প্রকাশিত :  ০৬:৪৯, ০৮ মে ২০২২
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০২, ০৮ মে ২০২২

৬৪ বাংলাদেশি ইন্টারপোলের রেড নোটিশে

৬৪ বাংলাদেশি ইন্টারপোলের রেড নোটিশে

রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি বিদেশে পলাতক হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত জিসান, ফ্রিডম মানিক, বিকাশ ও মোল্লা মাসুদ এবং মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার নবী হোসেন ও আর্মি আলমগীরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। তাঁদের অবস্থানের বিষয়ে ইন্টারপোলের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়ার প্রসঙ্গও আসছে আলোচনায়।

এভাবে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত অনেকে দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে থাকলেও দেশীয় সহযোগীদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেই বিদেশে অবস্থানরত অপরাধজগতের এসব শীর্ষ ব্যক্তির নাম বারবার আলোচনায় আসে।

 বিদেশে বসে অপরাধ চালিয়ে যাওয়া এসব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে আসছে পুলিশ। সদস্য-রাষ্ট্র থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর ইন্টারপোল এসব ব্যক্তির নামে জারি করে রেড নোটিশ। বর্তমানে বাংলাদেশের এ ধরনের ৬৪ ব্যক্তিসহ ১৯৫টি সদস্য দেশের ৭ হাজার ২৮২ জনের নাম ঝুলছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বোর্ডে।

অপরাধে করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম ইন্টারপোলে পাঠানো ও তদারকির দায়িত্ব ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-র। 

এ শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন এমন ৬৪ ব্যক্তির নাম ও অপরাধের বিস্তারিত তথ্য ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়েছে রেড নোটিশ জারির জন্য। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, হত্যা, মাদক ও মানব পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা, বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক অস্ত্র মজুত, টাকা ও স্ট্যাম্প জাল করা, পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা, আওয়ামী লীগের সভায় বোমা হামলা, যুদ্ধাপরাধ, ধর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িত ব্যক্তির নাম রয়েছে। এই ৬৪ ব্যক্তির মধ্যে বর্তমানে ইন্টারপোলের রেড নোটিশে ঝুলছে ৬৩ জনের নামে।

১৯৭৬ সালে ইন্টারপোলের সঙ্গে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ। সবচেয়ে পুরোনো রেড নোটিশের তথ্য জানা না গেলেও রেড নোটিশ জারির সর্বশেষ অনুরোধ গেছে ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালাদার)-এর নামে।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট খুঁজে দেখা গেছে, রেড নোটিশে নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সবার নাম থাকলেও অনেকের ছবি নেই। কে কোন জেলার ঠিকানায় তার উল্লেখ নেই। এমনকি কারও কারও পুরো নামও নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিবির সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম বলেন, মূলত তদন্তকারী সংস্থাগুলো যেভাবে তথ্য দেয় সেই তথ্যগুলোই ইন্টারপোলে পাঠানো হয়। যেসব ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি আছে, সেসব ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা হয়তো ছবি কিংবা সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে পারেননি।

বিদেশে বসে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের নাম আসায় তাঁদের গ্রেপ্তারের প্রশ্ন উঠলেও শাহজাহানপুরে জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম কোনো বাহিনীর পক্ষ থেকে এনসিবি শাখায় এখনো পাঠানো হয়নি। এ বিষয়ে এনসিবির করার কিছু নেই জানিয়ে মহিউল ইসলাম বলেন, ইন্টারপোলের সঙ্গে কাজ করলেও দেশের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া কোনো অপরাধে নাম আসলে সে বিষয়টি সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্যরত সদস্যদের দেখার বিষয়।

রেড নোটিশে নাম থাকায় সর্বশেষ ২০২১ সালে ইতালির পুলিশ কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবালকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। তিনি লিবিয়ার মিজদাহ শহরে মানব পাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি।

ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নূর চৌধুরী, শরীফুল হক ডালিম, খন্দকার আবদুর রশিদ, এমএ রাশেদ চৌধুরী ও খান মোসলে উদ্দিন ওরফে খান মোসলেম উদ্দিনকে দেশে ফেরাতে তৎপর রয়েছে। তাঁদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় ও রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। অন্যদের অবস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।




Leave Your Comments


জাতীয় এর আরও খবর