প্রকাশিত :  ১৬:৩৯, ১৬ অক্টোবর ২০২১

চট্টগ্রামে পূজা মণ্ডপে হামলায় কারাগারে ৮৪ জন

চট্টগ্রামে পূজা মণ্ডপে হামলায় কারাগারে ৮৪ জন

জনমত ডেস্ক: চট্টগ্রামে জেএম সেন হলের পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় ছয়শ' জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সকালে কোতোয়ালী থানার এসআই আকাশ মাহমুদ ফরিদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা,পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ৮৪ আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেজাম উদ্দীন বলেন, জেএম সেন হলে হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৪ জনকে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কারা আছে তাও বের করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর আন্দরকিলল্গা শাহী জামে মসজিদ থেকে বের হয়ে কিছু মুসল্লি পাশের জেএম সেন হলের পূজা মণ্ডপের গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় ব্যানার ছেঁড়ার পাশাপাশি প্রতিমাকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে বলেও অভিযোগ করে পূজা কমিটি। এর প্রতিবাদে পূজা উদযাপন পরিষদ সাড়ে তিন ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে সন্ধ্যা থেকে প্রতিমা বির্সজন শুরু করে।

অর্ধদিবস হরতাল পালন
এদিকে পূজা মণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে শনিবার চট্টগ্রামে আধাবেলা হরতাল পালন করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার হরতাল ঘোষণা করেন ঐক্য পরিষদ নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। নগরীতে হরতালের তেমন কোন প্রভাব না থাকলেও হরতালের সমর্থনে মিছিল সমাবেশ করেন ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা।
হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে নগরীর আন্দরকিলল্গা মোড়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা সেখানে অবস্থান কর্মসুচি পালন করেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানানো হয়। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নেতারা বলেন, গুজব রটিয়ে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিমা ভাঙা হয়েছে। এতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
একই ইস্যুতে এদিন পৃথক বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করে পূজা উদযাপন পরিষদ। ফলে হরতাল ও বিক্ষোভ- এই দুই কর্মসুচি নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ সমকালকে বলেন, আমাদের নেতা রানা দাশগুপ্ত হরতালের যে কর্মসুচি দিয়েছিলেন আমরা তা পালন করেছি। ঐক্য পরিষদের সঙ্গে আরো কিছু সনাতন সংগঠন ও তাদের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের হিল্লোল সেন উজ্জল বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে হরতালের ঘোষণা দিয়ে পালন করেছেন তারা। আর আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।



Leave Your Comments


জাতীয় এর আরও খবর