প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ১৪ অক্টোবর ২০২১

পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনবে সরকার

পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনবে সরকার

জনমত ডেস্ক: পথ থেকে ফেরাতে পথশিশুদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ‘একটি শিশুও রাস্তায় থাকবে না, রাস্তায় ঘুমাবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ রাসেল দিবসকে ঘিরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে দেশের পথশিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, দেশের পথশিশুদের পথ থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়ে আসার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার মতো সুযোগ আছে। বিদ্যালয় সময়ের পর তারা শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হয়। এটি মূলত বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) কাজ।’

দেশের সুবিধা বঞ্চিত অনূর্ধ্ব ১৫ বছর বয়সী শিশুদের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া এবং দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করে।  এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করারও সুযোগ রয়েছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট ঢাকা বিভাগে ৬৫টি, বরিশাল বিভাগে ২৫টি, চট্টগ্রামে ১১টি, সিলেটে ৫টি, রাজশাহী ২২টি, রংপুরে ৪৭টি খুলনা ১৬টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪টিসহ সারাদেশে ২০৫টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হয়।
শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক মো. আবুল বাশার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত, হতদারিদ্র শিশুদের লেখাপড়া দক্ষা অর্জন ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে।  সারাদেশে ২০৫টি শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়ের পর ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭৩টি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করানো হয়। আর বাকি ৪৯টি ভাড়া করা পরিত্যক্ত ভবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের পর লেখাপড়া করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পথশিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার কাজ নতুন করেও শুরু করা হচ্ছে।’
দেশে শিশুদের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিশু একাডেমি ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ৬৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজ সেবা অধিদফতরের সরকারি শিশু পরিবার বাবা-মা নেই বা বাবা নেই এমন এতিম শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে।
সমাজসেবা অধিদফতরের ছোটমনি নিবাস বাবা-মায়ের পরিচয়হীন শূন্য থেকে সাত বছর বয়সী পরিত্যক্ত, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের লালনপালন ও সাধারণ শিক্ষা দেওয়া হয়। আর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)  নারী ও শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে।

দেশের পথশিশুদের চিত্র
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ পথশিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে দাবি করা হয়। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারা পথশিশু আর কারা পথশিশু নয় তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত। স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা জানতে হলে প্রথমেই পথশিশুর সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সার্ভে অনুযায়ী ওই সময় ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার এবং ২০১৪ সালে ১১ লাখ ৪৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ১৬ লাখ হবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়ে থাকে বর্তমানে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখ। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই সাড়ে ৪ লাখ পথশিশু আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
সরকারি-বেসরকারি পথশিশু কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য একটি ক্রস সেক্টর বডি থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শিশু বাজেট যথাযথভাবে ব্যয়ের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার
বর্তমান সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ‘পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশুসদন প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা উন্নত ও প্রসারিত করা হবে।
‘একটি শিশুও রাস্তায় থাকবে না, রাস্তায় ঘুমাবে না’-  প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে হবে বলেও পরিকল্পনায় উল্লেখ আছে।



Leave Your Comments


শিক্ষা এর আরও খবর