অচলাবস্থা অব্যাহত

প্রকাশিত :  ১২:১৩, ১১ অক্টোবর ২০২১

সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের সেনাদের আলোচনা ব্যর্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ১৭ মাস ধরে সীমান্ত উত্তেজনা একই অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। সেখানে উভয় দেশের সেনারা দ্বিতীয়বারের মতো জমাট শীতে অবস্থান করবেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলেছে, দুই দেশের কমান্ডারদের সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সেনা অপসারণের আলোচনা অচলাবস্থায় শেষ হয়েছে। এর ফলে ১৭ মাস ধরে চলমান স্থবিরতারও সমাধান হয়নি। সীমান্তের এই পরিস্থিতিতে সেখানে উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে মাঝে মাঝেই ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
এখনও অচলাবস্থার অর্থ হলো চীন এবং ভারত দুই দেশই লাদাখ সীমান্তে সেনা মোতায়েন রাখবে। ফলে টানা দ্বিতীয় বছর সেখানে বিপজ্জনক মাইনাস তাপমাত্রায় অবস্থান করতে হবে সেনাদের।
সোমবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আলোচনায় ভারত গঠনমূলক সাজেশন দিয়েছে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি চীনা পক্ষ। তারা সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো কোন প্রস্তাবও দেয়নি।
পক্ষান্তরে চীনা সামরিক একজন মুখপাত্রের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় পক্ষ অযৌক্তিক এবং অবাস্তব দাবি নিয়ে অটল ছিল। এতে সমঝোতা প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে ওঠে। দুই দেশের কমান্ডাররা দুই মাসের বিরতির পর রোববার লাদাখ এলাকায় চীনা অংশের মলদো’তে আলোচনায় মিলিত হন। চীন এবং ভারতের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা রয়েছে। সেখানে উভয় দেশই কামান, ট্যাংক, যুদ্ধবিমানসহ হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রেখেছে। ফেব্রুয়ারিতে পাঙ্গোং সো-এর উত্তর ও দক্ষিণ তীরে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয় ভারত ও চীন। ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত পাঙ্গোন সো হিমবাহ হ্রদ। সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলেও দুই দেশই বহুস্তরে বাড়তি সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখে। ভারতীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ডেমচক এবং ডেপসাং উপত্যকায়ও সেনা যোগ করা হয়েছে।

ওদিকে সীমান্তে ব্যাপকভাবে চীনের সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানি। তার এমন মন্তব্যের মধ্যে রোববারের আলোচনা হতাশা সৃষ্টি করেছে। শনিবার জেনারেল এমএম নারাভানি বলেছেন, সীমান্তে ব্যাপক আকারে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তা অব্যাহত থাকবে। এটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ, চীনা পক্ষ যে অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছে, তার সমান জবাব দিতে হবে। এর অর্থ হলো চীনারা সেখানে অবস্থান করবে। এসব ঘটনার ওপর আমরা ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করে যাবো। যদি তারা সীমান্তে অবস্থান করে, তবে আমরাও করবো।

ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের সিনিয়র কর্নেল লং শাওহুয়া চীনের পক্ষে বলেছেন, চীনারা তাদের সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত রাখতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। চীন আশা করে এ পরিস্থিতিতে ভারত ভুল বুঝবে না।
এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো জানুয়ারির দিকে লাদাখ এলাকার ফরোয়ার্ড অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়ায় মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় উভয় দেশের সেনারাই প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন পজিশনে ফিরে যান। তবে ২০২০ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছিই থাকেন তারা। গত বছর এ অঞ্চলে ভারতীয় ও চীনা সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঘুষাঘুষি, ধস্তাধস্তি, পাথর নিক্ষেপে ভারতের ২০ সেনা সদস্য নিহত হন। পক্ষান্তরে চীন দাবি করেছে, তাদের চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পশ্চিমে লাদাখ থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে আলাদা করেছে। এই অরুণাচল প্রদেশের পুরোটাই চীনারা নিজেদের বলে দাবি করে। ভারত ও চীনের মধ্যে রয়েছে ৩৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। সেখানে ১৯৬২ সালে ভয়াবহ এক যুদ্ধ হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।  

লাদাখ সীমান্তে অচলাবস্থা শুরু হয় গত বছর। লাদাখের পূর্বাঞ্চলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কয়েক ডজন ভবন নির্মাণ করেছে চীন। শীতল আবহাওয়া প্রতিরোধী এসব ভবন। শীতে সেনারা যাতে সেখানে থাকতে পারেন, সে জন্য এভাবে তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, চীনারা নির্মাণ করেছে নতুন নতুন হেলিপ্যাড। আকাশপথ বিস্তৃত করছে। নির্মাণ করছে নতুন নতুন ব্যারাক। ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থাপনা ও রাডার স্থাপনা।



Leave Your Comments


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর