার্বিক দরপতনের হার ছিল ০.৭৫ শতাংশ। সূচকে এ খাতের নেতিবাচক প্রভাব ছিল সাড়ে ১১ পয়েন্ট।

ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইএক্স সূচকটি বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে সর্বোচ্চ ৬৫৯৪.৭১ পয়েন্টে উঠে নিচে নেমেছে।

আলোচিত বীমা খাতেরও সূচকের আজকের বৃদ্ধিতে অবদান নেই। কারণ এ সময় লেনদেন হওয়া ৫০ বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩১টি দর হারিয়ে এবং ১৬টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ২৪০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১০৫টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ২৯ শেয়ার।

একক কোম্পানি হিসেবে দরবৃদ্ধির শীর্ষে দেখা গেছে ঢাকা ডাইং কোম্পানিকে। শেয়ারটির দর সর্বাধিক ১০ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছিল। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারটির এ সময় ৬০ হাজারের বেশি শেয়ারের ক্রয় আদেশের বিপরীতে কোনো বিক্রেতা ছিল না।

একই চিত্র দেখা গেছে, কাগজ ও ছাপাখানা খাতের শেয়ার পেপার প্রসেসিং, বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিমটেক্স, মালেক স্পিনিং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওষুধ খাতের কোম্পানি সেন্ট্রাল ফার্মার ক্ষেত্রে। এসব শেয়ারের দর সোয়া ৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় বিপুল সংখ্যক শেয়ার ক্রয় আদেশের বিপরীতে কোনো বিক্রেতা ছিল। কোনো শেয়ারের দর যখন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকতে এবং বিপুল ক্রয় আদেশ থাকলে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি দর পাওয়ার আশায় শেয়ার বিক্রি বন্ধ রাখেন।

উল্লেখিত শেয়ার ছাড়াও আজ দরবৃদ্ধির ওপরের দিকে দেখা গেছে উসমানিয়া গ্লাস, মেট্রো স্পিনিং, জেমিনি সী ফুড, কপারটেক, রহিমা ফুড, ফার কেমিক্যাল, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিচ হ্যাচারি, দেশ গার্মেন্টস, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, সাফকো স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশনস, প্রাইমটেক্স, নাহী অ্যালুমিনাম, সায়হাম কটনকে। এসব শেয়ারের দর ৭ থেকে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব শেয়ারের দর বাড়ছে।

বিপরীতে দুপুর ১২টায় সর্বাধিক প্রায় ৪ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল পিপলস ইন্স্যুরেন্স। শেয়ারটি সর্বশেষ ৫১.৭০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল। ২ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে দরপতনে এর পরের অবস্থানে ছিল সাইফ পাওয়ারটেক, ইউসিবি, ঢাকা ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া।

আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ফার্মা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত শুধু ডিএসইতে এ কোম্পানির ৫৩.৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। শেয়ার প্রতি ৪.৭ টাকা দর বেড়ে শেয়ারটি এ সময় ৬৮.৫০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল।

এ সময় লেনদেনে এর পরের অবস্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের প্রায় ৪৬ কোটি টাকার, বেক্সিমকো লিমিটেডের ৪২.৬০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। 

একক খাত হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ খাতের ২৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, যা ছিল মোট লেনদেনের ১৯.৩৮ শতাংশ। গত মঙ্গলবারের লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১২.১৬ শতাংশ।



Leave Your Comments


মতামত এর আরও খবর