প্রকাশিত :  ০৮:০৫, ১৬ অক্টোবর ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৯, ১৬ অক্টোবর ২০২১

ভোটের যুদ্ধ কীভাবে করতে হয় আমাদের জানা আছে: রেজা কিবরিয়া

ভোটের যুদ্ধ কীভাবে করতে হয় আমাদের জানা আছে: রেজা কিবরিয়া

জনমত ডেস্ক:  আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতি আমার অনেক ক্ষোভ আছে  আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ আমার নেই।
আমি আওয়ামী লীগে যাবো না। এরকম কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না। আওয়ামী লীগ বিগত ১২ বছরে যেসব অন্যায় করেছে, যে অন্যায়ের বোঝা নিয়ে তারা বসে আছেন, তারা এখন জনগণের ভয়ে কাতর। অপরাধের বোঝা নিতে চাই না তাদের সঙ্গে থেকে। আমি কেন তাদের অপরাধের বোঝা নিজের কাঁধে নেবো? আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে অফার করা হয়েছিলো নির্বাচন করার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ালেও সংসদ সদস্য হতে পারতাম। নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধ এ রকম যে তারা আমাকে ভোট দিতেন। আমি সেই সুযোগ নিইনি। কারণ পারিবারিক সূত্রে দল করায় বিশ^াস করি না আমি। কিছু আদর্শে বিশ^াস করি।
বাবার পরিচিত অনেকেই বলতেনÑ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগে গেলে কেবল বদনাম আসবে। এরকমটা আমি চাই না। আমি একটা পতাকা উড়াবো, তাদের সঙ্গে থাকবো এই লোভ আমার নেই। বদনাম নিয়ে পতাকা পাওয়ার কী মানে আছে।
বাবা যখন বেঁচেছিলেন, বিভিন্ন বক্তৃতায় যে আদর্শের কথা তিনি বলতেন, সেই আদর্শ থেকে দলটি এতোটা সরে আসবে গত বারো বছরে ভাবিনি। আমার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে প্রাণ দিয়েছেন, অথচ মুজিবনগর সরকারের আদর্শ থেকে দলটি অনেক দূরে সরে এসেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ আগের আওয়ামী লীগ নয়। এখনকার আওয়ামী লীগ মানুষের কাছে সমালোচিত। যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় নামতে চান না, তাদের সম্পর্কে কী ভাববেন আপনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় যাওয়ার মতো সাহস ও মানসিকতা আওয়ামী লীগের নেই। কারণ মানুষকে তারা ভয় পান।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে আমার সরাসারি কোনো কথা হয় না। তবে বাবার মৃত্যুর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সঙ্গে আলাপ করেছি। আমি কখনো আগ্রহ প্রকাশ করে বলিনিÑ আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়ে রাজনীতি করতে চাই। দলে থাকতে চাই। তিনিও আমাকে রাজনীতির ব্যাপারে সরাসরি কিছু বলেননি। কারণ তিনি আমার মনোভাব জানতেন।
বিএনপি ক্ষমতায় থেকে অনেক কিছু দেখেছে। যদি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে কাজ করার মানসিকতা তাদের মধ্যে থাকে, তাহলে ভালো। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো যদি তারাও একই কাজ করে, তাহলে তাদের সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকবে। দেশের মানুষ সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার অধিকার পেলে ভুল করবেন না। তাদের ওপর আমাদের আস্থা রাখা উচিত।
 ড. কামাল হোসেনকে আমি আমার অক্সফোর্ডের ফার্স্ট ইয়ার থেকে চিনি। তখন থেকেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। আমি ভাবতাম রাজনীতিতে অনেকের চেয়ে তিনি শ্রেয়। তার সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধা করবো না। লোকে যখন বলবে, কার অধীনে কাজ করছো? ড. কামাল হোসেনের অধীনে। [১৮] আমি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলাম ২০১৯ সালে। তখন গণফোরামের দায়িত্বে যিনি ছিলেন তিনি সরে গিয়েছিলেন বলেই আমার নাম প্রস্তাব করা হলো। আমি রাজি হলাম। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কিছু লোকও ছিলো। আমি তাতে আপত্তি জানিয়েছিলাম।
গণফোরাম নির্বাচনমুখী না হলেও আমি নির্বাচনমুখী। আমি আমার বাবার নির্বাচনে কাজ করেছিলাম ২০০১ সালে। কীভাবে ভোটের যুদ্ধ করতে হয় জানা আছে। নুরুল হক নূর, রাশেদ কিংবা সাদ্দামদের মধ্যে গণতন্ত্রের ওপর আস্থা লক্ষ্য করেছি। তাদের সাহস ও দৃঢ়তা আমাকে আকর্ষণ করেছে। যাদের দেশের গণতন্ত্রের ওপর বিশ^াস আছে, তাদের সঙ্গে থাকা উচিত মনে করছি।
নতুন দল কবে ঘোষণা হবে জানি না, নূররা বলতে পারবেন। এ নিয়ে কাজ চলছে। কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। লোকজনের সঙ্গে আলাপ শেষ করে দলের নাম ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। পুরো দেশ থেকে ছেলেমেয়েরা তাদের কাছে আসছে। বড় বড় সব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। আশা করছিÑসপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে দল ঘোষণা হয়ে যাবে।
