প্রকাশিত :  ১০:৪৩, ১৯ আগষ্ট ২০২১

আপস করেননি বলেই বেগম জিয়া দন্ডিত: নিউইয়র্কে বিএনপির সভায় বক্তারা

আপস করেননি বলেই বেগম জিয়া দন্ডিত: নিউইয়র্কে বিএনপির সভায় বক্তারা

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন আপসকামিতার রাজনীতি চললেও বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি বলেই ফরামায়েসী রায়ে দন্ড মাথায় নিয়ে কারাজীবনে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষমতাসীনদের কাছে নিজকে সমর্পণ করলে অনেক আগেই সাজানো মামলা থেকে নির্দোষ খালাস পেতন। এবং তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশেও যেতে বাধা দেয়া হতো না।’ অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, সরকার নানা অপচেষ্টা চালিয়েও বিএনপিকে নির্মূল দূরের কথা, ভাঙতেও পারেনি। কারণ, জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান দলের হাল ধরেছেন এবং সকলেই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি।

ব্রঙ্কস বিএনপি বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। ছবি-এনআরবি নিউজ।

 বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোন নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির আরেক নেতা ও লং আইল্যান্ডের চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘এই আমেরিকায়ও তৃণমূলের সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। নেতারা ঐক্যবদ্ধ নন বলেই বাংলাদেশেও বিএনপির এমন নাজুক অবস্থা। ক্ষমতাসীনদের অপশাসনে জনগণ অতীষ্ঠ। তবুও আন্দোলনের কোন রূপরেখা দিতে সক্ষম হচ্ছে না বিএনপি। এমন অবস্থার অবসান ঘটিয়েই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করতে হবে।’ বাদল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘১/১১তে গঠিত তথাকথিত কেয়ারটেকার সরকারের জেনারেল মঈনকে এই প্রবাসে যেভাবে আমরা প্রতিহত করেছি সেই চেতনায় মার্কিন প্রশাসনে লবিং চালিয়ে শেখ হাসিনার অপশাসনকেও চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’

রোববার রাতে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির উদ্যোগে ব্রঙ্কসে একটি পার্টি হলে ‘বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা’য় অনুষ্ঠিত দোয়া-মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনা এবং তার সরকার বাংলাদেশে আন্দোলন-সংগ্রামকে কঠিন করে ফেলেছেন। রাস্তায় নামতে দেয়া হচ্ছে না। আন্দোলনের জন্যে তহবিল পাঠাতে হবে এই প্রবাস থেকে। নিজ নিজ এলাকার বিএনপির কাছে টাকা পাঠান। তাহলেও রাজপথে আন্দোলনের গতি ত্বরান্বিত হবে।’

স্টেট বিএনপির সভাপতি এমরান শাহ রণের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের নেতা আশরাফউদ্দিন ঠাকুৃর, বিএনপি নেতা আফজালুর রহমান, স্টেট বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ রৌফ, যুগ্ম সম্পাদক সালিম জাকির হোসেন ও সোলেমান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিপন, প্রচার সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, এইচ এম মিজানুর রহমান, জুয়েল সিকদার, সাব্বির হোসেন, ফুল মিয়া, মজিবর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, গায়েবি মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদেরকে। যারা প্রবাসে রয়েছেন তাদেরকেও মামলায় আসামী করা হচ্ছে। এমন আচরণে সকলেই ভীত সন্ত্রস্ত। রাজপথে মিছিল করার পদক্ষেপ নিলেই গ্রেফতার অথবা গুমের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সকলে। বক্তারা বলেন, নি:শর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং তারেক রহমানকে বাংলাদেশে যাবার অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রবাস থেকেই আন্দোলন চালাতে হবে।

উল্লেখ্য, ৯ বছরের অধিক সময় যাবত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোন কমিটি না থাকায় ৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মকান্ড চালাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। এটি ছিল ‘দেলোয়ার-বাদল’ গ্রুপের অনুসারি স্টেট কমিটির সভা। চলের চেয়ারপার্সনের ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে সভাশেষে কেক কাটা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিপনের পরিচালনায় এ সভায় নিউইয়র্ক স্টেট কমিটির কয়েকটি শুন্য পদে ৫ জনকে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। এরা হলেন সহ-সভাপতি-এম এ রৌফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালিম জাকির এবং জাহাঙ্গির কবীর পল এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিপন।




Leave Your Comments


কমিউনিটি এর আরও খবর