প্রকাশিত :  ১৩:৪১, ১২ জানুয়ারী ২০২২

পিরিয়ড : সুস্থ থাকতে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

পিরিয়ড : সুস্থ থাকতে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

জনমত ডেস্ক: পিরিয়ড শব্দটাকে এখনও আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরা লজ্জাজনক শব্দ হিসেবেই জানে। আর এই জন্যই তারা অনেক সময় নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় এটা নিজেদের অসাবধানতা বা অজানার জন্যেও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিরিয়ডের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকা, বা অধিক সময় ধরে একটি প্যাড বা তুলার পট্টি ব্যবহার মেয়েদেরকে জরায়ুর ক্যান্সারের দিকে ধাবিত করছে। তাই এ সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
পিরিয়ড: এটা মেয়েদের খুব স্বাভাবিক একটি শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। প্রতি মাসে একবার হওয়ার কারণে গ্রামাঞ্চলে এটি ‘মাসিক’ নামেও পরিচিত। মাসিক সাধারণত ৩-৭ দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। এটা ১০-১৪ বছর বয়সের যে কোনো এক সময়ে শুরু হয়ে ৪৫-৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। পিরিয়ড নিয়মিত হয় বলেই মেয়েদের শরীরে কেমিক্যাল ব্যালান্স ও হরমোনের রেগুলেশন বজায় থাকে, মেয়েরা সুস্থ থাকে।
কীভাবে বুঝবেন পিরিয়ড হবে: পিরিয়ড হওয়ার যে সমস্ত পূর্ব লক্ষণ রয়েছে সেগুলো হতে পারে—

১। স্তন বড় হবে আর ইমোশন বেড়ে যাবে।
২। মুখে র‍্যাশ উঠতে পারে।
৩। পেটে গ্যাস হবে আর হঠাৎ ওজনও বেড়ে যেতে পারে।
৪। মন বিষন্ন আর মেজাজ খিটমিটে হয়ে যেতে পারে।
৫। খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে
৬। অনেক সময় কোনো কিছুই ভালো লাগে না।

পিরিয়ডের সময় কী কী হতে পারে: পিরিয়ডের সময় সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা দেয়—
১। কোমর, তলপেট, তলপেটের পেছনে ব্যাথা হতে পারে।
২। মন-মেজাজ খারাপ থাকতে পারে।
৩। মাথা ব্যাথা করতে পারে।
৪। দুর্বলতা ও ক্লান্তি ভাব থাকবে।
৫। অনেকে কান্নাকাটিও করতে পারে।
৬। পেট গ্যাস হতে পারে।
৭। স্তনে ব্যাথা হতে পারে।
৮। পিঠেও ব্যাথা হতে পারে

পিরিয়ডের সমস্যা: পিরিয়ডের সময় যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো —
১। অ্যানোরিয়া বা অনিয়মিত পিরিয়ড।
২। ডিস্মেনোরিয়া বা ব্যাথাযুক্ত পিরিয়ড।
৩। স্ট্রেস ও অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে পারে।

 কখন যেতে হবে ডাক্তারের কাছে: যে উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেগুলো হল—
১। ১৫ বছর বয়স হওয়ার পরেও পিরিয়ড না হলে
২। স্তন বড় হতে শুরু করার ৩ বছর পরেও পিরিয়ড না হলে।
৩। হঠাৎ করে পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পরে ৯০ দিনের মধ্যে শুরু না হলে।
৪। ব্লিডিং নিয়মিত থাকতে থাকতে অনিয়মিত হলে।
৫। ৭ দিনের বেশি ব্লিডিং থাকলে।
৬। ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে পিরিয়ড শুরু হলে
৭। প্রচুর রক্তপাত হলে, অর্থাৎ ১-২ ঘন্টা পর পর যদি প্যাড পরিবর্তন করতে হয় সেক্ষেত্রে।
৮। পিরিয়ডের সময় যদি অনেক ব্যাথা হয়।
৯। প্যাড ব্যবহার করার পর যদি খারাপ লাগে, জ্বালা হয়, জ্বর আসে।
১০। দুই পিরিয়ডের মাঝে ব্লিডিং হলে।

 কখন প্যাড পরিবর্তন করতে হবে: প্যাড পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সে নিয়মগুলো মানা প্রয়োজন সেগুলো হলো—
১। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করলে, প্যাকেটের সময় মেনে পরিবর্তন করতে হবে
২। ৪-৮ ঘন্টা পর পর প্যাড পরিবর্তন করতে হবে।
৩। প্যাডের জায়গা মাঝে মাঝে পরিবর্তন করতে হবে।
৪।পিরিয়ড ছাড়া প্যাড ব্যবহার না করা।
৫। প্যাড বা তুলার পট্টি ব্যাবহারের ফলে ডায়রিয়া, জ্বর, বমিভাব, র‍্যাশ এসব হলে অতি শীঘ্রই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
৬। বেশি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্যাড ব্যবহার না করা, কারণ এতে সিন্থেটিক উপাদান বেশি থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

শারীরিক সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে: পিরিয়ডের সময় শারীরিক সম্পর্ক না করাই ভালো, কারণ এই সময় জরায়ু নিচে নেমে আসে, এতে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। সর্বোপরি এই সময়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।




Leave Your Comments


লাইফ স্টাইল এর আরও খবর