প্রথমে একটা জাতীয় কাউন্সিল হবে, তারপর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। এখন আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব পদ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমি উপদেষ্টাও হতে পারি। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আহ্বায়ক হিসেবে সবাই চেয়েছিলেন। তিনিই প্রথম পছন্দ। কিন্তু তিনি তার শারীরিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার কথা বলেছেন। তবে ফরমালি তিনি যোগ দেবেন কিনা জানি না।
নতুন দলে অন্য কোনো দল থেকে কেউ যোগ দিচ্ছেন কিনা নূরুরা বলতে পারবেন। তবে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকেই নতুন দলে যোগ দেবেন আশা করছি। কারণ মানুষকে আগে সাহস দিতে হবে। বিরোধী দলে থেকে নতুন দলে যোগ দিতে অনেকেই ভয় পান। কারণ বিভিন্নভাবে সরকার অত্যাচার করবে। আমি যখন নেমেছি, আমাকে দেখে হয়তো ভালো কিছু লোক নতুন দলে যোগ দেবেন। বিভিন্ন জনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নূররা আলোচনা করছেন বিভিন্ন জনের সঙ্গে। তবে এ ব্যাপারে আমি কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করিনি।
ভিপি নূররা আমার কাছে কার্যকর কিছু চান, আমিও তো তাদের কাছে কিছু চাই। আমি তরুণদের সঙ্গে থাকতে চাই। কারণ তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। ৪০ বছরে ৩৫ দেশে আমি কাজ করেছি। আমার অভিজ্ঞতা তারা কীভাবে কাজে লাগাবে, তারাও চিন্তা করছে।
২০১৮ সালে একটি মিথ্যা নির্বাচন দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো সরকার। যারা মিথ্যা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা নিজেদের সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু তারা খুব ভালো করেই জানেনÑ একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে বড়জোর ২০ জনের আসন থাকবে, অন্যদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা কে করেছেÑ এ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে! কারা করেছে গ্রেনেড হামলা, কাদের ধরেছে? মিথ্যা মামলা করার যে প্রবণতা সরকারের, তাদের কোনো মামলার রায় আমি বিশ^াস করি না। আমার বাবার মামলায় দেখেছি একটা মিথ্যা তদন্তের ভিত্তিতে মিথ্যা চার্জশিট দিয়েই যাচ্ছে তারা। আইনকে তারা বিকৃত করেছে। সংবিধানকে বিকৃত করেছে এই সরকার।
সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো কিনা এ নিয়ে এখনো আলোচনা করিনি। নিশ্চয়ই আলাপ করবো। অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা অবস্থান নেবো, সকলে সেই অবস্থানে থাকবো। শক্তভাবে থাকবো। [২৭] দুই বছর আগে নির্বাচনের কথা বলে বিরোধী দলকে ব্যস্ত রাখছে সরকার। বিরোধী দলগুলো কোনো আন্দোলন কর্মসূচি না দিয়ে আগামী নির্বাচনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবেÑএটাই সরকারি কৌশল।
মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের একটা ডিমান্ড দেখতে পাচ্ছি। চারদিকে একটা চাহিদা দেখছি, একটা রাজনৈতিক চয়েজ জনগণের মধ্যে বাড়ানোর জন্য। সেজন্যই এই নতুন দল।
সরকারের বৈদেশিক নীতি এমনভাবে ব্যর্থ যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটা বন্ধুও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। মুসলিম দেশগুলোও কিছু বলেনি এতো বিপুলসংখ্যক মুসলমানের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করলো মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উল্লেখযোগ্য কিছু বলেনি, শুধু দুঃখপ্রকাশ করেছে। দুঃখপ্রকাশেই সরকার সন্তুষ্ট। এর বেশি কিছু তারা কূটনীতি দিয়ে আদায় করতে পারেনি।
ওভারঅল উন্নয়ন অবশ্যই হয়েছে। তবে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা মানুষের মাথার ওপর রেখে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়ন নিশ্চয়ই করেছেন। কিন্তু যে পরিমাণ উন্নয়ন করার কথা ছিলো এই টাকা খরচ করে তা হয়নি।
তারা বিরাট বিরাট কথা বলছেন, অথচ ইন্ডাস্ট্রির সব লোন ফেল করেছে। আমাদের অর্থনীতি খুব ভালো করছে, কিন্তু রপ্তানি কমে আসছে। অর্থনীতি খুব ভালো চলছে, অথচ রেমিটেন্স কমতে শুরু করেছে। তাদের একটা বিপদ আসবে। স্যরিÑ এটাকে অর্থনীতির উন্নয়ন বলে না। যারা টুকটাক অর্থনীতি পড়েছেন, তারা বুঝতে পারেনÑ এ সবই ফ্রড!
আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের টাকায় এখনো মোটামুটি অর্থনীতি ভেসে আছে। কিন্তু কোভিডের সময় দেশের মানুষের যে কষ্ট হয়েছে, নতুন দারিদ্র্যের একটা পুরো শ্রেণি তৈরি হয়েছে। এটাও সরকার অস্বীকার করে। কিন্তু মানুষ জানে কোনটা সত্য, আর কোনটা মিথ্যা। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা বলছে, ৬-৭০ শতাংশ লোক এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে। যারা না খেয়ে আছেন তারা এই প্রবৃদ্ধির হার দেখেনÑঅর্থনীতি চাঙা আছে শুনে তারা মনে করেন তাদের বিদ্রুপ করা হচ্ছে।




Leave Your Comments


জাতীয় এর আরও খবর