img

মিয়ানমারে মেজরসহ ২৫ সেনাকে হত্যার দাবি জান্তাবিরোধীদের

প্রকাশিত :  ০৯:০৯, ৩০ অক্টোবর ২০২১

মিয়ানমারে মেজরসহ ২৫ সেনাকে হত্যার দাবি জান্তাবিরোধীদের

জনমত ডেস্ক: মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সামরিক শাসনবিরোধীদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির সাগাইং অঞ্চলে প্রতিরোধযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে মাত্র তিন দিনে সাগাইংয়ে ৮৫ সেনার প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলো। জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী কাওলিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (কেএলপেডিএফ) খবর প্রকাশকারী কওলিন রেভোল্যুশনের (কেআর) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতি।
এর আগে, গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) কাওলিনের কিয়ুনবিন্থা গ্রামে সংঘর্ষে প্রথমে ৪০ সেনা নিহত হওয়ার কথা জানায় কেআর। পরে আরও ২০ সেনার মৃত্যুর খবর দিয়েছিল তারা। বৃহস্পতিবার কাওলিনের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরো ২৫ জান্তা সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রুপটি। এতে তিন বেসামরিক প্রতিরোধযোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন।
কেআর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কেএলপিডিএফের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কয়েকজন সেনার মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করছেন। গ্রুপটি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মেজর ইয়ে হতুত ও’র আংশিক পুঁতে রাখা মরদেহও খুঁজে পাওয়া গেছে। জান্তা বাহিনী পালানোর সময় তাকে ওভাবে ফেলে রেখে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ছয়টি গাড়িতে করে জান্তা সেনারা কাওলিনে ঢুকেছিল বলে জানা যায়।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় এক বাসিন্দা ইরাবতিকে জানিয়েছে, কাওলিনের অনেক এলাকাই এখন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রণে। তারা বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়েছে।
সম্প্রতি জান্তা বাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধযোদ্ধাদের মধ্যে সহিংসতার অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে কাওলিন। গত জুলাইয়ে সেখানে কেএলপিডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৪ সেনা নিহত ও আরও ২০ জন আহত হন। এসময় মারা যান তিন প্রতিরোধযোদ্ধা।
কাওলিনের যোদ্ধারা এখন সরকারি বাহিনীর জোরালো প্রতিশোধমূলক অভিযান ঠেকাতে প্রস্তুত হচ্ছেন। শুক্রবার কেআর জানিয়েছে, জান্তা সেনাদের দুটি গ্রুপ কাওলিনের পূর্ব ও পশ্চিমে সশস্ত্র অভিযানের পরিকল্পনা করছিল। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ প্রতিবেশী কিউনহ্লা শহর দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার জান্তা বাহিনী কিউনহ্লা এলাকায় পিডিএফ’কে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। সেখানে অভিযানে যোগ দিতে প্রায় ১০০ সেনাকে হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ছায়া সরকার এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিআর কিউনহ্লার সীমান্তবর্তী তেজ শহরে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। তবে সাগাইং এলাকায় কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সাগাইংয়ের ইয়ে-উ এবং বুদালিন এলাকায় গুপ্ত হামলায় অন্তত ১৪ সেনা মারা গেছেন।
এনইউজি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ১২৭টি ঘটনায় অন্তত ২০০ জান্তা সেনা নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়েছেন।

img

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪১

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ১৩ মে ২০২৪

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একটি আগ্নেয়গিরির শীতল লাভা এবং আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও ১৭ জন। 

সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় দুর্যোগ সংস্থার এক কর্মকর্তা।

কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যার কারণে রাস্তা-ঘাঁট, বাড়ি-ঘর, মসজিদ প্লাবিত হয়েছে।

পশ্চিম সুমাত্রার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার কর্মকর্তা ইলহাম ওয়াহাব এএফপিকে বলেন, গত রাত পর্যন্ত আমরা ৩৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে আজ সকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এখনও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে আগাম জেলায় তিনজন এবং তানাহ দাতারে ১৪ জন। বন্যার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এই দুই এলাকায় কয়েক লাখ মানুষের বসবাস।

এখন পর্যন্ত কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি ইলহাম ওয়াহাব। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অনুসন্ধান, উদ্ধার, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং তল্লাশি অভিযানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

বন্যার কারণে রাস্তাঘাট যেন নদীতে পরিণত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় মসজিদ এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগ্নেয়গিরির শীতল লাভা লাহার নামেও পরিচিত। আগ্নেয়গিরির প্রধান উপাদান যেমন ছাই, বালি এবং নুড়ি পাথর বৃষ্টির কারণে আগ্নেয়গিরির ঢালে নেমে আসে। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলে বন্যা এবং ভূমিধসে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ভেসে গেছে।

বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসের প্রবণতা বেড়ে যায়। কিছু এলাকায় বন উজাড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালে সুমাত্রা দ্বীপে বন্যায় প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় দুই শিশুর মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।