প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ১৩ জানুয়ারী ২০২২

সংক্রমণ ঠেকাতে ১১ দফা বিধিনিষেধ শুরু

 সংক্রমণ ঠেকাতে ১১ দফা বিধিনিষেধ শুরু

জনমত ডেস্ক: দেশে করোনার সংক্রমণ ও ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে সরকার আরোপিত ১১ দফা বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি)। তবে, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা শুরু হবে শনিবার (১৫ জানুয়ারি)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাবে।
এর আগে সোমবার (১০ জানুয়ারি) ১১ দফা বিধিনিষেধের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, বিধিনিষেধ যথেষ্ট ভালো। প্রত্যেকটাই যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে প্রত্যেকটা একেক হারে সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করবে। এই ১১ দফা বিধিনিষেধ সম্মিলিতভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব বিধিনিষেধ সবাইকে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে এই কারণে যে, যখন সংক্রমণ বেড়ে যাবে, হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে যাবে, তখন সরকারি সার্বিক বিধিনিষেধে যেতে বাধ্য হবে। তখন গণপরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, অফিস-আদালত সব বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আংশিক বিধিনিষেধ কার্যকর করে দীর্ঘদিন আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে।
বিধিনিষেধ চলাকালে দেশের আন্তঃনগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে পুরনো ভাড়ায় গণপরিবহন পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে ভাড়া বৃদ্ধি না করলেও মালিকপক্ষ যতো আসন ততো যাত্রী পরিবহনের অনুমতি চেয়েছে। আগামী শনিবার থেকে এ দু’টি সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

১১ দফা বিধিনিষেধগুলো হলো-

১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেঁস্তোরাসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৩. রেঁস্তোরায় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকা সনদ প্রদর্শন করতে।

৪. ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহে ক্রু-দের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সাথে শুধুমাত্র ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শণার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের গাড়িচালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।

৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোডিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।

১০. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

১১. কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সব সিনিয়র সচিব/সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং বিভাগীয় কমিশনারদের উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




Leave Your Comments


জাতীয় এর আরও খবর